এবং নিজেদের টাকায় করতে হবে। পাকা সরকারী রাস্তা পর্যন্ত যেতে তাদের সম্মুখে এছাড়া আর কোন বিকল্প নাই। পাললিক শিলার স্তর বিভিন্নভাবে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মধ্যে বেশ কিছু পাথর ও মাটি বগুড়ার মাটির মতো লাল রং এর। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রং এর পাথর দেখা যাচ্ছে। অবশেষে পাকা রাস্তা দিয়ে আল মাগারেব এর এলাকায় পৌঁছালাম। মাগারেবে অসংখ্য পাথরের ঘর বাড়ী, একটার উপর আরেকটি পাথর দিয়ে সাজিয়ে এসব বাড়ী তৈরি। মসজিদের আশে পাশে সর্বত্রই অনেক গুলো দোতলা বাড়ী। আধুনিক বাড়ীও তৈরি হচ্ছে। মসজিদে যেতে অনেক পাহাড় এবং তার চেয়েও প্রচুর বাঁক পার হতে হল। সবশেষে বাজার এবং অবশেষে মসজিদ।
সব এলাকার পাহাড়েই সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা সেটার নাম পানি যার অপর পার্থিব নাম জীবন। পানির কোন সরবরাহ এসব পাহাড়ী কোন এলাকায় নাই। তবে এখানের স্থানীয় প্রচেষ্টা বেশ কিছুটা সহনীয় অবস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়ীর সামনেই দশ/পনর হাত চওড়া ও বেশ গভীর কুয়া বানানো আছে। বর্ষাকালের বৃষ্টির পানি পাকা ড্রেনের সাহায্যে এ সব কুয়ার ভেতরে জমা করা হয়। এর ফলে বেশ কিছুদিন সাধারণ কাজে ব্যবহারের পানি এসব কুয়া থেকে পাওয়া যায়। মসজিদের কুয়ার পানি দেখলাম বেশ টলমলে পরিস্কার এবং এখনও বহুদিন অজুর কাজ চলবে। সবাই প্রায় মসজিদে এসে অজু করছে। লোহার ঢাকনি দিয়ে কুয়ার মুখ বন্ধ করা- তালা দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। প্রায় সব পাহাড়েই পানির সরবরাহ করার মোটা ও চিকন পাইপ টানা আছে বিস্তৃত ভাবে। কিন্তু পানির সরবরাহ নেই কোন পাইপেই। মাদ্রাসায় এগারটায় ছাত্র শিক্ষক সমাবেশে বয়ান হল। এরা আমাদের যেতে দিতে চায় না- আরও থাকার জন্য অনুরোধ করে বারবার। যে পাহাড়ে আমরা আছি এই পাহাড়টি দুই হাজার মিটার উঁচু বলে মাদ্রাসার দেওয়ালে টাঙ্গানো ম্যাপ দেখে শিক্ষকরা বললেন। সামনে আরো উঁচু পাহাড়ে যাওয়ার কথা আছে। এখানে ফ্যান ছাড়াই রাত্রে বেশ ঠান্ডা লাগছে। ফ্যানের নিচে ছাড়া যারা ঘুমাতে পারেন না তারাও দেখলাম রাত্রে চাদর গায়ে দিয়েছেন। এর আগে হোফাস মসজিদের কাছে ছোট ছোট টুনটুনি পাখি দেখেছিলাম। আমাদের টুনটুনির প্রায় অর্ধেক। এখানে প্রায় কাল রং এর ভাত শালিক দেখলাম অনেক। লেজটা একটু বড় এবং পাখার উপরে একটা করে বড় পালক ধূসর সাদা যা লেজ পর্যন্ত লম্বা। এখানে কাক দেখলাম চিলের মতো পাখা মেলে বাতাসে দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রথমে চিল বলে ভুল করেছিলাম। অনেক পরে যখন পাশের এক দোতলা বাড়ীর কার্নিসে বসল তখন নিঃসংশয় হলাম। মোরখামের পাহাড়ী কন্যার দেশের পাহাড়গুলো ছিল স্নিগ্ধ সবুজ ও মায়াময়। অনেকটা পাহাড়ী কন্যার প্রিয় সখিদের মতো। কিন্তু এখানের গিরিরাজের পাহাড়গুলো কাটখোট্টা রসকসহীন দারোয়ানের মত, মাথা উঁচু করে
