ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

মখলুক সৃষ্টি করেছেন মানুষের প্রয়োজনের জন্য এবং কারো পরামর্শ ছাড়াই। অথচ মানুষ সৃষ্টির সময় তিনি ফেরেস্তাদের নিয়ে মাশোয়ারা করেছেন। কারণ তিনি মানুষকে তার খেলাফত দিয়ে অর্থাৎ তার দ্বীনের দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে পাঠাচ্ছেন। এজন্য দ্বীনের মেহনতে পরিশ্রম জরুরী। দ্বীনের জন্য সব নবীকেই কষ্ট মোজাহাদা করতে হয়েছে। হুজুর পাক (স.) এর ক্ষেত্রে এটা ছিল সবচেয়ে বেশি। আল্লাহ পাক ইচ্ছা করলেই তাঁর জন্য এটা সহজ করে দিতে পারতেন, ইচ্ছা করলেই মদিনাতে হিজরত করার সময় হুজুর (স.) এর জন্য বোরাক পাঠিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। অথচ তোহফা হিসাবে যখন নামায দিতে চাইলেন তখন বোরাক পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে গেছেন আরশে মোয়াল্লায়। আল কোরআনসহ দ্বীনের সব হুকুম জিব্রাইল (আ.) স্বয়ং নিয়ে এসেছেন। কিন্তু নামায এর ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক নিজে তার প্রিয় হাবিব কে কাছে ডেকে নিয়ে তোহফা দেন। সুতরাং এত বড় নেয়ামতের জন্য আমাদের কতটুকু যত্নবান হওয়া উচিৎ তা সহজেই অনুমেয়। অথচ এ বিষয়ে আমরা কত বেখেয়াল ও উদাসীন।
আল কালা পাহাড় প্রায় তিন হাজার মিটার উঁচু। আমাদের বর্তমান মসজিদ থেকেও প্রায় চারশত/পাঁচশত মিটার উপরে। একদম সোজা, খাড়া পাহাড়। ফলে এটুকু যেতে পঁচিশ/ছাব্বিশটা দুর্গম বাঁক পার হতে হল। অনেক জায়গায় একশত/একশত পঞ্চাশ মিটার নিচে থেকে পাথর গেঁথে দেওয়াল তুলে তবে রাস্তা করা হয়েছে। প্রায় জায়গায়ই পাড় একদম খাড়া ভাবে নিচে নেমে গেছে। ল্যান্ড রোভারকে অনেক কষ্ট দিয়ে তবে আমরা উপরে উঠলাম। পুরাতন ছোট মসজিদের পাশেই বড় করে নূতন মসজিদটা নির্মিত হয়েছে। দুই ধারে খাড়া দেওয়াল। নিচের দিকে বাড়ী ঘর ম্যাচ বক্সের সমান দেখাচ্ছিল। মসজিদটা ম্যাচের ডজন এর প্যাকেট এর সমান এবং মানুষ জনকে ছোট পুতুলের সমান মনে হচ্ছিল।
ইয়েমেন এসে এত উঁচু পাহাড়ে এর আগে আর উঠিনি। চারদিকে অসংখ্য বড় বড় বোল্ডার পড়ে আছে। একদিকে পাহাড়ের একটা মাথা প্রায় ত্রিশ/চল্লিশ ফুট শুন্যে বেড়িয়ে আছে। এর আগে মুরখাম ইত্যাদি যেসব পাহাড়ে গেছি এখান থেকে সেগুলিকে ছোট্ট টিলার মতো মনে হল। এখানে মসজিদের কেবলা প্রায় পূর্ব উত্তর মুখী অর্থাৎ কাবা শরীফ এখান থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। নিচের উত্তর পশ্চিমে পুরা মুয়াররাস এবং একটু উত্তর পূর্বে পুরা দাহারে মদীনা। দৃষ্টি সীমা বহুদূরে চলে গেল। কিন্তু অপরিচিত জায়গা জন্য তেমন কোন আগ্রহ জাগল না। পূব দিকেই আরো একটা পাথরের খাড়া মাথা শুন্যে বেড়িয়ে আছে। স্থানীয় সাথীরা জানালেন যে, কিছুদিন আগে এক পাগল ওখান থেকে লাফ দিয়েছিল। তার শরীরের অসংখ্য খন্ডের মধ্য থেকে মাত্র কিছু খন্ড পাওয়া গেছে। মনে হয়

« <
/ 114
> »