ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

থেকে তাকে দেখতে পায় তেমনি নিচে এসে ছায়া পায় এবং ফল খেয়ে আনন্দ পায়। দ্বীনের দায়ী এবং সাধারণ মানুষ এর তুলনা এ রকম। মানুষ টবে বন্দি অবস্থায় নিজের বৃত্তের মধ্যে আটকে থেকে তার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেনা এবং তার নিজের যোগ্যতাও অবদমিত হয়ে থাকে। এই মানুষকেই যখন তবলীগের প্রশস্ত জমিনে লাগানো হয় তখন সে হয়ে উঠে পূর্ণ বিকশিত এবং লোকজনও তার নিকট থেকে উপকৃত হতে থাকে অনেক বেশি।
দ্বিতীয় দিন স্থানীয় মাদ্রাসায় গেলাম। মসজিদের ইমাম সাহেব নিজেই এই মাদ্রাসার প্রধান। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হল অনেকক্ষণ। ছাত্ররাও কিছু প্রশ্ন করল। সবচেয়ে মজার প্রশ্ন এল এশার নামাযের অনেক পরে। কেতাবী আমল শেষে অনেকেই বসে কথা বলছেন, হঠাৎ ইমাম সাহেব হাত ইশারায় কাছে ডাকলেন। প্রশ্ন করলেন, কবর কে তোমরা কেমন মনে কর? স্বাভাবিক মানুষ কবরকে যে ভাবে বিচার করে প্রশ্নটা সে রকমের নয়। সন্দেহ হল, জামাতের আমিরকে ডাকলাম। আটি ভাঙ্গতে শাঁস বেড়িয়ে এল। এদেশে একদল বেদাতি লোক আছে, তারা তবলীগ বিরোধী। তারা প্রচার করেছে যে, তবলীগের লোকেরা কবর পূজা করে। এমনকি তারা হযরত ইলিয়াস (রহ.) এর কবর তওয়াফ করে। বাড়ীর কাছে কাবা শরীফের তওয়াফ ছেড়ে এবং হুজুর (স.) এর মদীনা শরীফ জিয়ারত বাদ দিয়ে কেন তারা তবলীগের নামে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে কবর পূজা করতে যাবে? এমন প্রশ্ন যে হতে পারে চিন্তায় আসেনি। কিছুক্ষণ আগে তিনি শুধু জামাতের জন্য নামই লেখাননি, বাংলাদেশেও যাবেন বলে কথা দিয়েছেন, এখন তার মুখে এই প্রশ্ন? পরে জানলাম এমন প্রশ্ন প্রায়ই ভাই আব্দুল্লাহ আলীকেও শুনতে হয়। আমাদের ছোট উত্তর: হযরত ইলিয়াস (রহ.) এর জন্ম হয়েছিল বেদাত প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয় বরং বেদাতকে উৎখাত করতে। সুতরাং এ সম্পর্কে যা প্রচার করা হয় তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং খারাপ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বরং আসল কথা হল, তবলীগ সব ধরণের বেদাত বিরোধী এবং সমাজ জীবন থেকে বেদআতকে সমূলে উৎখাত করতে সচেষ্ট। তাছাড়া হযরত ইলিয়াস (রহ.) তো দূরের কথা, তার ছেলে মওলানা ইউসুফ (রহ.) এবং তৃতীয় হযরতজী এনামুল হাসান (রহ.) এর কবর যে কোথায় আছে এটাও কেউ বলতে পারবে না। তাদের কবর এমনভাবে সংগোপনে রাখা আছে যা অতীব গোপনীয় এবং সহজে কেউ সেটা খুঁজেও পাবেনা। হাসতে হাসতে তাকে বলা হল, আপনি নিজেও দুই বছরের মধ্যে ঐ দেশে চিল্লায় যেতে চেয়েছেন। নিজের চোখে দেখে আসবেন যে, আমাদের কথা সত্য না মিথ্যা। আপনি বড় আলেম। সুতরাং আপনার চোখতো মিথ্যা বলবে না!
তবে এ কথাও সত্য যে, সব দেশেই এবং সব ধর্মেই কিছু বাতেল পন্থি লোক থাকে যারা বেদাতের জন্ম দেয় ও লালন করে। শয়তানের সহযোগিতায়

« <
/ 114
> »