খুব আগ্রহ নিয়ে কাজ করলেন। মাদ্রাসার ছাত্রদের একত্র করে দুই মাদ্রাসায় আমাদের দিয়ে বয়ান করালেন। সব কিছু মিলিয়ে বেশ ভালই লাগছিল।
মুরে মোরখাম বিরাট এলাকা জুরে অবস্থিত। সম্মুখের ছোট ছোট পাহাড়ের বেড়া ডিঙ্গালেই বিশাল সমভূমি চারদিকে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। এখানে প্রচুর কৃষি ও সবজি জমি। সব্জি জমিতে উৎপাদিত পানি সেচের মাধ্যমে ফসলের ফলন দেখবার মতো। টমেটুগুলো এতই সুন্দর ও মসৃণ যে মনে হয় টমেটুর গায়ে তেল মাখিয়ে রাখা হয়েছে। ক্ষেতের কোন টমেটুর একটু অংশ খারাপ বা দাগী হলে নিজেরাই সে টমেটুকে বাতিল করে দিচ্ছে। স্থানীয় সাথীরা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এলে আপেলের চেয়েও সুন্দর টমেটু প্রায়ই সঙ্গে নিয়ে আসেন। ফলে বাদ ফজর ও বাদ জুমা আমরা নিয়মিত প্রচুর টমেটু কেটে টুকরা করে লবন ও সরিষার তেল মাখিয়ে খেতাম। দার এল সোয়ারিয়া মসজিদেও একই অবস্থা চলল। এখান থেকে মূল মোরখাম পাহাড় খুব কাছে। ওখানে উঠলে সমগ্র ইয়ামেন ও তার পা ধুয়ে বয়ে যাওয়া সমুদ্র দেখা যায়। কিন্তু রাস্তা না থাকায় দূরুহ ছাগল চলা রাস্তা দিয়ে আমাদের পক্ষে উঠা সম্ভব হল না। অপেক্ষাকৃত তরুন হাজী রঞ্জু ও হাজী মিজান চেষ্টাও করলেন। কিন্তু কিছুটা উঠার পর ফিরে আসতে বাধ্য হলেন। পাহাড়ী ছাগলের মতো লাফিয়ে উঠা তো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রায় সব এলাকায়ই বেশ কিছু তরুন ও কিছু সচ্ছল মুরুব্বীকে কাদের আসরে বসে থাকতে দেখেছি। এরা প্রায় সবাই সৌদি আরবে চাকুরী করে। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছে। মার্চের শেষে বা এপ্রিলে সৌদি আরবে ফিরে চলে যাবে। এছাড়া স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে দিনে দেখাই হত না বলতে গেলে। আশি বছরের আহমদ ভাইকেও বাদ ফজর গাধা নিয়ে মাঠে যেতে দেখেছি। পুরুষরাও অসম্ভব পারিশ্রমী। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে এক নাগারে কাজ করে। বিড়ি সিগারেট কাউকে খেতে দেখিনি। পাথরওয়ালা অনাবাদি জমি থেকে পাথর তুলে জমি চাষযোগ্য করা, পাথর দিয়ে ঐ জমির চারদিকে আল বাধা ও মাটি ফেলে বা কেটে তা সমান করা, সে জমি চাষ থেকে ফসল ফলানো পর্যন্ত যাবতীয় কাজ, বাড়ীঘর এর জন্য পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর বয়ে এনে বাড়ী বানানো ইত্যাদি সব কাজ পুরুষরাই করে। কোন একটা কৃষকের গায়ে চর্বি আছে অর্থাৎ আমাদের দেশের মতো থলথলে মোটা এমনটা দেখতে পাইনি। কারো কোন নালিশ নাই, ঝামেলা নাই, সমস্যা নাই। সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত। আর তাই অপরের পেছনে লাগার মতো সময় নাই। আমাদের মতো পরছিদ্রান্বেষীও নয়। সহজ সরল অনারম্বর অতিথি পাগল এই মানুষগুলো আমাদের মনের মধ্যে একটা গোপন ও গভীর ভালবাসার বস্তু হয়ে রইল। এখন পর্যন্ত এক বেলাও এমন হলনা যে তিন/চার/পাঁচ বাড়ী থেকে খাবার আসে নাই। আমরা শুধু শুধু গ্যাসের চুলা বয়ে বেড়াই। এক মসজিদ থেকে পরবর্তী মসজিদে নিয়ে যাওয়া বা দিয়ে আসাও তাদের দায়িত্বে। একদিন আমরা
