ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

অপর একজন না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন দুই জন জুড়লেও একজন অনেক দেরী হওয়ায় অন্য এক দলের সঙ্গে সফরে চলে গেছেন। সাথী কমপক্ষে ছয় জন প্রয়োজন অথচ আর কাউকে না পেয়ে এবং ইংরেজী জানা তেমন কেউ না থাকায় তারা নিরাশ হয়ে গেছেন। হঠাৎ করে তিনি আমাকে বললেন, স্যার আপনি যদি যেতেন তবে দুইটা অভাবই পূরণ হত এবং আমরা আবার নূতন করে চেষ্টা করতাম। ঘটনাটা ডিসেম্বর ‘০৮-এর প্রথম সপ্তাহের তিন তারিখের। হাঁ না কিছুই না বলে হেসে বাড়ীতে চলে এলাম। কিন্তু বিষয়টি মাথা থেকে দূর হলনা। বরঞ্চ ব্যাথার খোঁচা দিতে লাগল। নিজের অপছন্দ বাদ দিলেও বর্তমান অবস্থা কোনভাবেই হাঁ বলার পক্ষে নাই। তবু একটা কিন্তু কিন্তু ভাব মনের মধ্যে কাজ করতেই থাকল। এদিকে যেতে চাইলে সফরের জন্য আমার নিজেরও পাসপোর্ট করতে হবে। অর্ডিনারী করাতে হলেও দুই হাজার পাঁচশত টাকা ফিস লাগবে- সময় প্রয়োজন কমপক্ষে এক মাস। নিজস্ব তবলীগের গোপন তহবিলে হাত দিয়ে দেখি দুই হাজার পাঁচশত টাকাই আছে। আল্লাহর উপর ভরসা করে পরের দিন পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত করব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।

পাসপোর্টের ফরম পূরণ করে অফিসে জমা দেব, ক্লার্ক ভদ্রলোক বললেন, স্যার আপনি তো আপনার চাকুরী সংক্রান্ত যে কোন একটা ডকুমেন্টের ফটোকপি ফরম এর সঙ্গে জমা দিলে আর্জেন্ট এর সুবিধা পাবেন। সুতরাং কাগজসহ কালকে জমা দেন। এ যে মেঘ না চাইতেই পানি। তার পরামর্শ মতো পরের দিন পেনসন সংক্রান্ত কাগজের একটা ফটোকপিসহ দরখাস্ত জমা দিয়ে ভেতরে গেলাম কবে আসব জানতে। ছেলেটি চিনে ফেলল। বলল, স্যার তিন দিন পর বিকাল চারটায় আপনার পাসপোর্ট আমি নিজে আপনার হাতে দিয়ে আসব ইনশাআল্লাহ। অদ্ভুৎ ব্যাপার। এসব কিসের আলামত! সব কিছু এ রকম দ্রুত একের পর এক হয়ে যাচ্ছে কেন?

পরের দিন মওলানা মিজানের সঙ্গে দেখা। শুনলাম ভাঙ্গুরার সেই মওলানা কাল আসবেন পাসপোর্ট করতে, শুনে ভাল লাগল। দুইজন মওলানা জামাতে থাকলে কাজের খুব সুবিধা হবে। আমি দরখাস্ত করেছি শুনে খুবই আনন্দিত হয়ে পড়লেন। বললেন, আপনি যদি যান তবে আর কেও যাক বা না যাক আমরাই চলে যাব। দেখি বলে হাত এড়ালাম। কিন্তু মনকে তো এড়াতে পারলাম না। আমার পাসপোর্ট সময় মতই পেলাম কিন্তু ভাঙ্গুরার মওলানা এলেন না। তার বদলে তিনি যাবেন না বলে জানিয়ে দিলেন। ততদিনে সাথীদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সবাই মারকাজ-এ একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যত বাধাই আসুক ২০/১২/০৮ আমরা ইনশাআল্লাহ কাকরাইল মারকাজ চলে যাবই। আমাদের দলের মধ্যে আমার ও আটঘরিয়ার হাজী মিজান ভাইয়ের সোয়াদ হয়নি। সিদ্ধান্ত হল, আমরা একেবারে সফরের সব প্রস্তুতি নিয়েই যাব। সোয়াদ

« <
/ 114
> »