এখানে মেহেদীরও ক্ষেত দেখলাম, থোপা খোপা ঝোপের মতো হয়ে সারা ক্ষেত জুরে আছে। একেকটা খোপায় দশ/পনর টা চিকন ডাল, আট/দশ ইঞ্চি করে লম্বা। শুনলাম, মেহদী গাছ বেশি বড় হলে সেই পাতায় ভাল রং হয়না। তাই ছোট অবস্থায় বার/চৌদ্দ ইঞ্চি হলেই সব ডাল গোড়া থেকে কেটে মেহদী সংগ্রহ করা হয়। পরে আবার গোড়া থেকে নূতন কুশি বের হতে থাকে। এই জমিতে যতদিন সম্ভব শুধু মেহদীরই চাষ হয়।
প্রজেক্টের ভেতরে ঢুকে মন ভরে গেল। নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে প্রজেক্টের কাজ চলছে। এখন অফ সিজিন, তবু বড় ওয়াসে কিছু পানি এখানে ওখানে জমা হয়ে আছে। এক ধারে নয়নাভিরাম ঘন সবুজ বাবলা বন। একদম সতেজ সবুজ। তার ভেতরে থেকে হঠাৎ একটা উট বেরিয়ে এল। তাই দেখে এক সাথী সজোরে আল্লাহর শুকুর করে উঠলেন। পরে আরো কয়েকটা উট বিভিন্ন স্থানে বাবলা বনের মধ্যে দেখতে পেলাম। বেশ কিছু সাদা বক ও পানির ধারে সাদা ফ্রক পড়া চঞ্চল শিশুর মতো ছটফট করে ঘুরে ঘুরে আহারের সন্ধ্যানে মহাব্যস্ত। কিছু ছোট স্নাইপ (চাপাখি)ও দেখলাম। কি কি দেখলাম তার চেয়ে সবকিছু মিলিয়ে কেমন দেখলাম সেটা প্রকাশ করতে পারলেই ভাল হত। তবে আমার ভাষায় প্রকাশের অক্ষমতাকে ছাপিয়ে অদ্ভুৎ এক ভাল লাগার অনুভূতি হৃদয় মনকে ছুঁয়ে ফেলল। মানুষের তৈরি কিছু সুন্দরও দেখতে ভাল লাগে। কিন্তু স্রষ্ঠার সৃষ্টি এতবেশী সুন্দর যে, তা শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ইয়েমেনের সব পাহাড় মূলত ‘ছাবত আল নুয়েরা’ পর্ব্বত মালার অংশ বিশেষ। গায়েম, মোরখান, সোফায়েত, দাহার ইত্যাদি সবই এদের শাখা প্রশাখা। আমাদের পরবর্তী মসজিদ এর নাম মসজিদ আল গায়েম। একটা বড় পাহাড় ডিঙ্গিয়ে গেলেই হবে। মোটামুটি এক মাইলের কিছু বেশি রাস্তা। কিন্তু আমাদের পক্ষে হেঁটে তা পার হওয়া সম্ভব হবে না বুঝতে পেরে মওলানা জিবরান গাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছেন। অবাক কান্ড। এই এক মাইল রাস্তার বিপরীতে প্রায় এক ঘন্টা বিভিন্ন রাস্তা ও পাহাড় ঘুরে আমরা গায়েম এ এসে পৌছালাম। রাস্তা এতই বন্ধুর ও ভয়াবহ যে, এ রকম কঠিন পথে এর আগে আমরা আসিনি। মাঝে মাঝে কিছু পাকা রাস্তা থাকলেও কাঁচা পাহাড়ী চড়াই উৎরাই পার হতে আমাদের অবস্থা কাহিল হয়ে গেল। তবু আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া, ভালভাবেই মসজিদে এসে পৌঁছানোর ব্যবস্থা আল্লাহপাক করে দিলেন।
যে পাহাড়ে আমরা এসে পৌঁছালাম তার নাম জাবালুল মোরখান। এর একপাশে জাবালুস সোয়েত অপর দিকের পাহাড়ের নাম জাবাল আদ দাহের। এখানে মোটামুটি সমতল ভূমি হলে তাকে বলে মুর যেমন ওয়াদিয়ে মুর। মসজিদের এই এলাকাটির চারদিকে শুধুই ছোট ছোট পাহাড় বা টিলা। বিচ্ছিন্ন কিছু বাবলা গাছ ছাড়া তেমন কিছুই চোখে পড়ে না। বেশ কিছু বাড়ী, একটা
