ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

সারি অসংখ্য গ্যালারী বানিয়ে রাখা হয়েছে। চতুর্দিকের গ্যালারী মধ্যের নিচু কোন এক অজানা মঞ্চের উদ্দেশ্যে থরে থরে সাজানো। ঐ গভীর খাদের মঞ্চে কি নাটক মঞ্চস্থ হবে অথবা হবে না তাও জানিনা। তবে দর্শক ছাড়া গ্যালারী দেখতে বেশ ভালই লাগে। জোরা কাটা হয়ে গেছে কিন্তু জোরার শুকনা গোড়া এখনও জমিতে আছেই। কিছুদিনের মধ্যেই এসব আবর্জনা তুলে ফেলে টমেটু বেগুনসহ বিভিন্ন সব্জির চাষ হবে। ভাল লাগল যে এখানে কাদের চাষ নাই। কিন্তু তবু কাদ খাওয়া লোকেরও অভাব নাই।
রাতের আল হাযান অপূর্ব সৌন্দর্য্য নিয়ে হাজির হলো। কৃষ্ণপক্ষ চলছে। চৈত্র মাস শুরু হল। আকাশে অসংখ্য সাদা ও প্রায় সাদা মেঘের ভেলা অনন্তের যাত্রায় মগ্ন। তিন দিকেই অনেক দূরের পাহাড়গুলো আলোক মালায় নয়ন স্নিগ্ধকর ভাবে সুশোভিত। এরমধ্যে উত্তরে শহর আল মরওয়া এবং পূর্বে শহর মাহওয়িদ। দুই পাহাড়কে যে পাকা রাস্তা যুক্ত করেছে সেখানে রাস্তার ধারে মালার মতো প্রচুর লাইট জ্বলছে। এছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে প্রায় সর্বত্রই আলো জ্বলছে। শহরের আলো ছাড়াও পাহাড়ের থাকে থাকে অবস্থিত বাড়ীঘরে আলো জ্বলছিল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল যে পুরা এলাকা স্তরে স্তরে আলো দিয়ে কোন উৎসব উপলক্ষ্যে সাজানো হয়েছে। একবার ঢাকায় বিডিআর হলের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় দূর থেকে বিডিআর হলের যে আলোক সজ্জা দেখেছিলাম এটা অনেকটা সেই রকম বলে মনে হল। মূল গেট ও দরবার হলে আলোর বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অন্যত্র লাইন করে এবং উঁচু নিচু লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছিল। নিঃস্তব্ধ নিশুতি রাত। ঝি ঝি তো দূরের কথা, বাতাসেরও শব্দ নাই। জোনাকীর ফুলকি ও এসব এলাকায় দেখা যায় না। এক অটল গম্ভীর স্নিগ্ধ মৌনতা চারদিকে ঘিরে ঘিরে বয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে বারে বারে শুকরিয়া জানালাম। সমভূমির মানুষ আমি। পাকিস্তানের ন্যাড়া পাহাড় দেখেছি। কিন্তু এত সুন্দর ও মোহনীয় যে পাহাড় হতে পারে, আল্লাহর সৃষ্টির এত বৈচিত্র যে আমাদের মতো নগন্য ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানুষও দেখার সুযোগ পাবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তোমার জন্য। আল্হামদুলিল্লাহ।
ডুবন্ত মানুষ যেমন খরকুটা ধরে ভাসার চেষ্টা করে এখানে আমার অবস্থা ঐ রকম। কেউ কোন রকম একটু ইংরেজী জানে শুনলেই খুশি হই, তারসঙ্গে আলাপের চেষ্টা করি, নিজের মনের কথা চেষ্টা করি তাকে বোঝাতে। কিন্তু এখানে অভাবিত যে সুযোগ আল্লাহ দিলেন তা আশা করিনি মোটেই। এখানের মাদ্রাসায় উঁচু ক্লাসে আমাদের দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পড়ানো হয়। ঐ মাদ্রাসার ইংরেজীর শিক্ষক আলি ভাই রাতে নিজেই এসে অনেকক্ষণ আলাপ করে পরের দিন মাদ্রাসায় যেতে আমাদের দাওয়াত দিলেন। আরো দুইটা ছেলে তারেক ও আব্দুল মজিদ মোটামুটি ইংরেজী বলতে পারে। এর মধ্যে তারেক

« <
/ 114
> »