সাদা ভাত, কেউ গমের পুরু রুটি কেউ জিনারের চিতাই এর মতো পিঠা, তার কোনটা আবার পাউরুটির মতো হাতে বানানো মুঠি পিঠা। সঙ্গে গোস্ত, মাছ ছাড়াও দই দিয়ে ভেজানো পিঠা যা খাবার শুরুতে খেতে হয়। কোন কোন প্লেটে সিদ্ধ ময়দা হাত দিয়ে ছেনে সুন্দর করে পিরামিডের মতো উঁচু করে বসানো যার চারদিকে তিন/চার ইঞ্চি উঁচু কাঁধা পর্যন্ত গাঢ় মধু জমিয়ে রাখা। এছাড়াও আছে কলা ও রুটি কুচি করে তৈরি এক রকমের মিষ্টান্ন যার উপরে ঘন ও পুরু করে লেপে দেয়া হয়েছে মধু। সঙ্গে আছে শশা, টমেটু, ‘খাস’ বা লেটুস পাতার ছোট ছোট টুকরা ও মুলা গাছের কচি কচি পাতা। আরো কিছু ছিল কিনা তেমন খুটিয়ে দেখিনি তবে দুই রকম গোস্ত অর্থাৎ দুম্বা ও মুরগী ছাড়াও দুই তিন রকম ভাজা মাছ তো ছিল অবশ্যই। ঘরের মধ্যে সবার বসা সম্ভব হলো না জন্য অনেকেই বাইরে বসলেন। আমি যে থালায় বসলাম সেটায় অদ্ভুৎ ও রচিশীল মনের ছোঁয়া পেলাম। খালার কিনারার চারদিকে দুই ইঞ্চি হিসাবে ছোট করে কাটা টমেটু, শশা, ‘খাস’ ও মুলা পাতার টুকরা মিশিয়ে সুন্দর করে সাজানো। মধ্যে কয়েকটা ভাজা ছুরি মাছ, তার ধার দিয়ে ঘুরিয়ে মুরগীর গোস্তের বড় বড় টুকরা বসানো।
নতুন জামাই বাবাজীর বিয়ের দিনের প্লেটের মতো। মুরগীর গোস্তের চার ধার দিয়ে দুম্বার গোস্ত সাজানো। সালাদ ও গোস্তের মধ্যে অল্প একটু জায়গা ফাঁকা। থালার এক পাশে দুম্বার চর্বির সুপ ও আরেক পাশে জিনারের চিতুয়া পিঠা ও রুটি-কলার তৈরি মধুর প্রলেপ দেওয়া মিষ্টির থালা। প্রায় পঁচিশ/ত্রিশটা বাড়ী থেকে খাবার এসেছে। সবাই আমাদের ছয় জনকে তাদের প্লেটে বসতে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। কিন্তু সব প্লেটে তো বসা সম্ভব না, তাই নিজের প্লেট থেকে মাছ অথবা গোস্ত এনে তুলে দিচ্ছেন। দুই হাত দিয়ে বাধা দিলেও মানতে চান না। এরমধ্যে একজন এসে বড় এক বাটি গোস্ত জোর করে প্লেটের উপর ঢেলে দিয়ে গেলেন। তাকিয়ে দেখি সব সাথীরই একই অবস্থা। তখনও বাইরে থালা হাতে কিছু বাচ্চা দাঁড়িয়ে আছে। আমার এই অনুল্লেখযোগ্য কমদামী জীবনেও বহু নামী দামী মানুষের সাথে ডিনার খাবার সুযোগ হয়েছে। নাটোর গনভবনে তদানিক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব, বিএনসিসির বিজয় দিবস প্যারেডের সুবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া, নাটোর জেলা উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ২০০১ সালে আসা রাষ্ট্রপতি এরশাদ, সেনাবাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ডিনার ছাড়াও সরকারিভাবে ভারত সফরে যেয়ে ভারতীয় তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে ডিনার খাওয়ার সুযোগ আল্লাহ দিয়েছেন। এমন কি সেই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ও সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে চা চক্রে অংশ নেবারও সুযোগ আল্লাহপাক দিয়েছেন। ক্যাম্প কমান্ডান্ট হিসাবে ক্যাম্পের ও ক্যাম্পের বাইরে অনেক মন্ত্রীর সঙ্গেও ডিনার খাওয়া ও খাওয়ানোর সুযোগ হয়েছে। সেসব ডিনারে নামীদামী বহু মানুষ ও বহু খাবারের সমাহার দেখেছি। কিন্তু সেখানে শ্রদ্ধার সঙ্গে ভয় মিশ্রিত সতর্কতা, নিজের খাওয়ার চেয়ে অতিথিদের অসুবিধা যেন না হয় এটা দেখা,
