ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

পানি। কষ্টের না- অনাস্বাদিত, অপার্থিব, অপূর্ব এক শিহরণ জাগান ভাল লাগার অনুভূতি যা হৃদয়ের তন্ত্রীতে সুরের অনুরণন তুলল গুণগুনিয়ে। মনে পড়ল হুজুর (স.) “আমি ইয়েমেনি” বলে যে দেশটিকে সম্মানিত করেছেন, যে দেশের সম্পর্কে কমবেশী চুয়াল্লিশটা হাদিস এরশাদ করেছেন, যে দেশের হেকমত ও ঈমান সম্পর্কে তিনি আপন যবান মুবারক-এ অনেক সনদ দিয়েছেন, আজ আমাদের গন্তব্য সেই মহান গৌরবান্বিত দেশ ইয়েমেন। মনে হল,

“পার হয়ে আসিলাম আজি নব শিখর চূড়ায়
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম।”

হায়াতুস সাহাবার ১ম খণ্ডে ইয়েমেনবাসীদের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে একটা সুন্দর ঘটনার কথা বিদায়াহ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়েমেনবাসীদের ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেবার জন্য হযরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রা.) কে একটা জামাতসহ ইয়েমেন প্রেরণ করেন যাদের মধ্যে হযরত বারা (রা.)ও শামিল ছিলেন, হযরত খালিদ (রা.) ও তার জামাত ছয়মাস যাবৎ ইয়েমেনবাসী হামাদান গোত্রকে দাওয়াত দিলেন, তবুও তারা ইসলাম গ্রহণ করলেন না। অতঃপর হুজুর (স.) হযরত আলী (রা.) কে প্রেরণ করেন এবং হযরত খালিদ (রা.) ও যে সকল সাহাবী ফিরে আসতে ইচ্ছুক তাদের ফিরে আসার নিদের্শ দেন। হযরত বারা (রা.) থেকে যাওয়া অবশিষ্ট সাহাবীদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ইয়েমেনবাসীদের নিকট উপস্থিত হলে তারাও শহর থেকে বের হয়ে এলেন। হযরত আলী (রা.) অগ্রসর হয়ে পুরা জামাতসহ নামাজ আদায় করে জামাতকে এক কাতারে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি সামনে যেয়ে ইয়েমেনবাসীদের হুজুর (স.) এর চিঠি পড়ে শোনান যে পত্রে তিনি ইয়েমেনবাসীদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়েছিলেন। চিঠি শুনে হামাদান গোত্রের সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন। এই সুসংবাদ হুজুর (স.) কে পত্র মারফত জানানো হলে পত্র পাঠ হুজুর (স.) সেজদারত হলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে বললেন, “আসসালামু আলা হামাদান” তিনি দুইবার কথাটি বলেন যার অর্থ শান্তি বর্ষিত হোক হামাদান গোত্রের উপর। সেই সোনার ইয়েমেন, শান্তির ইয়েমেন, বরকতের আর হেকমতের ইয়েমেনে আল্লাহ পাক সফরের জন্য আমাদের মঞ্জুর করলেন এর চেয়ে আনন্দের বিষয় আমাদের জন্য আর কি হতে পারে। হৃদয়ের গভীর থেকে শুধু একটি শব্দই বের হল, আলহামদুলিল্লাহ!

« <
/ 114
> »