ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

অথবা অন্য কোন সাধারণ কাজে লাগে। কিন্তু যে আমগুলি বোঁটা আঁকড়ে ধরে থাকে এবং যে কোন ভাবেই হোক গাছের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকে সেগুলিই পাকে এবং খাওয়ার যোগ্য হয়ে প্রকৃত সাফল্য লাভ করে।
রাত্রে সিদ্ধান্ত হল, এই মুরওয়া তাইফ মসজিদে একদিন বেশি থাকা হবে এবং পরবর্তী মসজিদ আল শামসন এ শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবারে যাওয়া হবে। প্রথমত এতে যাওয়া আসার সময় সাশ্রয় হবে এবং সাথীদের আমলেরও সুবিধা হবে। দ্বিতীয়তঃ এখানে আশেপাশের সকল মানুষের জন্য শুক্রবারে সাপ্তাহিক বড় বাজার বসে। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র অর্থাৎ কাঁচা বাজার এখান থেকে করে নেওয়া হবে। সুতরাং মাশোয়ারা শেষ করে তিনজন বাজারে গেলাম। দুইটা ছোট গরুর বাছুর ও দুইটা দুম্বা জবাই হয়েছে। ছোট ছোট দুম্বা/ছাগলের বাচ্চা এবং গরুর বাছুর বিক্রয়ের জন্য বাজারে উঠেছে। গাড়ীতে করে আনা সব ধরনের সব্জি, রশুন, পিয়াজ ও মুলার পাতা খুব বিক্রী হচ্ছে। এদেশের মানুষ কাজকে কেউ ছোট মনে করে না। হাই মাদ্রাসা পড়া কিছু ছেলেও দেখলাম জুতা সেলাই করছে রাস্তার ধারে বসে, বেশ সহজ ও সাবলীলভাবেই। রাস্তায় উপরের এই অস্থায়ী বাজারের কেনাবেচা শেষ হলেই অবশিষ্ট মালামাল নিয়ে পিকআপ ফিরতি পথ ধরে। পরিবারের সদস্যরাই এই সব পিকআপে দোকানের মাল বেচাকেনা করে।
আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের একটা ধারণা এ রকম যে, আমরাই বোধ হয় সবচেয়ে খারাপ বা দুর্নীতি পরায়ন। এটা যে কত বড় ভুল এটা বিদেশে না আসলে এবং তুলনা করার সুযোগ না পেলে বোঝা সম্ভব নয়। আমাদের রিটার্ন টিকেট করা ছিল, চার মাসের মেয়াদ চেয়েছিলাম, কিন্তু সরকারের সঙ্গে কোম্পানীর নিজস্ব চুক্তির মেয়াদ ঐ সময় পর্যন্ত না থাকার কারণে তা সম্ভব ছিলনা। তারা পঁচিশে মার্চ পর্যন্ত টিকেট এর মেয়াদ দিয়েছিল। একগাদা টাকা দিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সুতরাং টিকেটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যেয়ে জানা গেল যে, অতিরিক্ত পঞ্চাশ ডলার করে দিতে হবে। টিকেট কেনার সময় আমাদেরকে কোম্পানীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, পরবর্তী সময়ে মেয়াদ বাড়াতে সর্বোচ্চ ৫০/- (পঞ্চাশ) রিয়াল লাগবে তাও যখন টুরিস্টিদের ভির থাকবে। এমন কি অফ সিজনে প্লেনের ভাড়াও কম হবে। এখন টুরিস্ট সিজন শেষ। তাদের কথামতো ভাড়া কম হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটল সম্পূর্ণ উল্টা। যা হোক অনেক দর দপ্তর করে ৫০/- (পঞ্চাশ) ডলার এর স্থলে ৩০/- (ত্রিশ) ডলারে তারা নেমে এল। তারিখ ঐ চৌদ্দই এপ্রিল। তবে বহিঃগমনের সময় বিমান বন্দরে আবারও ৩,০০০/- (তিন হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল দিতে হবে। আর যদি দুই/চার দিন থাকতে চাই তবে আবারও ৩,০০০/-(তিন হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল দিতে হবে। এ যে দেখি লাভের গুড় পিপড়ে

« <
/ 114
> »