সখের নূতন ফুলের বাগানে ফুল গাছ লাগিয়ে মানুষ যেমন প্রত্যেক দিন দেখে, গাছে ফুলের কলি এলো কিনা, কিংবা কলিটা কবে ফুটবে, গাছের কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা ইত্যাদি। প্রথম যেদিন ফুল ফোটে, সেদিন তার আনন্দ দেখে কে! বাড়ী শুদ্ধ সবাইকে ডেকে ডেকে ফুল দেখায়। এ এক অদ্ভুৎ, অপূর্ব, অনাস্বাদিত পুলক শিহরণ, যা শুধু অনুভবের, প্রকাশ করার মতো নয়। ভাবখানা এমন যেন এই ফুল ফোটানোর পুরা কৃতিত্বের সে একাই দাবীদার। আমাদের অবস্থাও অনেকটা সেই রকমই। বেলা ১১:০০ টার দিকে নূতন সাথীরা মসজিদে এসে পৌঁছালেন। অবাক বিস্ময়ে দেখি, দায়ারে মদিনার পাহাড়ী কন্যার দেশের মসজিদ আল মাসাব এর যে সব সাথী ফসল কাটা শেষ হলে সময় লাগাতে চেয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে ছয় জন সাথী এসেছেন আমাদের সঙ্গে তিন দিন সময় লাগাতে। একি স্বপ্ন না সত্যি! পুলক শিহরণে হৃদয় নেচে উঠল। তালিম রেখে সবাই সবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। ওরাও খুব খুশি। এ যেন বিরহের সমুদ্র পার হয়ে মিলনের মোহনায় আনন্দের অবগাহন।
বিকেলের গাস্ত, সন্ধ্যার বয়ান এবং এশা বাদ কেতাব শেষে মোজাকারায় বসলাম সবাই। নূতন সাথীদের এই মেহনতের প্রকৃত শেকেল ও গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করা হল। আল্লাহপাক প্রত্যেক নবীকে দুইটা বিশেষ গুণ দিয়েছিলেন। (১) দাওয়াত এবং (২) দোওয়া। সুতরাং প্রত্যেক দায়ীর নিজের মধ্যে এই দুইটা গুণ তৈরি করে নিতে হবে। হুজুর (স.) মানুষের জমিনে সারাদিন দাওয়াত দিতেন এবং সারারাত দোওয়ায় মশগুল থাকতেন। প্রত্যেক নবীই একইভাবে দাওয়াতের কাজ করেছেন। একশভাগ কাজের মধ্যে দশভাগ দাওয়াত এবং নব্বইভাগ দোওয়ার মাধ্যমেই হাসিল হয়ে থাকে। দোওয়ার মাধ্যমে দায়ী যত বেশি আল্লাহর রেজামন্দি হাসিল করতে পারবেন তিনি ততবেশী দায়ী হিসাবে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
আসলে দ্বীনের কাজের জন্য চারটা জিনিষ খুব জরুরী, (১) নিয়ত করা, (২) নিয়তকে সহি অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা, (৩) ফিকির করা অর্থাৎ কিভাবে কাজ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, কিভাবে দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় সে বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা এবং (৪) দোওয়া করা অর্থাৎ মাখলুক কিছুই করতে পারেনা আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া এই বিশ্বাস দিলের মধ্যে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে খালেক আল্লাহর নিকট মাখলুকের হিদায়াতের জন্য প্রার্থনা করা। নতুন সাথীদের এসব কথাগুলো বোঝানোর চেষ্টা করা হল এবং তারা যেন আমাদের সন্তুষ্টির জন্য মেহনত করে আল্লাহকে রাজী খুশি করার উদ্দেশ্যেই দাওয়াতের মেহনতে নিজেদেরকে সঁপে দেন সে জন্য বলা হল। তাদেরকে বলা হল, প্রথম অবস্থায় হয়ত এ কাজের বুঝ দিলে আসবেনা। কিন্তু লেগে থাকলেই সফলতা আসবে। ঝড়ে যে আম বৃত্তচ্যুত হয়ে পড়ে যায় তা পায়ের নিচে পিষ্ট হয়
