‘ওয়াদিয়ে মুর’ এ তার ফার্ম আছে, সেখানে গেলে দাওয়াতের মেহনতও হবে এবং বিশিষ্ট স্থানটিও দেখা হবে। অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি। এমন সুযোগ তবলীগের চিল্লায় সাধারণতঃ দূর্লভ। তাই আমরা সঙ্গে সঙ্গেই রেডি।
আসলে ওয়াদিয়ে মুর একটা পাহাড়ী বৃষ্টির পানি সদ্ব্যবহারের সুন্দর একটা পরিকল্পনা। জায়গার নামে পরিকল্পনার নাম। পাহাড়ে বৃষ্টি হলে সে পানি যেদিক দিয়ে নামে তাকে বলে ‘ওয়াস’। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এ সব ওয়াসের দুই ধারে হালকা উঁচু পাড়, নিচে বিশ/পঁচিশ হাত চওড়া সমতল ভূমি, বৃষ্টির পানিতে হঠাৎ গজিয়ে উঠে নদীর মতো। ওয়াদিয়ে মুর এ বেশ কয়েকটা পাহাড়ের বৃষ্টির পানির ওয়াসকে নিয়ন্ত্রণ করে একটা বড় ওয়াসের মাধ্যমে একস্থানে জমা করা হয়েছে। এই পানি পাঁচটা সুইচ গেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে কৃষিকাজের জন্য বিভিন্ন
এলাকায় সরবরাহ করা হয়। প্রায় পঁচিশ/ত্রিশ বৎসর আগে চীনা প্রযুক্তি ও তত্বাবধানে কাজটি করা হয়েছে। আমরা যে এলাকায় গেলাম সেখানের সুইচ গেটটিতেই প্রথমে ওয়াসের পানি জমা হয়। পানির মজুদ পুরা হয়ে গেলে গেটের মুখ বন্ধ করে দিলেই বৃষ্টির পানি পরের রিজার্ভে যেয়ে জমা হতে থাকে। এভাবে পাঁচটা রিজার্ভই ভরে গেলে অতিরিক্ত পানিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওয়াদিয়ে মুরে পানির প্রবেশ মুখটি বেশ বড়। জমানো এই পানি নিয়ন্ত্রিত তিনটি মুখ দিয়ে তিন এলাকায় ছাড়া হয়। প্রত্যেক রিজার্ভ এলাকার জন্য তিনটি করে ক্যানেল। মূল ক্যানেলটার দুই ধারে চওড়া করে বাঁধ দিয়ে তার উপরে গাড়ী চলাচলের রাস্তা বানানো হয়েছে। প্রায় দুইশত পঞ্চাশ/তিনশত গজ পরপর একটা করে লোহার ব্রীজ দুই পাড়ের রাস্তাকে সংযুক্ত করেছে। এই কৃত্রিম পানি সঞ্চালনের সুফল দেখে অবাক হতে হয়। যেমন ওয়াদিয়ে মুর-এ পৌঁছার দুই/তিন মাইল আগে থেকেই দূর থেকে ঘন গাছের বন চোখে পড়ল। কাছে এসে দেখি- বিশাল আম বাগান। দুইশত/তিনশত নয় বরং কয়েক হাজার আম গাছ লাগানো হয়েছে তিন/চার মাইল এলাকা জুরে। মধ্যে কোন ফাঁকা জমি নাই। সব গাছেই প্রচুর আম ধরে আছে। অনেক গাছেই পেলা/ঠেকা দেওয়া হয়েছে। সুদান থেকে নিয়ে আসা কলমের প্রায় সব গাছের আম দুই অথবা তিন ফলা। কোন কোন গাছ এমনও দেখলাম যে একই গাছে কিছু আমে রং ধরে গেছে ঐ একই গাছে কিছু ছোট আম যেমন দেখলাম তেমনি দেখলাম মুকুলও। কিন্তু আম্রপালী জাতীয় উন্নত ও উৎকৃষ্ট প্রজাতি নয় বরং এক ধরনের আধুনিক সংকরায়ন ও সবগুলি একই জাতের আম। ভেতরে কিছু আশ আছে। সাইজ ছোট, সাত/আটটায় কেজি হবে বলে মনে হল। শুনলাম, এখানে চার/পাঁচ মাস আম পাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশের মতো লেট ভ্যারাইটি যেমন, আশ্বিনা, ফজলি ইত্যাদি ধরনের আম এখানে হয় না। রাস্তার পাশে মাঝে মধ্যেই পাম্পমেশিনে লম্বা রাবারের পাইপ দিয়ে বাগানে পানি দেয়া হচ্ছে। ডান দিকে পুরাটাই আমগাছের বাগান। বাম দিকে মাঝে মধ্যে আম বাগান ছাড়াও সবজী ও ফসলের ক্ষেতও প্রচুর।
