ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

অনুভূতির জ্বর আমাদের তখনও আচ্ছন্ন করে রেখেছে। তবু উঠে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণ পরেই তালিম শুরু হবে, তার আগে একটু কায়লুলা করতে হবে তো।
বিকেলে উমুমী গাস্ত শেষে ফিরে এসে দেখি দুই/তিন জন অচেনা মেহমান আমির সাহেবের সাথে কথা বলছেন। আমির সাহেব অক্ষমতা প্রকাশ করছেন কিন্তু তারা নাছোড় বান্দা। কাছে গেলাম। এ কি আজব ব্যাপার। উনারা ‘সাওয়া’ এলাকা থেকে এসেছেন। বাংলাদেশী জামাত এ এলাকায় এসেছে অথচ তাদের এলাকায় যাবে না এটা কি করে হতে পারে। তারা তাদের এলাকায় বিশ দিনের জন্য জামাত চান। মাশোয়ারা করে ঠিক হল যে, বিশ দিন নয় বরং দশ দিনের জন্য আমরা যেতে পারি। তবে শর্ত এই যে, হুদাইদা মার্কাজ থেকে তাদেরই এটা মঞ্জুর করিয়ে আনতে হবে। তারা খুশি হয়ে চলে গেলেন ও বলে গেলেন, প্রত্যেক দিনই তাদের এলাকার দুই একজন সাথী এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন।
কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ অনেক রাত্রে এসে দেখা দিল। ম্লান ও বিবর্ণ আলোতে আলো আধাঁরীর মধ্যে লুকোচুরি খেলায় মেতেছে গিরিকন্যারা। চারদিকের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছোট বড় পাহাড়ের মৌন নিশ্চুপ সমাবেশ। মুখরা প্রকৃতি যেন মুক হয়ে কোন অদেখা অজানা অতিথির জন্য প্রতীক্ষায় কাতর হয়ে বেদনার ভাষাহীন নিথর নিস্তব্ধতায় আত্মমগ্ন। তার মুক মুখে কখন ভাষা ফুটবে সেই প্রত্যাশায় ও সমবেদনার সাথী হয়ে দূরে কাছে মোরগের সরব সাহস যোগান দেয়া ডাক শোনা যাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় চারদিকের পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত সবুজ গালিচার নিরব হাতছানি। আহা! এমনি ক্ষণে তারে বলা যায় এমনি মায়াময় আলোছায়। কিন্তু আমিতো কবি নই। সাথীর উদ্দেশ্যে মেঘের চাদরে মুড়ে মরমের বাণী পাঠানোও শিখিনি। তাই চুপচাপ বসে বসে সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একাকি ভোরের দিকে শুধুই এগিয়ে গেলাম।
দায়ারে হদ্দ হয়ে পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদে আবু রোকবাহ হয়ে পাশের আরেক পাহাড়ের চূড়ার মসজিদে আল মাসাফ পর্যন্ত একই রকম মেহমানদারী চলল। তবে এই পুরা এলাকায় দাওয়াতের মেহনত সম্পর্কে কেউ কিছুই জানেন না। দেশী বিদেশী কোন জামাত আমাদের আগে এখানে কোনদিন আসেননি। আমরাই এই না চষা জমিতে প্রথম হালচাষ দিলাম। প্রচন্ড চেষ্টা চলল দাওয়াতের মেহনত সম্পর্কে অবহিত ও আগ্রহী করে তুলতে। মনে হল বেশ কাজ হচ্ছে। জামাত উঠছেনা কোথায়ও কিন্তু মসজিদওয়ারী জামাত তৈরি ও মাশোয়ারা এবং কেতাবী তালিম করতে সব মসজিদেই মুসল্লিরা রাজী হলেন সানন্দে। এখন জমির ফসল কাটার প্রচন্ড চাপ। কথা দিলেন, এরপর সময় করে তারা হুদাইদার মসজিদ মার্কাজে তিন দিনের জামাত নিয়ে যাবেন। তবে খুব চেষ্টা করবেন আমাদের সঙ্গেই কোন মসজিদে তিনদিন সময় লাগাতে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে জামাতের জন্য নামও লেখালেন এবং কেউ কেউ বাংলাদেশেও আসতে

« <
/ 114
> »