ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

সবাই ঘরে বসে নামায ও তসবিহ তাহলিল নিয়ে ব্যস্ত। সত্যিকার দ্বীন বুঝার ও মানার জন্য যে মেহনত প্রয়োজন তা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। প্রকৃত দ্বীন আজ কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকারে তার প্রকৃত চেহারা হারিয়ে ফেলছে। এখন আর শুয়ে বসে অলসতা করার মতো সময় ও সুযোগ কোনটাই নাই। আমাদের প্রত্যেকেরই এটা অনুধাবন করে কাজ শুরু করতে হবে। Think for today, tomorrow is too late. (আজই কাজ শুরু করতে হবে, আগামীকালের জন্য দেরী করলে তা অনেক বেশি দেরী হয়ে যাবে)।
শনিবার সকালে নাস্তা শেষে যাত্রা হবে শুরু। এই দুইদিনে এখানেও ভালই মেহনত হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক বেশ কয়েকজন দাওয়াতের মেহনতে উৎসাহ নিয়ে আমাদের সঙ্গে বহু সময় দিলেন এবং বিভিন্নভাবে অংশ নিলেন। স্থানীয় ভাবেও জনগণের বেশ সাড়া পাওয়া গেল। আমাদের দলে এখন নয় জন সাথী। ভাই আব্দুল্লাহ আলী, জাহিদ ভাই ও ভাই মোহাম্মদ আমাদের সঙ্গে থাকবেন। জামাত বড় হওয়ায় আমরা এখন আলি ভাইদের বুঝিয়ে রাজী করাতে পেরেছি নিজেরা রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে। ঝাল ছাড়া রান্না খাওয়ায় অনভ্যস্ত মুখ ঝাল খেতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল। সব শুনে শেষ পর্যন্ত উনারা সম্মত হলেন। আমরাও খুশি হলাম। এই মারকাজ থেকে এ পর্যন্ত কোন দিন কোন জামাত বের হয়নি। জামাত হিসাবে আমাদের এই জামাত-ই প্রথম যা এই মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে জামাত হিসাবে যাচ্ছে। ফলে বিশেষ একটা আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হল। বিশেষভাবে দোওয়া করা হল যেন, আল্লাহ জাল্লা জালালুহু এখান থেকে নিয়মিত জামাত বের করার মতো অবস্থা তৈরি করে দেন।
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মসজিদ আল হাযান। তারপরেই যাব আর রাহমাহ মসজিদে। আব্দুল্লাহ আলী ভাই এর ল্যান্ড রোভারের ছাদের উপরে মালসামানা তুলে রওয়ানা হলাম। গোটা পাহাড়টাই লোক বসতিতে পূর্ণ, অনেকটা শহরের মতো গায়ে গায়ে লাগানো বাড়ী ঘর। এই এলাকায় মার্কাজ মসজিদ আল গারেজ সম্পর্কে শুনেছিলাম যে মসজিদটি সাতশত বছরের পুরানো কিন্তু এই মসজিদ তার চেয়েও অনেক সিনিয়র। প্রায় আটশত বছর পার করে দিয়েছে। এই মসজিদের দেওয়াল গুলো পাথরের দেওয়াল। জায়গা হয় না মুসল্লিদের। কিন্তু পাকা করার ক্ষেত্রেও সমস্যা অনেক। মসজিদের দক্ষিণ পূর্বে ও দক্ষিণ পশ্চিমে দুইটা বড় বড় পানি জমা করার গভীর কুয়া। অন্য দুইদিকে গভীর খাদ। এছাড়া আর জায়গা নেই। কুয়া দুইটার একটা তো প্রায় বিশ/পঁচিশ হাত চওড়া। একটার পানি ফুরালে তবে অন্যটা ব্যবহার করা হয়। চারিদিকেই ছোট ছোট পাহাড়। কিন্তু অনাবাদি নয়। পাথর তুলে তিন/চার হাত পর পর আইল বেঁধে ছোট ছোট ক্ষেত বানানো হয়েছে। এমন কি দুই/তিন হাত জায়গা পেলেও তাকে কৃষির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তাকালে মনে হয়, চারিদিকে সারি

« <
/ 114
> »