করেছেন সেই মাকসাদকে, সেই উদ্দেশ্যকে যেন আমরা পুরা করতে পারি। বদলে কেউ যদি কোন আমলের বদলায় আল্লাহ কি কি নূছরত করেছেন, নামাজ পড়ে ব্যবসার কেমন উন্নতি হয়েছে, তবলীগ করে জীবনে কেমন বরকত হয়েছে এ উদ্দেশ্য যদি ওগুলো আমল করি তবে সেটা মখলুকের একিনকেই দৃঢ় করবে। আল্লাহর হুকুম পালন কে মুখ্য করবে না। ফলে তা ব্যর্থতার ভাগারে মুখ থুবরে পড়বে- আখেরাতে কোনই কাজে আসবে না।
শেষ উপায় যা একিন তৈরি করতে সাহায্য করে তা হল, এ সম্পর্কীয় হাদিসসমূহ বারবার শোনা ও পড়া। এক সাহাবী হুজুর (স.) কে জিজ্ঞেস করলেন, ঈমান কি? সরল প্রশ্ন জন্য হুজুর (স.) সরলভাবে উত্তর দিলেন, যদি নেককাজ তোমাকে আনন্দিত করে এবং তোমার খারাপ কাজ তোমাকে দুঃখিত করে তাহলে তুমি মোমিন। এখন আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি, ভাল খাবার, ভাল পোষাক যেমন আমাদের আনন্দের কারণ তেমনিভাবে আমার নামায, রোযা, আমার সকল নেক আমল কি-আমাকে সে রকম আনন্দ দেয়? আসলে আমাদের ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে, তাই অনুভূতিও কমজোর ও অকেজো হয়ে গেছে।
ঈমান ও একিনের পর আসবে ইবাদত। ইবাদতের বুনিয়াদ দুই জিনিষের উপর। প্রথমত: তাওহিদ এবং দ্বিতীয়ত: তাকওয়া। এর মধ্যে তাওহিদ হল বুনিয়াদ আর তাকওয়া হল সমস্ত নেক আমলের জড়। তাওহিদের বুনিয়াদের উপর আমার এবাদত হবে এবং সেই এবাদত হবে তাকওয়ার ভিত্তিতে। আল্লাহ সকল প্রকার হারাম থেকে আমাদের বাঁচতে বলেছেন, চাই সেটা কামাই রোজগার, ব্যবসা বা চাকুরী হোক আর মোয়াশারাত বা অন্য কিছু হোক। নামাযের জায়গা পাক যেমন জরুরী তেমনি জরুরী নামাজে দাঁড়ানো ব্যক্তিটির শরীরও নাপাক না হওয়া- এ নাপাক তার শরীরের রক্ত মাংসের নাপাক যা হারাম ভাবে অর্জিত খানা খেয়ে তৈরি হয়েছে। হযরত ইলিয়াস (রহ.) বলতেন, মানুষ শুকরকে হারাম মনে করে, শুকরের গোস্তকে হারাম মনে করে ও ঘৃণা করে। আল্লাহপাক সুদকে হারাম করেছেন অথচ তা সত্ত্বেত্ত সুদ খাওয়া বা ঘুষ খাওয়া আমরা শুকরের গোস্তের মতো হারাম মনে করিনা বা ঘৃণা করিনা। অথচ দুইটাই একই রকম হারাম, আর এই হারাম রোজগারের দ্বারা তৈরি রক্ত ও মাংসের কারণে আমার নামায ও আমার এবাদত আল্লাহার কাছে পৌঁছে না। সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে।
বয়ান শেষে বাইরের কিছু মেহমান-সাথী তাকে নিয়ে মাশোয়ারায় বসলেন। প্রায় এক ঘন্টা আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হল, আগামীকাল আমাদেরকে অন্য একটি নূতন মসজিদে যেতে হবে। বিদেশী মেহমানকে তারাও চান। বর্তমান মসজিদটি আমাদের খুব ভাল লেগেছিল। কিন্তু কি করা যেতে পারে? মুসাফিরের তো নিজের পছন্দে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নাই। মাশোয়ারাই আসমানের ফয়সালা। সুতরাং তা মেনে নেওয়াই কামিয়াবীর উপায়। আমরাও তাই অবনত
