পনর দিনের প্রথম অর্দ্ধেক ঢাকায় পূর্ব রামপুরায় কাটালাম। ইতোমধ্যে ইয়েমেনের মারকাজ-এ ফ্যাক্স করা, টিকিটের খবর নেওয়া এবং এর পূর্বে যারা ইয়েমেন সফরে গিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া শেষ করা হল। এখন শুধু ভিসার জন্য অপেক্ষা করা, আর মাঝে মধ্যে ইয়েমেন-এ ফোন করা।
প্রথমার্ধের দ্বিতীয় অর্দ্ধেক ঢাকার বাইরে যেতে হবে। ৭/০১/০৯ সকালে আমরা গাজীপুরে রওয়ানা হব। হঠাৎ রাত্রেই আমাদের ভিসার অনুমতি এসে হাজির। যেহেতু আমরা ইতোমধ্যেই পনর দিন ঢাকায় অবস্থান করেছি এবং ভিসা এসে গেছে তাই মুরুব্বীরা দয়া করে অবশিষ্ট ৭ দিনের বদলে চারদিন গাজীপুরে সময় লাগিয়ে চলে আসতে অনুমতি দিলেন। ঢাকা থেকে চিটাগাং এর বাসের ভাড়া ৩০০/= (তিনশত) টাকা। অথচ ঢাকার বদলে চিটাগাং থেকে যদি প্লেনে উঠি তবে তের/চৌদ্দ হাজার টাকা ভাড়া কম লাগবে। তার উপর এয়ার এরাবিয়া-র ভাড়া পরিস্থিতি ভেদে বিভিন্ন রকম। শেষ পর্যন্ত আমরা ১৪/০১/০৯ তারিখের সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে টিকেট করলাম। যাতায়াত মাথাপিছু ৪২,২০০ (বিয়াল্লিশ হাজার দুইশত) টাকা করে। অবশ্য পরে জানলাম, ঢাকার বদলে চট্টগ্রাম থেকে টিকেট করলে অতিরিক্ত আরো ১১০০ (এক হাজার একশত) টাকা কমে টিকেট করা যেত। কাকরাইলেই ডলার কেনাসহ সব কাজ শেষ করে ১৩/০৪/০৯ সকালে রওয়ানা হয়ে চট্টগ্রাম মারকাজে উঠে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে বলে ঠিক করা হল। এর ফলে বিশ্রামও হবে সময়ও পার হবে। এয়ার এ্যারাবিয়াতে রাজধানী সানা যেতে হলে সারজাহতে চব্বিশ ঘন্টা ট্রানজিট এবং ওখানে যাত্রীদের নিজের খরচে খাবার কিনে খেতে হবে। এই এক দিনের খাবার প্লেন থেকে কিনে খেতে মাথাপিছু ১৫০০-২০০০/-(পনরশত/দুই হাজার) টাকা খরচ পরবে। এজন্য চট্টগ্রাম থেকেই পাউরুটি, ডিম (সিদ্ধ ও ভাজা), জেলি, চিনি ও ফলমূল কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হল। খরচ হল মাথাপিছু একশত পঁয়ত্রিশ টাকা প্রতিজন এবং খাবার এত বেশি হল যে পরের দিন খাবার খাওয়ার পরও কিছু বেঁচে গেল। খাবার পানিও নেওয়া হল বেশি করে। হাজী মিজান তার ছোট ভাইয়ের গাড়ী নিয়ে এসেছিলেন। ঐ গাড়ীতেই চাপাচাপি করে মালপত্রসহ বাস স্ট্যান্ডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা সবাই উঠে পড়লাম। এতক্ষণে মনে হল যে, আল্লাহর মেহেরবানীতে আমরা ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছি। গাড়ী ছাড়ামাত্র এক অভূতপূর্ব অনুভূতি সবার মধ্যে ছড়িয়ে গেল। সকলের চোখে
