ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

তিনশটি। সব সুদানী আমের কলম। গোড়ার দিকের আম-এ রং ধরেছে আর উপরে তখনও ছোট ছোট করালী। কিছু কিছু গাছে একই সঙ্গে মুকুলও দেখলাম। প্রায় গাছেরই নিচের দিকের আম মাটি ছোঁয়া অথবা প্রায় ছোঁয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। গাছ এমনভাবে লাগানো হয়েছে যে, জোরা চাষ করতে কোন অসুবিধা হয় না। এছাড়া বড় বেগুন, টমেটু, মেহেদীর ক্ষেত, কলার বাগান ইত্যাদি আছে, খেজুর গাছে ফুল এসেছে। গাছের তলায় ঝড়ে পড়া আম পড়ে আছে অনেক কিন্তু কেউ নেয় না। চমৎকার নধর কান্তি তেল চোয়ানো বড় এক বালতি বেগুন হুরাইরা ভাই ঝটপট তুলে ফেললেন আমাদের জন্য। এছাড়াও সঙ্গে দিতে চাইলেন এক বাক্স টমেটু। আমরা এগুলো নিয়ে কি করব? কোথায়ও তো রান্না করার সুযোগ পাইনা। তাই বাধ্য হয়েই আসার সময় সব রেখে এসে তার মন খারাপ করাতে বাধ্য হলাম। তবু রাতে একটা পলিথিনে চারটা বড় বেগুন পেলাম সামানা নামাতে যেয়ে গাড়ীর এক কোনায়। ভালবাসার অকৃত্রিম ছোঁয়া মাখানো বেগুন। দেখা যাক কি করা যায়। ছয় জনের জন্য গাছ পাকা আমও বারটা দিতে ভুল হয়নি। অদ্ভুৎ আন্তরিকতা।
আকাশ পাহাড় জমিনকে স্নিগ্ধ হাসিতে ভরিয়ে দিয়ে প্রায় পূর্ণ চাঁদ উঠে এসেছে মাথার উপরে। কাল সকালে এখান থেকে অন্য মসজিদে চলে যাব, সুতরাং আব্দুল্লাহ আলী ভাইসহ সবাই বাইরের বৃষ্টির পানি জমা রাখার জন্য তৈরি বিরাট কুয়ার পাকা ছাদের উপর বসে গল্প করছিলাম। আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে তিনি ভারত সফর করেছিলেন। সে সময় মওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ) এর সঙ্গে তারা দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তার বয়ানও শুনেছেন। সে সম্পর্কেও অনেক স্মৃতি কথা শুনালেন। অদ্ভুৎ ভালো মানুষ। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের সঙ্গে পরবর্তী সবগুলো মসজিদেই নিজে তাঁর নিজস্ব ল্যান্ড রোভার গাড়ী নিয়েই সময় লাগাবেন বলে জানালেন। তার মুখে শুনলাম, মওলানা নদভী তাদেরকে বলেছিলেন দায়ীর চরিত্র হবে উটের মতো। সে গন্তব্যে পৌঁছার পূর্বে কোনভাবেই তার রোখ বদলাবে না। উটের মতো পিঠে খাবার থাকুক না থাকুক, সেদিকে না তাকিয়ে চলতেই থাকে এবং গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামবে না। মনে রাখতে হবে যে, দায়ীকে আল্লাহ কখনও ভুখা রাখেন না যেমন মালিক তার উটকে কখনও ভুখা রেখে কষ্ট দেন না। কড়া নজরে ও যত্নে রাখেন।
আমাদের এবারের গন্তব্য মসজিদ আল মাগারেবী এবং এখানেও দুই দিন থাকার কথা। এ পাহাড় আরো অনেক উঁচুতে। রাস্তা খুবই খারাপ। আগে নাকি আরো বেশি খারাপ ছিল। পরে এলাকাবাসী নিজেরা দশ লাখ রিয়েল চাঁদা তুলে নূতন এই রাস্তা করেছেন। অসংখ্য পাথর রাস্তার উপরে। সব ঠিক করতে হয়ত আরো দশ/বার বছর লাগবে। টাকাও লাগবে অনেক। সবই নিজেদের গরজে

« <
/ 114
> »