ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

নমরুন্দ চার মাইল ব্যাপি আগুন জালালো, যে আগুনের উপর দিয়ে পাখি উড়ে গেলে সেই পাখি জ্বলে পুড়ে যেত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) কে যন্ত্রের সাহায্যে ঐ আগুনে ফেলার পূর্ব মুহূর্তে হযরত জিব্রাঈল (আ.) নিজেই পাহাড়ের ফেরেশতা, পানির ফেরেশতা ও বাতাসের ফেরেশতা নিয়ে এসে তাঁকে সাহায্য করতে চাইলেন। কিন্তু তারা সবাই ছিলেন মখলুখ। তিনি সাহায্য নিলেন না। আল্লাহর কাছেও আরজ না করে বললেন, আল্লাহ আমার অবস্থা সবই দেখছেন, তিনি যা চাইবেন তাই হবে। আল্লাহ তাঁর জন্য মাখলুখকে তার গুণ বদলিয়ে দিলেন, আগুন শুধুমাত্র তাঁর জন্য শান্তির আধার হয়ে গেল। আল্লাহর বস্তুর উপর আল্লাহর কুদরত কাজ করল। এর জন্য দুনিয়ার আসবারের কোন প্রয়োজন হল না। তাই মানুষ যখন কালেমার উপর মেহনত করে দিলের রোখকে একিনের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে করে নেয় তখন দুনিয়ার আসবাব এর উপর আল্লাহর কুদরত কাজ করে। মনে রাখতে হবে আল্লাহর কুদরত আসবাবের মুখাপেক্ষি বা অধীনস্ত নয় বরং দুনিয়ার আসবাব তার কাজের জন্য আল্লাহর হুকুমের এবং তাঁর কুদরতের অধীন। হযরত যাকারিয়া (আ.) এর বয়স একশত বিশ বৎসর এবং তাঁর স্ত্রীর বয়স অষ্টানব্বই বৎসর। এ বয়সে সন্তান হওয়া আমাদের বিশ্বাসমতে সম্পূর্ণ অসম্ভব। অথচ হযরত যকারিয়া (আ.) সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দোওয়া করলেন এবং আসবাবের ক্ষমতার বাইরে আল্লাহ মেহেরবানী করে তাঁকে সন্তান দিলেন। সুতরাং মন থেকে আসবাবের ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন বলে একিন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: দিলের একিন পয়দা হওয়ার জন্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের ঘটনা সমূহ আলোচনা করা। হযরত নূহ (আ.) থেকে হুজুরে আকরাম (স.) পর্যন্ত কোরআনে যে সকল ঘটনার কথা আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন সে সম্পর্কে বেশি বেশি করে আলোচনা করা। আল্লাহ পাক এ সকল ঘটনা হুজুর পাক (স.) কে জানিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁর একার জন্য নয় বরং সারা জাহানের সমগ্র মানবকুলের জন্যে। ঈমানদারদের জন্য এসব ঘটনা নছিহত স্বরূপ। এই নছিহত ঈমানদারদের দিলের একিনকে মজবুত করবে। আল্লাহর সকল ওয়াদা তাঁর দ্বীনকে মেনে চলার উপর। তাঁর ওয়াদা একশভাগ সত্য। মোমিন যখন একিনের মজবুতির কারণে আল্লাহর ওয়াদার ছায়াতলে পৌঁছে যাবে তখন দুনিয়া নিজেই তার দরজায় স্বেচ্ছায় এসে কড়া নাড়বে।
একিন তৈরির তিন নম্বর উপায় হল সাহাবা আজমাইনদের জীবনের ঘটনাসমূহ আলোচনা করা। হযরত মওলানা ইউসুফ (রহ.) হায়াতুস সাহাবা নামে যে কিতাব লিখেছেন তার মধ্যে সাহাবাদের ঈমান, আখলাক, মোয়ামেলাত ও মোয়াশারাত সম্পর্কে বহু ঘটনার সন্নিবেশ করেছেন। এসব গুণের কারণে আল্লাহ তাদের কিভাবে গায়েবী নুছরত ও সাহায্য করেছেন তাও সেখানে লেখা হয়েছে। এগুলো আমরা শিখব এ জন্য যে, যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি

« <
/ 114
> »