ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

কোন কারণে মেহমান অসন্তুষ্ট যেন না হয় সেদিকটাই ছিল প্রকট ও প্রধান। শুধু প্রাণভরা ভালবাসাই তেমনভাবে চোখে পড়েনি। কিন্তু এখানে নদীর দু’কূল ছাপানো বন্যার মতো ভালবাসা, হৃদয়কে উজাড় করে দেওয়ার মতো আন্তরিকতা এতই স্পষ্ট যে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে তা কাউকে দেখিয়ে দিতে হয় না। হৃদয়তটে আছড়ে পড়া ঢেউ এর মতো তা হিল্লোলিত, তরঙ্গায়িত ও উচ্ছসিত ধারায় মনকে সিক্ত করে তোলে। মনে প্রশ্ন জাগে এত ভালবাসা রাখার মতো বড় হৃদয় কোথায় পাব? নিজের ক্ষুদ্রতা এত বেশি করে চোখে পড়ল যে, নিজেকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে ইচ্ছা করল। হুজুর পাক (স.) এর সাহাবীরা ক্ষুধার্থ শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে নিজেরা না খেয়ে বাতি নিভিয়ে দিয়ে ক্ষুধার্ত অতিথিকে তৃপ্ত করেছেন, যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যু যখন দরজায় সজোরে কড়া নাড়ছে তখনও মরুভূমির মতো আকুল করা পিপাসার সময়ও নিজের পিপাসা অবদমিত করে সাথী ভাইয়ের দিকে শান্তিবারি এগিয়ে দিতে পানি বহনকারী ভাইকে অকুন্ঠ অনুরোধ করেছেন। তারা সেই সাহাবীদের বংশধর, তারা সেই ইয়ামেনীদের অধস্তন গোষ্ঠী। নিজের জমীর পেকে উঠা ফসল কাটা বন্ধ রেখে আমাদের জন্য হৃদয় উজার করা ভালবাসা প্লেটে সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন শুধুমাত্র এই কারণে যে, আমরা দ্বীনের মেহমান। আল্লাহর কাছে দ্বীন বড় মাহবুব এবং আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য ঘর ছেড়েছি। ছোট একটা কাগজ ছাপিয়ে তার উপর বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্ণর স্বাক্ষর করেছেন, ওই কমদামী কাগজটাই সঙ্গে সঙ্গে একহাজার টাকার মূল্যমান পেয়ে গেছে। তাই আমাদের মতো বিশেষতঃ আমার মতো নাচিজ অযোগ্য মানুষও ফুলের তোরার নিচের ডাঁটা বাধা সুতা হয়েও তোরার সঙ্গে একত্রে হাতে হাতে ঘোরার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহ! তোমার মেহেরবানীর কোন তুলনা হয়না। তোমার করুনার তুলনা শুধুই তুমি! হঠাৎ মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগল, এই যে এত অমূল্য খাদ্য সম্ভার দিয়ে পেট ভরালাম আমি কি তার যোগ্য ছিলাম? যে নিয়ামত খেলাম তা থেকে যে শক্তি হবে তা কি আল্লার রাস্তায় প্রকৃতই খরচ করতে পারব? ফার্সী বয়াত মনে হল যা বাংলা তর্জমা করলে এমন বলা যায়:-
একটা রুটি আসলে হাতে খেয়োনা তা গাফলতীতে
মাটি পানি সৌরজগৎ কাজ করেছে এর পিছেতে। ছিলাম একটা গমের দানা, মিলে মিশে খাটলো সবে
অনুমতি দিলেন খোদা, হলাম তোমার রেজেক তবে।
সেই রেজেকের আমরা সদ্ব্যব্যবহার করছি তো? মনে মনে এসব কথা ভাবছি এর মধ্যেই খানা শেষ হবার আগেই ছোট ছোট গ্লাসে চা এসে হাজির। এখন বসে বসে সবার সঙ্গে কাপের পর কাপ চা খাওয়া ও গল্প করা। নানা প্রশ্ন ও তার উত্তর এবং গ্লাসের চা শেষ না হতেই জোর করে আবার ‘শায়ে’ (চা) দিয়ে প্লাস ভরে দেওয়া, এটাই চলল অনেকক্ষণ। এর মধ্যে যার বাড়ীর খাবার যা বেঁচেছে তা তাদের বাড়ী চলে গেছে। এখন উঠার পালা। কিন্তু ভালবাসার তীব্র

« <
/ 114
> »