বয়স আটাশি বৎসর। তিনিই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। টকটকে গায়ের রং, টিয়া পাখির ঠোটের মতো নাক, সফেদ চুল ও দাড়ি নিয়ে হাসি মুখে তিনি আমাদের বুকের মাঝে টেনে নিলেন। আমার দাদু থাকলে তিনিও হয়ত এভাবেই আমাদের কাছে নিতেন। পাহাড়ী এলাকা। পানি এখানে সবচেয়ে দুর্লভ ও দামী। তবুও কয়েকটি পানি ভর্তি চল্লিশ গ্যালনের কন্টেনার সাজানো। মেঝেতে কার্পেট ছিলই তবুও তার উপর গোটা ঘর জুরে নূতন তিনটা বড় কার্পেট বিছানো হল।
এলাকার মানুষ একে একে এসে দেখা করছেন ও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কেমন যেন মাননীয় অতিথি অতিথি ভাব। জানলাম, এলাকার নাম বনি রুদ্দু, আর মসজিদের নাম মসজিদে দাহরে হদ্দ। যোহরের নামাযের আগে জেনারেটর চালু হল। মাইকে আযান হচ্ছে। এরমধ্যে পানিবাহি ট্রাক এসে মসজিদের ট্যাঙ্কি পুরাপুরি পানি দিয়ে ভরে দিল। এই প্রথম পানির ট্যাঙ্কিতে করে পানি সরবরাহ করতে দেখলাম। নামায শেষ হতেই এলাকার মানুষ সবাই বসলেন, তা’রুফী বয়ান হল। আরো কিছু কথা হল। তারপর সবাই মিলে সামনের একটা বড় ঘরে আমাদের নিয়ে গেলেন। মসজিদের দুই দিকে পাহাড়। একদিকে অনেক নিচে কিছু চাষাবাদ হয়েছে অপর দিকে চূড়ায় উঠে যাওয়ার মতো আঁকা বাঁকা রাস্তা আকাশ ছুঁতে এগিয়ে গেছে। আমাদের বসার ঘরটার একদিকে পাথর গেঁথে তার মধ্যে পাথুরে মাটি ফেলে সমতল করা হয়েছে। সেদিকে পাথর কেটে তৈরি করা সিঁড়ি প্রায় বিশ/পঁচিশ ফিট নিচে নেমে একটা বাড়ীর প্রাচীরের সাথে মিশেছে। অপর পাশে প্রায় পঞ্চাশ/ষাট ফুট উঁচা পাহাড়ের প্রাকৃতিক দেয়াল যার উপর দুই/তিনটা বাড়ী। সামনে একটা ফুল কড়ই গাছ শুকনা হলুদ ফল নিয়ে বাজনা বাজাচ্ছে। হঠাৎ করে দেখি ডান দিকের সেই উঁচু বাড়ীর দিক থেকে সাদা জোব্বা সাদা পাগড়ী পরা কয়েকজন যুবক ও তিন/চারটা শিশু হাতে কিছু নিয়ে নেমে আসছে। এর মধ্যেই বাম দিকের সিঁড়ি বেয়ে বেশ কয়েকজন যুবক, বৃদ্ধ ও শিশু উঠে আসছেন। তাদের সবার হাতে খাবারের থালা। প্রায় একই সঙ্গে উভয় দল এসে ঘরে ঢুকতে চাইল।
এদিকে ঘরের ভেতরে ছোট বড় ছাব্বিশ জন মানুষ আমরা আটটা খাটিয়ার উপরে কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে কথা বলছি। ঘরের বাইরে বসল খাবারের মেলা, তারপরেও দেখি খাবার নিয়ে ছোট বড় ছেলেরা আসছেই। আমরা অবাক হতেও ভুলে গেছি। থতমত খেয়ে আমির সাহেব জানতে চাইলেন, বিষয়টি কি? উত্তর সঙ্গে সঙ্গেই পেলাম। আমরা এসেছি জন্য তারা খুব খুশি। এ জন্য গ্রামের কেউ আজ মাঠে যাননি। সবাই মেহমানদারী করতে চান। কিন্তু যেহেতু দুই দিনে সবাই মেহমানদারী করতে পারবেন না তাই সব বাড়ী থেকেই খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছেন। সব পুরুষ মানুষ একত্রে বসে মেহমানদের সঙ্গে খানা খাবে। যদি কিছু খানা বাঁচে তবে বরকতের জন্য তা বাড়ীতে নিয়ে যাবে। একেক বাড়ীর একেক রকম আয়োজন। কেউ নিয়ে এসেছেন পোলাও এর মত রান্নাভাত কেউ
