হয়ে গেলে বিদেশ সফরের পূর্বশর্ত হিসাবে দেশে যে প্রথম পনর দিন সময় লাগাতে হয় আমরা সে সময় লাগাতে থাকব এবং এর মধ্যে ভিসার জন্য দরখাস্ত করাসহ তাড়াতাড়ি ভিসা পাওয়ার প্রয়োজনীয় চেষ্টা তদবির করব।
সিদ্ধান্ত তো নিয়ে নিলাম কিন্তু টাকার কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত হয়নি। প্রথম দিন থেকেই গভীর রাতে আল্লার কাছে সাহায্য চাইতাম আর সারাদিন কি হয়েছে বা কতদূর হয়েছে সেটা জানাতাম। সময় মাত্র দশ/এগার দিন। ছেলে মেয়েরা সবাই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। তাদের একত্র করে মাশয়ারা করা সম্ভব হলো না জন্য মোবাইলে মতামত নিলাম। সবাই সফরের পক্ষে ছিল জন্য পক্ষেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হল।
আল্লাহ মেহেরবাণী করে টাকার ব্যবস্থা তার গায়েবী খাজানা থেকে করে দিলেন। এখন শুধু যাত্রা শুরুর পালা। কিন্তু না- এত সহজে সব হলনা। টেবুনিয়ার মনির ভাই যিনি গ্রামের লোককে এই সফরের পূর্বে মোষ জবাই করে খাইয়েছেন- তার টাকা নাই। ছেলে যেতে দেবে না। নয়নামতির সাইফুল ভাইও বিদেশ থেকে ছেলের টাকা আসলে যাবেন- টাকা আসেনি। এ দুজন এখন পিছু টানলেন। নূতন করে উনাদের তাসকিল করা হল। যা হোক শেষ পর্যন্ত ২১/১২/০৮ আমরা কাকরাইল চলে এলাম। নাম লিখালাম। পরের দিন সকালে সোয়াদ হয়ে গেল- প্রাথমিক হিসাবে ২,৪০,০০০ (দুই লাখ চল্লিশ হাজার) টাকা জমা দিতে বললেন মুরুব্বীরা।
জমার টাকা তুলতে যেয়ে দেখি, আমি, মওলানা মিজান ও টেবুনিয়ার হাজী মিজান ভাই পুরো টাকার ব্যবস্থা করে এসেছি। বাঁকীরা এক বৎসর ধরে ঘুরে নিরাশ হয়ে গেছেন তাই পুরো টাকাতো দূরের কথা জমা দেওয়ার পরিমাণ টাকাও সঙ্গে আনেননি। যা হোক সবার টাকা একত্র করে সব মিলিয়ে ২,১৫,০০০ (দুই লাখ পনর হাজার) টাকা জমা দিলাম এবং বাঁকীটা পরে দেব বলায় মুরুব্বীরা আর আপত্তি করলেন না। গোপনে বলে রাখি, হাজী সফিউল ইসলাম রঞ্জ ভাই তার বিবিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন সিলেটে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবেন বলে। হাজী মনির ভাই ছেলেকে বলে এসেছেন দুই/এক দিনের মধ্যেই ফিরে এসে বাড়ী বানানোর কাজ শুরু করবেন। আবার মাশোয়ারায় বসলাম। সিদ্ধান্ত হল রঞ্জু হাজী সাহেব সিলেট থেকে ঘুরে আসবেন এবং এখান থেকেই বাঁকী টাকার ব্যবস্থা করবেন। মনির ভাই দুই/তিন দিনের জন্য বাড়ী যেয়ে টাকার ব্যবস্থা করবেন। সাইফুল ভাইও ঢাকা থেকেই প্রায় সব টাকার ব্যবস্থা করলেন-অবশিষ্ট টাকার জোগার করা ও চোখের জন্য ডাক্তার এই দুটো কাজের জন্য তাকে একদিনের জন্য পাবনায় যাবার সুযোগ মঞ্জুর করা হল। আমরা সময় লাগাতে থাকব এবং এর মধ্যেই যার যা দরকার তার ব্যবস্থা করে নেব। মওলানা মিজান গোপনে অনেক টাকা জোগাড় করে রাখলেন যেন কারো টাকা কম পড়লে তাকে ধার দিতে পারেন। এটা অবশ্য খুবই ভাল সিদ্ধান্ত। আল্লাহ যে কখন কাকে দিয়ে কি করেন তা বোঝা কঠিন। ফলে জামাত পুরাপুরি সবদিক দিয়েই তৈরি হয়ে গেল।
