বেচারা মৃত্যু কি তা বোঝার আগেই দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে। পরে পাথরে বাড়ী খেয়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। নিচে তাকিয়ে দেখলাম, হালকা হালকা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় সাথীরা বললেন, এখানে উপরের এই এলাকায় সাধারণতঃ বৃষ্টি বেশি হয় না। তবে মস্ত বড় একটা কুয়া মসজিদের সঙ্গেই পাকা সিমেন্ট ও পাথরে তৈরি করা আছে যার তলায় এখনও কিছুটা পানি জমা আছে। অনেকটা প্রায় ছোট পুকুরের মতো। পাথর দিয়েই নিচে নামার সিঁড়ি করা আছে ঘাটে যেয়ে অজু করার জন্য। সামনে মুখ বের করে দিগন্তের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা পাহাড়ের ঐ বেড়িয়ে থাকা অংশে যেতে মন টানছিল। এক সাথী এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করতেই উনারা আমাদের ঐ পাহাড়ের মাথায় নিয়ে গেলেন। আসলে শুন্যে বেড়িয়ে থাকা ঐ মাথাটা যাট/সত্তর মিটার হবে। পাথরের উপর থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। মনে হল বিশাল সমুদ্রের উপর মহাশুন্যে দাঁড়িয়ে আছি, পায়ের নিচের অনন্ত বিস্তৃত সবুজ এর আলপনা। দুই এর মাঝে সাদা মসলিনের হালকা আভরণ। মেঘকে পেজা তুলার মতো দেখবো- তা দেখলাম না বরং মাথার অনেক উপরের ভেসে বেড়ানো মেঘমালাকে আগের মতোই ঐ রকম উঁচুতেই দেখলাম। আগের মতোই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে আমাদের অবাক ও স্থির দৃষ্টিকে অবলোকন করছে। দুই মেঘের মাঝে আমরা প্রকৃতির বিচিত্র রং রূপ রহস্য ঘেরা মোহনীয় কুহুকে আবৃত হতে থাকলাম। সুবহানাল্লাহ। তোমার সৃষ্টি কত সুন্দর, কত বিচিত্র, কত অপরূপ। না জানি তুমি কত সুন্দর! কত অপরূপ, কত মহিমাময়।
এবার প্রসঙ্গান্তর বলি, ছোট্ট একটা ধাঁধাঁ, এক দেশে এক পাহাড়ের তলদেশে এমন একটা আঙ্গুর গাছ ছিল যেটা বাড়তে বাড়তে পাহাড়ের উপরের সবগুলো বাড়ীর ঘরের জানালা এবং দরজা দিয়ে ভেতরে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে ফেলেছে। থোকা থোকা আঙ্গুরও সেই ভেতরের ডালগুলোতে ধরেছে। তবে গাছের এই বৈশিষ্ট্য শর্ত সাপেক্ষ। প্রত্যেক বাড়ীর লোকদেরই পাহাড়ের নিচে ঐ গাছের গোড়ায় নিয়মিত নির্দ্ধারিত নিয়মে পানি দিতে হয়। প্রথম প্রথম সবাই এ কাজ করল। গাছে আঙ্গুর ধরল। সেগুলো বড় হল। এর পর তারা সবাই পাহাড়ের গোড়ায় পানি দেওয়ার পরিবর্তে ঘরে আঙ্গুরের থোকায় পানি দিতে লাগল, যেন তার ঘরের আঙ্গুর আগে পাকে। প্রশ্ন হল, কার ঘরের আঙ্গুর আগে পাকবে? উত্তরটা খুবই সোজা। কারো ঘরেই আঙ্গুর পাকবে না। গোড়ায় পানি না দেওয়ার কারণে গাছই মরে যাবে। আঙ্গুরও শুকিয়ে যাবে। আসলে দ্বীন নামক আঙ্গুর গাছের গোড়ায়ও তেমনি নিয়মিত দাওয়াতের মেহনতের পানির সেচ দিতে হবে। তবেই গাছও বাঁচবে এবং ঘরে বসেই আঙ্গুরও খাওয়া যাবে নিয়মিত ভাবে। হুজুর পাক (স.) ও তাঁর সাহাবীরা দ্বীনের যে আঙ্গুর গাছ আমাদের জন্য দিয়ে গেলেন আল্লাহর অশেষ মেহরেবানীতে তা আজ ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।
