পাশের ওয়াক্তিয়া মসজিদে তিনি নামায পড়ান। আমরা যদি যোহরে ওখানে নামায পড়ি তবে তিনি যেয়ে এলাকার মানুষদের যোহরে মসজিদে জমা করবেন। এ সুযোগ কি ছাড়া যায়! আমরা সবাই যোহরের নামায ঐ মসজিদে পড়লাম। নামায শেষে বয়ান হল, তারা এতই আন্তরিক যে, অন্ততঃ এক দিনের জন্য হলেও আমাদেরকে তারা ঐ মসজিদে থাকার জন্য বার বার অনুরোধ করলেন। শেষ পর্যন্ত এ এলাকা থেকে যাবার আগের দিন আমরা ঐ মসিজিদে যাব বলে কথা দিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা রাখা সম্ভব হয়নি।
ছেলেরা বিকালে মাঠে ফুটবল খেলে। কিছু ছেলে আমাদের হয়ে আগেই ওখানে যেয়ে অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে আমাদের ওখানে যাওয়ার জন্য খবর পাঠাল। সুতরাং বিকালে উমুমী গান্তে যাওয়ার পথে মাঠে যাওয়া হল এবং কথা হল। সব কিছু মিলিয়ে আজ বেশ আনন্দেই সময় কাটল। এদিকে পানিবাহি গাড়ী এলাকায় আসায় মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাদের জন্য প্রচুর পানি জমা করেছেন যেন গোসল করতে পারি। সেটাও বাড়তি আনন্দের কারণ হল। মসজিদের ইমাম মওলানা। জিবরানের আত্মীয়। মসজিদের তিনি অবৈতনিক ইমাম। মাদ্রাসার প্রধান হিসাবে তিনি ৫২,০০০/-(বাহান্ন হাজার) রিয়েল মানে আমাদের ১৭,০০০/-(সতের হাজার) টাকা বেতন পান। এতেই সংসার চলে যায়। তিনি ছাড়াও এখানে আরও তিন/চার জন শিক্ষক ও কয়েকজন স্থানীয় মানুষ চার/পাঁচ মাস পর ছুটি হলে সেই সুযোগে চিল্লায় বাংলাদেশে আসতে চাইলেন। পরপর দুই দিনই তারা যত বেশি সম্ভব আমাদের সঙ্গ দিলেন এবং অনেক রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে জানার প্রচেষ্টা চালালেন। আমির সাহেব কোরআন ও হাদিস থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়ে বয়ান করলেন ও এ মেহনত যে কত জরুরী এবং হুজুর (স.) এর জন্য কত পেরেশান ছিলেন সে বিষয়ে আলোচনা করলেন। এ ধরনের মেহনত তো দূরের কথা, কোরআন পাকে এ সম্পর্কীয় যে সমস্ত আয়াতে দাওয়াতের কথা বলা হয়েছে এটাও তাদের কাছে নূতন উপলব্ধি। তাদের কথ্য আরবী কিন্তু শুদ্ধ আরবীর মতো না। আমাদের শুদ্ধ আরবী বুঝতে তাদের সমস্যা হচ্ছিল বলে মনে হয়। তবুও কোন পক্ষেই আন্তরিকতার কোন অভাব ছিল না। ইতোমধ্যে পরবর্তী সপ্তাহে যে এলাকায় যাওয়া হবে সেখানের দুই সাথী মাশোয়ারায় এসে আমাদের সঙ্গে ছয়দিন সময় লাগিয়ে আমাদের নিয়ে তাদের এলাকায় যাবেন বলে জানালেন। এর মধ্যে ভাই ইয়াহহিয়া বহুদিন আগে পাকিস্তানে সময় লাগিয়েছেন এবং জামহুরি ভাই দেশেই সময় লাগিয়েছেন। তারাই এ খবর আমাদের জানালেন এবং স্থানীয় ভাষাভাষিদের আমাদের কথা বুঝতে যথেষ্ট সাহায্য করলেন। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মসজিদ-ই নূর এ একই অবস্থা হল। এখানেও শিক্ষকরা খুব আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসলেন। তারা গান্তে আমাদের সঙ্গে তো জুড়লেনই অধিকন্তু স্থানীয়দের এই মেহনতের বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করলেন। আগের মাদ্রাসার শিক্ষক এবং এ এলাকার শিক্ষকরাও
