শুরুর কথা
বিরান মরু এলাকা, চারিদিকে ধু ধু প্রান্তর। ছোট ছোট ঢিবি এবং আগাছা আর মাঝে মধ্যে মস্তবড় ছাতার মতো এক ধরনের কাঁটা গাছ (এদেশের বাবলা স্থানীয় নাম সিডর)। একসঙ্গে মেলে রাখা হাজার হাজার সবুজ ছাতার মতো দেখতে। আরও একটু সামনে এগুলেই অসীম পাথার- নীল সমুদ্র। এর মাঝে নীল রং এর পর্দা ঘেরা বিরাট এলাকায় এজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। বিকালের বয়ান দিয়ে এজতেমা শুরু হবে জন্য সকাল বেলায়ই আমরা হুদায়দা মার্কাজ থেকে এজতেমা মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম। মারকাজ থেকে এজতেমার মাঠের দূরত্ব পচিশ কিলোমিটার- মাথা পিছু ভাড়া এদেশের একশত ইয়েমেনি রিয়েল, আমাদের হিসাবে চৌত্রিশ/পঁয়ত্রিশ টাকার মতো। চৌদ্দ সিটের একটা লাইট এস মাইক্রো ভাড়া করলাম আমরা ছয় জন, সঙ্গে এলেন এক আরবী তরুণ- তিনি মক্কায় থাকেন এবং এছাড়াও দুই জন স্থানীয় বাসিন্দা। লোক কম তাতে কি? ভাড়া মাথা পিছু একই থাকল। আসলে এখানে রিক্সা বা স্কুটার নাই। অসংখ্য ট্যাক্সি চলাচল করছে। মিটার নাই কিন্তু ভাড়ার কোন জবরদস্তিও নাই। ড্রাইভাররা খুবই আন্তরিক- অনেকটা পড়শীর গাড়ীতে লিফট নেওয়ার মতো। যেহেতু এজতেমা দুই দিন চলবে। তাই এজতেমার আগের কাহিনীটাই আগে বলা দরকার।
এটা এখনও ভাবতে আমার অবাক লাগছে যে, যা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি, যার আমি বিরোধী ছিলাম বিদেশ সফরে সেই আমিই যে হঠাৎ করে রাজী হয়ে যাব এবং তাও আবার এমন একটি দেশে যার ভাষা পর্যন্ত আমার জানা নাই। অথচ এটাও একদম সত্য যে এখন আমি ইয়েমেনের রাজধানী সানা হয়ে হুদায়দার এজতেমা মাঠে বসে ভাইরী লেখা শুরু করলাম। আসলে মানুষ যে কিছুই করতে পারে না সবকিছুই করান আল্লাহ সেটা তো অবিশ্বাস করার কোনই বৈধ যুক্তি নাই।
তাসকিল বলতে যা বোঝায় সে রকম কিছু নয়। মওলানা মিজান ও হাজী শফিউল ইসলাম রঞ্জসহ মাস্তুরাতে বিদেশী মেহমানের বয়ান শেষে আসর নামায পড়লাম। বিদেশী জামাতের সাথীরা অন্য মসজিদে কিভাবে যাবেন সেই ফিকির চলছিল। আমি বাড়ীতে চলে আসব এমন সময় উনাদের একটা কথা কানে আসল। “বিদেশ সফর বোধ হয় আর হচ্ছেনা”। আগ্রহ হল- জানতে চাইলাম বিষয়টি। বললেন গত ডিসেম্বর’ দুই হাজার সাত এ তারা সোয়াদ (অনুমতি প্রাপ্ত) হয়েছেন কাকরাইল থেকে। সাত জনের মধ্যে একজন মওলানা এখনও পাসপোর্ট করেননি- একজন ইংরেজীর শিক্ষক ঢাকায় বদলী হয়ে গেছেন এবং
