ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

পাশের আর একটা পাহাড়ের একদম চূড়ায় একটা অদ্ভুদ প্রাচীর ঘেরা বড় জায়গা সবার দৃষ্টি কেড়ে নিল। সাবেত ভাইও অবাক। এখানে প্রাচীরও তেমন জরুরী কিছু না। কিন্তু এত বড় বিরাট এলাকা ঘিরে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে এবং তার উপরে কাঁটা তারের ফেন্সিং। নিষিদ্ধ বস্তু মন টানে বেশি তাই ছাবেত ভাই নিজেই প্রায় খাড়া ঐ কোন রকমে তৈরি করা খারাপ রাস্তা দিয়েই পাহাড়ের উপরে উঠলেন। এখন পর্যন্ত শুধু প্রাচীর হয়েছে। গেটের কাজ চলছে। আনুমানিক পাঁচ/সাত একর জায়গা প্রায় সমতল করা হয়েছে। এদিকের প্রান্তে একাধিক জায়গায় গভীর করে দেড় ফুট বোর (ফুটা) করে নিচের গঠনশৈলী পরীক্ষা করা হয়েছে বলে মনে হল। তারপরে যা দেখলাম তা মনে রাখার মতো। প্রাচীরের ধার দিয়ে নিচের দিকে তাকালেই চারদিকের গভীর খাদসহ সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের ধারে চিকন করে যে সব ক্ষেত তৈরি করা হয়েছে তাকে দেখে চমৎকার ভাবে তৈরি ও সবুজ কার্পেটে মোড়া চওড়া সিঁড়ির মতো লাগছিল। মনে হল আমরা গিরি কন্যার অন্দর মহলে এসে গেছি। ঐ সব সিঁড়ির কার্পেটের উপরে রাতুল পায়ে আলতো ছোঁয়ায় ছন্দে ছন্দে হিল্লোল তুলে সে এখানে উঠে এসে এলোকেশী মেঘ সখীদের সঙ্গে অবসর সময় কাটায়। আমাদের মতো অনাহুত অতিথিদের দেখে পাশের কোন পর্দা ঘেরা ঝরোকায় সরে গেছে। আমরা চলে গেলেই হয়ত আবার এসে ব্যালকনীর কোনা ধরে আকাশের মেঘ সাথীদের প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকবে। একটু দূরে আরো একটা পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট আরো একটা শহর চোখে পড়ল। শুনলাম শহরটির নাম ‘ল্যামর’। কুআইদিনা থেকে উত্তর পূর্বে অবস্থিত। পাকা রাস্তা এঁকে বেঁকে ঐ দিকে চলে গেছে। এত উঁচাতেও গাড়ীর কোন কমতি নেই। বাজারের উপর অনেক গাড়ীর ভিড়ে দুইটা পানিবাহি ট্যাংকার দাঁড়িয়ে ছিল। চালু হয়ে আমাদের সামনে দিয়ে নিচের দিকে রওয়ানা হল। অবাক বিস্ময়ে খেয়াল করলাম, পানি ভরা এত হেভি ট্রাকটি চালাচ্ছে দশ/বার বৎসর বয়সের একটা বাচ্চা ছেলে। এই পানি ভরা ট্যাংকার নিয়ে এবং দূরহ ও বিপদ সংকুল এসব বাঁক এবং অসংখ্য খারাই উৎরাই পার হয়ে এই বাচ্চা ছেলেটা কেমন করে নিচে যাবে ভেবে আঁৎকে উঠলাম। কিন্তু সিংহের বাচ্চা তো সিংহই হয়। অপর ট্যাংকারের হুইলে যে বসে আছে সেও বাচ্চা তবে দুই/এক বছরের বড়। বুঝলাম, ছোট বাচ্চারা যত সাহসী ও নির্ভিক হয় বড়রা হয়ত সংসারের কথা ভেবে অতটা সাহস করেনা অথবা এটাই হয়ত এখানকার নিয়ম। তবে মনের খুঁৎখুতি কোন ভাবেই গেলনা। ছোট্ট আহমদ তো আমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। সেও তো ট্রাকই চালায়। তবে? আমি কি নিজেকে দিয়ে অন্যকে বিচার করার চেষ্টা করছি?
এদেশে বাবলা গাছ দুই রকমের। একটা আমাদের দেশের মতো বেশ বড় কাঁটাওয়ালা। অপরটি অদ্ভুৎ সবুজ পাতাওয়ালা ও ছোট কাঁটাওয়ালা যেগুলি জন্মের সময় থেকেই চারদিকে ডাল বিছিয়ে মেলে রাখা ছাতার মতো বেড়ে

« <
/ 114
> »