ইস্ত্রী করা পোষাক পড়ে পাহাড়া দিচ্ছে। দেখলে ভয় লাগে, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জাগে না।
আল মাগারেবী থেকে আমাদের এবারের গন্তব্য মসজিদে গারেজ। এটা আরো উচু এবং তাই এলাকার মারকাজ মসজিদ আল কালা পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ছোট ছেলের মত চুপটি করে বসে আছে। মসজিদের সঙ্গেই লাগানো খাড়া গিরিখাদ সরাসরি নেমে গেছে গভীর অতলে। পা পিছলে গেলে নিচে মাটিতে পড়ার আগেই দম বন্ধ হয়ে মারা যেতে হবে। একটু দূরে এলাকার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কামর ওসমান। এর মাথায় সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে টেলিফোন ষ্টেশনের টাওয়ার, একাকী ও নিঃসঙ্গ, অনেকটা সেনাবাহিনীর ‘সেন্ট্রি অন ডিউটি’ এর মতো। এখানেই এক ধরনের ফনি মনসার ঝোপ দেখলাম যার পাতা প্রায় এক ইঞ্চির মতো পুরু, অনেক চওড়া, বড় এবং পাতার গায়ে কোন কাঁটা নাই। গাছের মতো কান্ড। এছাড়া এখানে আমাদের দেশের মতো ফনি মনসার জঙ্গল প্রায় সব জায়গায়ই প্রচুর। হলুদ ফুল ফুটে আছে অজস্র। তার সঙ্গে হালকা লাল ফল। ফলের ভেতরে লালচে বিচি ছোট ছোট ছেলেদের অনেক সময় সে সব ফল খেতেও দেখেছি। একটু টক ও হালকা মিষ্টি। ফনি মনসাকে এখানে বলে ‘বারাম’। আমাদের দেশের প্রায় সব ধরনের গাছই এখানে দেখা যায়। আব্দুল্লাহ আলী ভাই বললেন আগামীকাল জুমার নামায আল কালা পাহাড়ের মাথার উপরের এক মসজিদে পড়তে হবে। কারণ ঐ এলাকার এক সাথীভাই সওগী এর বিয়ে উপলক্ষ্যে তিনি আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি চিল্লার সাথী। এক স্ত্রী নিয়ে দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বৎসর সংসার করেছেন। কোন সন্তান নাই। তাই এতদিন পরে নিঃসন্তান স্ত্রী ও বাড়ীর অন্যান্য আত্মীয়দের ইচ্ছায় তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হচ্ছে। ইয়েমেনে একাধিক বিয়ে করা পুরুষ এবং মহিলা সকলের কাছেই ‘ঘর কা মুরগী ডাল বরাবর’ এর মতো। ভাই সওগী যে নিঃসন্তান এক স্ত্রী নিয়ে পঁয়ত্রিশ বৎসর সংসার করেছেন শুনে খুব ভাল লাগল। এদেশে এমন নজীর খুব কম।
কিছু কিছু মানুষের জীবনের এমন কিছু অদ্ভুৎ ঘটনার কথা শোনা যায় যা সহজ বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে বোঝা ও মানা কঠিন। আব্দুল্লাহ আলী ভাই এর এমন কিছু ঘটনা কথা প্রসঙ্গে জানলাম যা ধারণার বাইরে। মূলত প্রথমে ছিলেন রাজ মিস্ত্রী, পাথরের ঘর বানাতেন। পরে তবলীগের মেহনতে আল্লাহ পাক তাকে জুরে দেন। দিল্লী সফর এর কিছু দিন পর পাকিস্তানও সফর করেন। ২০০০/২০০১ সালের দিকে কুয়েতে চিল্লার ফয়সালা হয়। ইজিপ্ট থেকে তিনশত জনের এক বিরাট জামাত জলপথে কুয়েত যাত্রা করে। সাধারণতঃ এই সফরে আট দিন সময় লাগে। সব সাথী পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে জাহাজে উঠেছিল। সবার শেষে তিনি ঘাটে আসেন অথচ ভিসা হয়নি তখনও। এদিকে জাহাজ ছাড়ার সময় হয়ে
