গেছে। শেষে যে মহিলা অফিসার জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেবেন তিনি নিজেই ভিসায় সিল মেরে তাকেসহ জাহাজ রওয়ানা করিয়ে দেন। তিন/চার দিন জাহাজ চলার পর হঠাৎ করে তারা সামুদ্রিক ঝড়ে পড়েন এবং হাল, কম্পাস এবং বেশ কিছু যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যায়। সমুদ্রে পথ হারিয়ে তারা দিশাহীনভাবে ভাসতে থাকেন। কোথায়ও যোগাযোগ করা অথবা অন্য কোন জাহাজের দেখাও তারা পেলেন না। কয়েকদিন ঝড় চলল। তাদের কয়েক জনের দায়িত্ব ছিল প্রতি দিন তিন বেলা তিনশত জনের জন্য রুটি বানানো। ঝড়ে এমন অবস্থা হল যে, রুটি তন্দুরে দিতে গেলে ঝড়ের ঝাপটায় রুটি যেয়ে সাগরে পড়ে। নামায পড়তে গেলে ঝড়ের ধাক্কায় কেবিনের এক দেওয়াল থেকে অপর দিকের দেওয়ালে যেয়ে আছাড় খেয়ে পড়তে হয়। তারা মাশোয়ারা করে শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে লাগলেন। অবশেষে একদিন ঝড় থেমে গেল। জাহাজ সমুদ্রের বুকে অনির্দ্ধারিত ও লক্ষহীন ভাবে বাতাসে দুলতে ও চলতে থাকল। এভাবে এক মাস কাটল। পরে একদিন ভোরে দেখেন, উনারা করাচী বন্দরে পৌঁছে গেছেন। অবশ্য তারা অনেকে এর আগেই জাহাজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, এই বিপদ কেটে গেলে তারা চার মাস এর বদলে এক বৎসর সময় লাগাবেন। ফলে কুয়েতে সময় লাগানো হয়ে গেলে তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, মক্কা মদীনায় সময় লাগাবেন। কিন্তু কোন ভাবেই মক্কার ভিসা পাওয়া যাচ্ছিল না। সবাই যখন প্রায় নিরাশ হয়ে পড়েছেন, তখন আলী ভাই সেই রাত্রেই স্বপ্নে হুজুর (স.) এর দিদার লাভ করেন এবং তাদের মদীনা জিয়ারত হবে এই সুসংবাদ পান। পরের দিন তারা সত্যই মদীনা যাওয়ার ভিসা পেয়ে যান এবং অবশিষ্ট সময় আরবে দাওয়াতের মেহনত করেন। জিয়ারতে বাইতুল্লাহ ও মসজিদে নববীও তাঁদের নসীব হয়। আমাদের সবার মনের গোপনে লালিত ওমরা করার খায়েসের কথাও এ সুযোগে তাকে আমরা জানালাম। আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনি নিজেও আমাদের জন্য চেষ্টা করবেন বলে কথা দিলেন।
হঠাৎ করে দুপুরেই কানাবেজ থেকে ভাই আলী হাসান নাজ্জারীসহ চার জন সাথী এসে হাজির। তারা শবগুজারী করবেন এবং শুক্রবারও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আব্দুল্লাহ আলী ভাইয়ের এক বন্ধু ভাই জাহিদ এই এলাকার পুলিশ। তিনিও আমাদের সঙ্গে সময় লাগাচ্ছেন। ইউনিফরম ছাড়া জোব্বা গায়ে আমাদের সঙ্গে দাওয়াতের কাজ করতে দেখে এলাকার লোকজন অবাক হয়। মাঝে মাঝে প্রশ্নও করে। কিন্তু পুলিশ ভাই এর কোন তোয়াক্কা নাই সে সবে। নিজেই খেদমতে, জাওলায় এবং গাস্তে অংশ নিচ্ছেন। বেশ ভাল লাগে। ইতোমধ্যে হুদাইদা থেকে নাজ্জারী ভাই আমাদের সবার পাসপোর্টও নিয়ে এসেছেন। সময় দিয়েছে ১৪/০৫/০৯ পর্যন্ত। শুক্রবার সকালের মাশোয়ারায় সুন্দর কিছু কথা শুনলাম। আল্লাহপাক তার কুদরাতী হাতে মানুষ সৃষ্টির আগে নিজ হুকুমে অসংখ্য
