চাইলেন। মওলানা আহমদ আলী জিবরান এদের সবার শ্রদ্ধেয়। তার সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন মনে করেছিলাম। আল্লাহর মেহেরবাণীতে মওলানা নিজেই এসে দেখা সাক্ষাত করলেন বয়ানও করলেন। তারপরেও মনে তৃপ্তি এলনা। এমন সময় পুরানো এক সাথীভাই খুব সুন্দর একটা উদাহরণ দিলেন। কৃষক প্রথম যখন কোন অনাবাদি জমিতে হাল দেয় সে অনেক ক্ষেত্রেই ঐ জমিতে নিজে ফসল বোনেনা। যে ঐ জমিতে ফসল বোনে সে হয়ত ফসল তোলে না। যে ফসল তোলে সেও হয়ত খায় না। খায় অন্য জনে। সে রকম এই যে আমরা এই অনাবাদি জমিতে মেহনত করলাম, একদিন এই মেহনত থেকেই ইনশাআল্লাহ জামাত উঠবে। সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা। সবচেয়ে বড় কথা, রুগী মারা গেলেও ডাক্তার তার ভিজিট ঠিক পেয়ে যায়। সুতরাং আমাদের পরিশ্রম বৃথা যাবেনা।
অবশেষে শেষ হল পাহাড়ের চড়াই উৎরাই এর উঠা-নামা। আমাদের এবারের গন্তব্য পাহাড়ের পাদদেশের সবুজে ঘেরা মসজিদ দাহারে কাফালা। গ্রাম ছোট, মসজিদ আরো ছোট। কিন্তু তাতে কি? সন্ধ্যায় আশে পাশের বিভিন্ন মসজিদগুলো থেকে আসা মেহমানদের উপস্থিতিতে অন্য মসজিদ গুলোর মতো প্রচুর মুসল্লির উপস্থিতির কারণে এখানেও মাইক দেওয়া হল। প্রায় এক ঘন্টার উপর বয়ান হল। এরপর তাশকিল। তারপরেও মওলানা জবরান নিজেও তাশকিলসহ বয়ানে আধঘন্টা সময় নিলেন। এশার নামায আরম্ভ হল সাতটার বদলে সাতটা পঁয়তাল্লিশ মি.। কিন্তু তাতে কি? লোকজন নামায পড়েও বসে বসে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেই থাকল। শেষ পর্যন্ত পৌনে দশটার সময় আমির সাহেব নিজেই ক্লান্ত হয়ে মজমা ভাঙ্গতে বাধ্য হলেন। আমরাও নিজের নিজের জরুরত নিয়ে ব্যস্ত হলাম। সকালের বয়ান শেষে বাইরে এলাম। দিগন্তের কোলে প্রকৃতির স্বপ্ন কন্যারা তখনও আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠেনি। নীড়ের পাখিরা তখনও গেয়ে উঠেনি ঘুম ভাঙ্গানিয়া গান। স্নিগ্ধ মধুর নূরের হাওয়া ঝিরি ঝিরি বয়ে যাচ্ছে শরীর ও মনে হালকা পালকের পরশ বুলিয়ে। মনটা ভরে উঠল আল্লাহর বিচিত্র সৃষ্টির সৌন্দর্য অবলোকনে। মনের গভীর থেকে কে যেন বার বার বলতে লাগল, সুবহানাল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ।
সকালের নাস্তা করা আমাদের প্রায় শেষ। হঠাৎ একটা গাড়ী এসে মসজিদের লাগোয়া রাস্তায় থেমে গেল। হাসি মুখে যে মানুষটি মসজিদের ভেতরে পা রাখলেন, তিনি মোহাম্মদ ইবনে মোহম্মদ, লোকেরা ডাকে মোহাম্মদ ছগীর বলে। হাসি খুশি প্রানবন্ত সুঠাম পুরুষ। বড় মিঠা ব্যক্তিত্ব সবাইকে কাছে টানেন। এসেই বললেন, পাঁচ মিনিটে সবাই রেডি হন। আমরা এখনই বের হব। আসলে মোহাম্মদ ছগীর ভাই সেই অবিস্মরণীয় আপ্যায়নের মসজিদ দাহরে হদ্দ এর একজন নূতন সাথী। গত তিন/চার মসজিদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি তবলীগ পছন্দ করেছেন। ওখানে থাকতেই আমাদের বলে রেখেছিলেন যে,
