ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

এরা মানুষকে বিপথগামী করে থাকে। এমন কিছু মানুষ আমাদের দেশেও আছে যারা পীরের কবর পুজা করে ঝাড় দেয় এবং নানা রকম বেদাতী কায়কারবার করে টুপাইস রোজগার করার ধান্দায় থাকে। এদের সংখ্যা খুবই কম। তিনি নিজেও স্বীকার করলেন যে এ ধরনের লোক ইয়েমেনেও আছে এবং মূলতঃ তারাই এ ধরনের অপপ্রচারে সক্রিয়।
সূর্য যখন মাথার উপরে উঠে তখন তার তাপ থেকে বাঁচতে হলে কোন গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে হয়। সূর্য যেমন স্থির থাকেনা তার কারণে গাছের ছায়ারও তেমনি স্থান বদলে যায়। সুতরাং যারা সূর্যের তাপের কারণে গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছে তাদেরকেও গাছের ছায়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থান বদল করতে হয়। একইভাবে দ্বীনের গাছের ছায়ায় যারা অবস্থান নিয়েছে শয়তানের প্ররোচনার তাপ থেকে বাঁচার জন্য তাদেরকেও দায়ী সিফাতের সঙ্গে দ্বীনের ছায়ায় অবস্থান করতে হবে। শয়তানের নূতন কৌশলকে দ্বীনের সাহায্যে উপযুক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে। যুগে যুগে এ ভাবেই মিথ্যা অপসারিত হয়েছে এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হযরত ইলিয়াস (রহ.) আমাদের জন্য যে আন্দোলনের পথ খুলেছেন এটা নূতন কোন আমদানি বা আবিষ্কার নয়। বরং হুজুর পাক (স.) এবং তাঁর প্রিয় সাহাবীরা সারা জীবন যে দ্বীনের প্রতিষ্ঠায় এবং অগ্রযাত্রার জন্য নিজেদের জান, মাল ও সময় দিয়েছেন, নিজেদের সব কিছু অবলীলায় ও অবহেলায় ত্যাগ করে দ্বীনকে আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, উপযুক্ত সাথী ও মেহনতের অভাবে সেই দাওয়াতে তবলীগের কাজ মধ্যে কিছুদিন ছাই চাপা পড়ে ছিল। হযরতজী সেই ছাইচাপা আগুনকে ফু দিয়ে আবার জ্বলিয়ে দিয়েছেন মাত্র। হুজুর (স.) এর এবং সাহাবীদের আমল ও আখলাকওয়ালা এই দাওয়াতের মেহনত যতদিন তাজা থাকবে আল্লাহর দীনও ততদিন তাজা ও জীবন্ত থাকবে। এ বিষয়ে ভুল বুঝার কোন অবকাশ নাই। দীর্ঘ আলোচনা শেষ হলো, উপস্থিত সাথীরা একে একে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলেন। আমরাও মাশোয়ারায় বসলাম। আগামীকাল আমাদের প্লেনের টিকেটের সময় বাড়ানোর জন্য আমীর সাহবেকে হুদাইদা যেতে হবে। আমাদের অনেক অতিরিক্ত সামানা ওখানে রেখে আসা হয়েছে। নূতন করে আর কি কি জিনিষ ওখান থেকে আনতে হবে এসব নিয়ে পরামর্শ হচ্ছে। হঠাৎ ভাই আব্দুল্লাহ আলী এসে খবর দিলেন যে, অন্য এলাকার কয়েকজন নূতন সাথী আমাদের সঙ্গে তিনদিন সময় লাগাতে আগামীকাল আসতে চান। আমীর সাহেব থাকবেন না, তার উপর আরবী ভাষায় কথোপকথনে আমাদের প্রচন্ড দুর্বলতা। নূতন মেহমানদের নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তবু মাশোয়ারা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তাদের আসতেই বলা হবে। ফয়সালা আল্লাহর হাতে। ব্যবস্থা হবেই ইনশাআল্লাহ।

« <
/ 114
> »