মস্তকে মেনে নিলাম। পূর্বের দুই মসজিদের বদলে তিনটা নতুন মসজিদে যাওয়া ঠিক হল জন্য এ মসজিদেও তাই তিন দিনের বদলে দুই দিন থাকব ঠিক হল।
কোন কারণ ছাড়াই রাত আড়াইটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে বাইরে গেলাম। চাঁদের আলোর বাঁধ ভেঙ্গেছে, উছলে পড়েছে আলো। সে আলোয় আমার মনে যে মোহ-এর সৃষ্টি হল তা কোন প্রকৃতি প্রেমিকের হলে খুব ভাল হত। তবু মন্ত্রমুগ্ধের মতো চারদিকে পাহাড় ঘেরা নিচের সমতলভূমির দিকে তাকিয়ে থাকলাম। নিরব নিঝুম প্রকৃতি। গোপনে ফিসফিস করে পাহাড়ের কানে কি কথা বলছিল সে ভাষা আমার জানা নাই। মাঝে মাঝে বাতাসের হালকা সুরের অনুরণন জানিয়ে দিচ্ছিল, পাহাড় আর প্রকৃতির এই নিবিড় মমতাঘেরা ভালবাসার আলাপনের মাঝে আমি এক অহেতুক অনাহুত অতিথি। আপত্তি করছেনা কিন্তু খুব স্বস্তিও বোধ করছেনা। নিরব প্রকৃতি নিথর হয়ে আছে। নিচের সমতল ভূমিকে সবুজের আলপনা দেওয়া মস্তবড় একটা হালকা কালো জাজিম এর মত মনে হচ্ছিল। মাঝে মাঝে একা একা দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলি কালো নক্সা হয়ে দাঁড়িয়ে। অনেক না বলা সুর মনের দুয়ারে এসে বাইরে আসার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতিক্ষা করছিল। এ অপূর্ব অপার্থিব সৌন্দর্য একমাত্র ক্বাদের ও কুদরতওয়ালা আল্লাহ পাকের পক্ষেই করা সম্ভব। জন মানবের কোথায়ও কোন সাড়া শব্দ নেই। শুধু কিছু ফাঁকা ফাঁকা বাড়ী বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো ছিটানো। দরিদ্রের বাড়ীতে প্রস্থর ব্লকের দালান। সেখানে কাঁটা গাছের ঘেরা দিয়ে বাড়ীর প্রাচীর বানানো। কোন কোন বাড়ীতে কাঁটা ঝোপের বেড়ার বদলে মাটি দিয়ে নিচের অংশ বানানো। উপরে যত্ন করে টং এর মতো চাল। আবছা আলো আঁধারীতে এগুলোও প্রকৃতির অংশ বলেই মনে হচ্ছিল। মাঝে মাঝে দূর থেকে মোরগের ডাক হালকা ভাবে কানে ভেসে আসছিল। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে ডুবে ছিলাম। কতক্ষণ এভাবে ছিলাম বলতে পারবনা। হঠাৎ করে কাছেই একটা গাধা ডেকে উঠল একদম বেসুরো কর্কশ গলায়। তারপর পরই আরেকটা। মনে হল আবেশ ভেঙ্গে গেল। তবু আরো কিছুক্ষণ হয়ত থাকতাম, কিন্তু তাহাজ্জুদের নামায পড়নেওয়ালা সাথীরা জেগে উঠেছেন। ফলে আমিও নিজের কাজে মন দিলাম।
নাস্তা শেষ হওয়ার আগেই গাড়ী এসে দুয়ারে প্রস্তুত। এই মসজিদের সাথী ভাইরা গতকাল আমাদের রোখ তাদের মসজিদে করিয়ে নিয়েছেন। প্রস্তুতি ছিলই তাই প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রা হল শুরু। এবারের নূতন মসজিদটা অন্য একটা আরো উঁচু পাহাড়ে। এদিক সেদিক দিয়ে ঘুরে ঘুরে উপরে উঠলাম। হুদাইদার পথে অনেক ‘আরাক’ (মেছওয়াক) গাছ দেখেছিলাম কিন্তু এখানে কোথায়ও আরাক বা জয়তুন এর গাছ দেখতে পেলাম না। পাহাড়ের মাঝামাঝি অবস্থিত ছোট মসজিদ, তবে আধুনিক। এই প্রথম একটি মসজিদ দেখলাম যা শুধুই সাদা চুনা পাথরের টুকরা দিয়ে তৈরি। এলাকার সবচেয়ে মুরুব্বী আহমদ ভাইয়ের
