ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

হাসপাতাল, একটা বড় মাদ্রাসা ও দুইটা ছোট ছেলে ও মেয়েদের পৃথক মাদ্রাসা এবং একটা বড় বাজার। এখানে সবখানে শুধুই আরবী পড়ানো হয়। ছোট ছোট বাচ্চারাও সুন্দর ও সঠিক উচ্চারণে কোরআন শরীফ পড়ে। তিন/চার বৎসরের বাচ্চারাও মসজিদে আসে। বেশ কিছু হাদিসও ছোট থাকতেই তাদেরকে মুখস্ত করানো হয়। নিম হাফেজ প্রচুর। হাফেজও অনেকে তবে এ জন্য তেমন কোন বিশেষ মর্যাদা পুরা দেশের কোথায়ও দেখলাম না। মসজিদের নামাযের সময় হলে যে কেউই ইমাম হয়ে নামায পড়ায়। ইমাম আসা বা না আসা নিয়ে তেমন কোন মাথা ব্যাথা নাই। অতিরিক্ত বন্ধুর ও অনুর্বর জমির জন্য এখানে জমিতে ফসল চাষের চেয়ে মূলতঃ ছাগল ও দুম্বা পোষা হয়। গোটা এলাকায় দেখলাম, এখানের মেয়েরা অসম্ভব পরিশ্রমী। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাধায় চড়ে পানি আনা, জমির ফসল গাধায় বোঝাই করে বয়ে বাড়ী আনা, রান্নার জন্য জমিতে যেয়ে জোরার গাছ, কাঁটা গাছ ও শুকনা ডাল ইত্যাদি সংগ্রহ করা, দিনের মধ্যে অন্ততঃ দুই/তিন বার বাড়ীর সকলের জন্য ব্যবহারের সব পানি দুই/তিন মাইল দূরের কুয়া থেকে তুলে আনা, ফসল কাটা, জমিতে কাজ করা, ছাগল দুম্বা চড়ানো, সে সঙ্গে বাড়ীর খাবারের জন্য জোরা পিষে আটা করা থেকে রান্না বান্না করা সব কিছুই মেয়েরা করে। স্বামীর মুখে তর্ক করা বা আপত্তি করার কথা এরা ভাবতেই পারেনা। সর্বাবস্থায় স্বামীর সংসারের সব কাজ ও দায় দায়িত্ব সে বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে। তবে কোন অবস্থায়ই বোরখা বা কঠোর পর্দা ছাড়া তাদের দেখা যায় না। সাত/আট বছর হতেই বোরখার সঙ্গে হাত ও পায়ে মোজা এবং আর একটু বড় হলেই মুখে নেকাব ব্যবহার করে। তারপরও বাইরে আসলে অধিকাংশ সময়ই মাথায় তাল পাতার মাথাল বা হ্যাট থাকে। স্বামী একসঙ্গে একাধিক বিয়ে করতে চাইলে কোনই বাধা নাই, অধিকন্তু কাজের একজন সাথী বাড়ল জন্যই বোধ হয় কোন আপত্তি করে না। বিয়ের দিন স্বামীর সঙ্গে চলে এসে সাত দিন পর স্বামীর সঙ্গে এক বেলা বা এক দিনের জন্য বাপের বাড়ী যাওয়া এবং ফিরে আসার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাপের বাড়ীর সঙ্গে মোটামুটি যোগাযোগ এখানেই শেষ হয়ে যায়। বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া বাপের বাড়ী থেকে কেউ যেমন আসেনা তেমনি এ বাড়ী থেকেও তেমন কেউ যায়না। এটাই সামাজিক নিয়ম।
খুছুছি গাস্তে মাদ্রাসায় যেয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে গতকাল কিছু কথা বলা হয়েছিল। আজকে এগারটায় তারা সবাই আমাদের কথা শুনবে বলে জানিয়েছিলেন। সে জন্য দশটার পরপরই আমরা প্রথমে ছোট ছেলেদের একটা মাদ্রাসায় গেলাম। সেখানে আট জন শিক্ষককে একসঙ্গে নিয়ে কথা বলা হল। তারপর বড় মাদ্রাসায় এলাম। এগারটায় মাদ্রাসা ছুটি হল। তখন সব মিলিয়ে বাইশ জন শিক্ষক একটা ঘরে বসে আমাদের কথা শুনলেন ও বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করলেন। তাশকিলে বেশ সাড়া পাওয়া গেল। একজন শিক্ষক জানালেন,

« <
/ 114
> »