ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

খেয়ে নিচ্ছে। কিন্তু কি আর করা। বিকল্প তো নেই কিছুই। “হাত পা যার বাঁধা তার পড়ে পড়ে মার খাওয়া ছাড়া আর কি উপায় আছে গোলাম হোসেন?”
শনিবার বেশ সকালেই নাস্তা শেষ করে সবাই চলে এলাম আল শামসন মসজিদে। একদম পাকা রাস্তার সঙ্গে লাগানো এবং অনেক উঁচু মিনার। পশ্চিম দিকে পাহাড়ের খাড়া ঢাল অতল গহ্বরে নেমে গেছে। মসজিদের মিম্বারের চারদিকে সুন্দর “কলির” কাজ করা। চারদিকের দেওয়ালেই কোরআনের আয়াত সুন্দর করে বিশেষ পদ্ধতিতে কেটে বসানো। মধ্যে দুইটা পিলারের মাথা উল্টা ছাতার মতো করে বানানো। তাতে নক্সা করে আল্লাহর নাম সমূহ লেখা হয়েছে। রুচিশীল কাজ, দেখতে ভাল লাগছে। মসজিদের পশ্চিমের দরজা খুলে মিষ্টি ও ঠান্ডা বাতাস গায়ে মেখে এবং অনন্ত অফুরন্ত মায়াবী পাহাড় এর বিচিত্র রূপ দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেল। বিরাট বড় দীঘির পানি ছেঁচে শুকিয়ে ফেললে যেমন চেহারা দেখা যায় এখানের পাহাড়ের নিচের অবস্থা তেমনি। অনেক গভীরে তলা বেশ সমান এবং গাছ পালাগুলো উচ্চতায় তিন/চার ফুট বলে মনে হচ্ছে। দুম্বাগুলোকে এক দেড় ইঞ্চি ও সাদা সাদা উইপোকার মতো দেখা যাচ্ছে। আসলে এ যেন একই জিনিষকে ডাইনে বামে সামনে পেছনে উপরে নিচে বিভিন্ন ভাবে দেখা। পাহাড়ী কন্যাকে ভালবেসে হয়ত সমস্ত পাহাড় রাজ্যই আমার প্রিয় হয়ে গেছে। এটা বোধ হয় তারই জের। বসতি হয়নি বা হওয়া সম্ভব নয় এ রকম পাহাড় এবং জোরা চাষের জন্য থরে থরে সাজানো গ্যালারী বিছানো পাহাড়ের ঢাল ছাড়া কোন পাহাড় চোখে পড়ে না। এখন যদিও রিক্ত ধূসরতা একটা করুন বিষাদ মলিনতার আভরণে পাহাড়মালাকে ঢেকে রেখেছে, কিন্তু জুনের শেষ থেকেই এই ধূসর বিরহের বসন দূরে ছুড়ে ফেলে সবুজ সতেজ সজিবতার গাঢ় পোষাকে সে হয়ে উঠবে নবীনা কিশোরী, হৃদয় মেলে দেওয়া আমন্ত্রণের সবুজ সংকেত ছড়িয়ে দেবে দিক থেকে দিগন্তে, মেঘ বাতাসের শ্যামল কন্যার হাসি হুল্লোরের সঙ্গে সেও নেচে উঠবে ভালবাসার স্নিগ্ধ শ্যামল রঙে, ভরা বসন্তে মেলে দেবে তার যৌবনের প্রতিটি পাপড়ীর আমন্ত্রণ। কোড়ক ভাঙ্গা দলে ফুটে উঠবে যৌবনের প্রাণমাতানো উচ্ছলতা।

আল গারেজ ও মুরওয়ার মসজিদ পার হয়ে আমরা শামসন মসজিদে এসেছি। এটা হুদাইদা মার্কাজের পরে আমাদের ছাব্বিশতম মসজিদ। কাছেই বড় মাদ্রাসা। দুই জন সাথী গেছেন দাওয়াতের জন্য মাদ্রাসায় আর আমরা কিতাবী তালিম করছি। হঠাৎ একটা পুলিশ ভ্যান মসজিদের কাছে এসে থামল। উর্দি পড়া কলাশোনিকভ অর্থাৎ এ. কে-৪৭ নিয়ে কয়েকজন পুলিশ লাফ দিয়ে গাড়ী থেকে নামল। সামনের সিট থেকে একজন অফিসার নামলেন। হালকা পাতলা গড়ন, আনুমানিক বয়স পঞ্চাশ/পঞ্চান্ন বৎসর। অফিসারসহ সবাই মসজিদের দিকে হেঁটে এসে সরাসরি পায়ের বুট খুলে মসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস

« <
/ 114
> »