কেউ কোন সাহায্য করার পূর্বেই মেয়েটি মারা যাবে। পরে সাথীদের কাছে এ ব্যাপারে মসজিদে কথা তুলতেই শুনলাম, কিছুদিন আগেই কাছের এক কুয়ায় দুইটা মেয়ে একসঙ্গে কুয়ার ভেতরে পড়ে মারা গেছে। কুয়ার পাড় গুলো মাটির সমান অথবা এক হাত উঁচা, পাড়ের উপর দাঁড়িয়েই পানি তুলতে হয়। মনটা বড় বিষন্ন হয়ে গেল। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের এখানে কি করার আছে!
মুর এ মুরখাম এর পাহাড়ী কন্যার দেশে। আল-খারাজ মসজিদ থেকে আমরা এর পরে মুয়াররাস যাব আবার মরুভূমি কন্যার দেশে। দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন ভাই আহমদ ছাবেত। দুপুরের আগেই গাড়ী নিয়ে হাজির, দুইশত/দুইশত পঞ্চাশ গজ দূরত্ব কিন্তু পাহাড়ে উঠানামায় আমাদের কষ্ট হবে ভেবে নিজেই গাড়ী চালিয়ে চলে এসেছেন। নামায শেষে আমরাও আর দেরী করলাম না। বেশ সচ্ছল মানুষ, দুই/তিনটা ট্রাক ও পিকআপ আছে। বাড়ীতে নিজস্ব পাম্পের সাহায্যে ট্যাপ সিস্টেম, এমন কি হাত ধোওয়ার বেসিনও আছে। বেশ কিছু মেহমান ঘরে অপেক্ষা করছিলেন। সুতরাং দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ নেওয়া হল। আমির সাহেব আরবীতে কথা বলতে শুরু করেছেন হঠাৎ দেখি মাদ্রাসার শিক্ষক ভাই আলী। তিনি মোটামুটি ইংরেজীতে কথা চালিয়ে নিতে পারেন। আমরা দুজন একসাথে কথা বলছিলাম। প্রাসঙ্গিকভাবে হঠাৎ আলী ভাই প্রশ্ন করলেন, ইয়েমেন এতবড় দেশ, সেখানে মাত্র ছয়জন মানুষ আপনারা। কতটুকু কি করবেন? হেসে বললাম, ঘুমন্ত সিংহদের জেগে উঠার জন্য ছোট্ট একটা নেংটি ইদুরই যথেষ্ট। যদি একটা সিংহও জাগাতে পারি তবে তার ডাকে অন্য সিংহদের জেগে উঠা কি খুব অসম্ভব? আপনারা হুজুর (স.) এর সাহাবাদের বংশধর। আপনাদের এক ইয়েমেনী ওলী-এ-কামেল হযরত শাহজালাল (রহ.) এ দেশের হাজরা মাউথ থেকে যেয়ে এক সময় বাংলাদেশকে জাগিয়েছেন। তিনি সিলেট শহরে ঘুমিয়ে আছেন। আর সিলেটের অত্যাচারী রাজা গৌড় গোবিন্দ নিঃশেষে মাটিতে মিশে গেলেও হযরত শাহজালাল (রহ.) এর আযানের সুর লহরী শুনে আংশিকভাবে মাটিতে বসে যাওয়া রাজার রাজবাড়ী কালের সাক্ষী হয়ে এখনও ভগ্নদশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং আবার আপনারা যদি দ্বীনের স্বার্থে এবং নিজেদের রোজ কেয়ামতের ভয়াবহ প্রশ্নের জবাব থেকে বাঁচাতে এখন থেকেই দাওয়াতের মেহনত শুরু করেন তবে গোটা ইয়েমেনের মানুষদের ঘুম থেকে জেগে উঠতে খুব সময় লাগবে কি? আসলে এ গুলি আপনার যুক্তির বিপক্ষে যুক্তি হিসাবে বললাম। প্রকৃত সত্য হল, সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হলেন আল্লাহ পাক। তিনি কি দিয়ে কিভাবে কি করবেন তা তিনি শুধুই নিজে জানেন। আমরা আমাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। ফলাফল আল্লাহর হাতে। তিনি সর্ব শক্তিমান। ফয়সালারও তিনিই মালিক। সুতরাং এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কি প্রয়োজন?
