ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

একটা চীনা কোম্পানীতে দোভাষীর কাজ করত। চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে পড়ছে দুই বৎসর ধরে। আমি তো অকুলে কুল পেলাম। তারেক বিছানাপত্র নিয়ে রাত্রে আমাদের সঙ্গেই থাকল। পাশের পাহাড়টার মালিক ওদের দুই দাদা যারা ছিলেন সহোদর ভাই। মোট পনর/ঘোলটা বাড়ী ওদের দুই পরিবারের। পরের দিন মাদ্রাসায় বেশ ভাল আয়োজন হল। শিক্ষকদের আরবী ও ইংরেজিতে দ্বীন সম্পর্কে কথা বলা হল। ইদানিং ডিস কালচার ইয়েমেনে তীক্ষ্ণ দন্ত ও নখর এর ভয়াল থাবা বিস্তার করেছে। বিশেষতঃ ভারতীয় নগ্ন কালচারের আগ্রাসী থাবা খুব দ্রুত যুব সমাজকে নৈতিকভাবে ক্ষতবিক্ষত করছে। এ ব্যাপারে আলি ভাই খুব চিন্তিত। তারেকও দেখলাম বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। বাড়ীতে কেউ কেউ চুপ করে ভারতীয় ছবি দেখে। ভাই তারেক তো একজন কে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েই দিল, ঐ লোকটা হিন্দি ফিল্ম দেখে, পরিষ্কার অসন্তোষ তার গলার স্বরে। আসলে মূল গাছের চেয়ে আগাছা জমিতে দ্রুত বাড়ে। শেকড়ও বেশি মজবুত হয়ে মাটি আকড়ে ধরে। প্রথম অবস্থায়ই এসব আগাছা উপড়িয়ে না ফেলতে পারলে পরে তা সমস্যা সৃষ্টি করে। শিকড় এত গভীরে শক্ত হয়ে বসে যায় যে তাকে পরে সহজে উপড়ানোই যায়না। কিন্তু আমাদের পক্ষে এখানে কি করার আছে? নিজের দেশেই এ ক্ষেত্রে আমরা একান্ত অসহায় আর এখানে আমরাতো বিদেশী!
রাত্রে হঠাৎ তারেক আমাকে প্রশ্ন করল ঈমানের মেহনতকে আমরা তবলিগ বলি কেন? এবং এ মেহনত করলে কি লাভ হবে? সুন্দর প্রশ্ন, শুনে ভাল লাগল। ওকে বললাম, হযরত মওলানা ইলিয়াস (রহ.) বলতেন আমি এই মেহনতের যদি কোন নাম রাখতাম তবে এর নাম রাখতাম “তাহরিকে ঈমান” অর্থাৎ ঈমানী আন্দোলন। এ কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল মুখে বলা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কে বারবার বলা ও শোনার মাধ্যমে দিলের মধ্যে একিনে পরিণত করা। ঈমানের হাকিকত হল হুজুর পাক (স.) এর উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং তাঁর জানানো গায়েবী খবর গুলোকেও পূর্ণ বিশ্বাসে দিলের মধ্যে নিয়ে আসা। আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা আসে। যত বেশি ঈমান সম্পর্কীয় আলোচনা হবে দিলের ভেতরে একিন ততই দৃঢ় ও মজবুত হবে। তাই যা দেখি নাই, জানি নাই হজুর (স.) এর বলা সেই অদেখা আখেরাতের প্রতিটি বিষয়ের উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস পয়দা করার মেহনতের নাম তবলিগ। বিদায় হজ্জ্বে হুজুর পাক (স.) বলেছিলেন “বাল্লেগু আন্নি ওয়ালাও আয়া”। সেই বাল্লেও থেকেই সম্ভবত: তবলিগ শব্দটি এসে থাকতে পারে বলে কোন কোন মুরব্বীদের ধারণা। তবে এখানে মূল কথাটি নামে নয় বরং কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ জন্যই ভারতের হযরত মওলানা সাদ ২০০৬ এ টঙ্গির তিন চিল্লার সাথীদের জোড়ে বলেছিলেন। মানুষ ধ্যানের সঙ্গে আমলের নিয়েতে যেটা শুনবে সেটাই মনে রাখবে এবং সেটাকেই নিজের আমলে

« <
/ 114
> »