ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

উঠে। এ গুলিকে এরা সিডর বলে এবং এই বাবলাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পাহাড়ের উপরে অবশ্য সিডর বেশি নাই কিন্তু হলুদ ফুলওয়ালা এক ধরনের বাবলা গাছ অনেক। হঠাৎ এক জায়গায় প্রচুর সাদা ফুলওয়ালা গাছ দেখা গেল। কাছে যেয়ে দেখি এগুলোও বাবলা, তবে ফুল হলুদের বদলে সাদা এবং পাতাও ঠিক সবুজ না বরং হালকা খয়েরী রং এর। বেশ কিছু আদন ফুল গাছও দেখলাম। সবগুলোই হালকা গোলাপী ফুলে ঢাকা। শুধু একটা গাছ দেখলাম যার ফুল সাদা। কেন তা কে বলবে?
নিচে নামার সময় মিষ্টি মনটা তেতো হয়ে গেল। উপর থেকে যে সব সবুজ ক্ষেতকে সবুজ কার্পেট মোড়া চওড়া সিড়ির মতো মনে হয়েছিল এখন দেখলাম, সেগুলো শুধুই কাদের ক্ষেত। একমুঠো কালের দাম ১,০০০/২,০০০ (এক হাজার/দুই হাজার) রিয়েল। এই নেশা বেচে এরা অঢেল পয়সা কামায়। আর এসব পাহাড়ে মূলতঃ শুধুই কাদের চাষ হয়। কলা বাগান, আম বাগান ইত্যাদিও আছে, তবে তা তেমন উল্লেখ করার মতো নয়। রাত্রে মসজিদে অনেকেই বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এলেন। তাদের ছেড়ে যাচ্ছি জন্য মনোবেদনার কথা জানালেন। নতুন করে জামাত পাঠাতে বললেন। সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে আসবেন তাও অনেকেই বললেন। কেমন একটা বেদনা মাখা ভালবাসায় মনটা আপ্লুত হল। তারপর এক সময় রাত পেরিয়ে ভোর হল। কুয়াশার মতো হালকা আঁধারে পাহাড় ও আশেপাশের এলাকা ডুবে আছে। পাহাড়ী কন্যা কি হালকা ধূসর ওড়না দিয়ে বেদনায় মুখ ঢেকে আছে? নাকি অভিমানে মুখ আঁচলে ঢেকে মনের বেদনাকে লুকাতে চাচ্ছে? কিংবা হয়ত এসব কিছুই না, শুধুই আমার মনের রং তুলির আবেগমুখর অভিব্যক্তি। তবে যাই হোক না কেন, প্রকৃত সত্য এই যে, বিদায়ের সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে। মনে মনে ওদের দিকে তাকিয়ে আমার প্রিয় কবি কাজী নজরুলের সুরে সুর মিলিয়ে বললাম,

বিদায় হে মোর চারদিকে থাকা মৌন নিথর গিরি, উপায় কী বল, যেতে হবে আজই তোমাদের মায়া ছাড়ি।

« <
/ 114
> »