ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

ওখানে আছে। সবচেয়ে বড়টা সাত হাজার মিটার। তবে সুবিধা এইযে এখানের সব পাহাড় মাটি আর পাথরের মিশেলে তৈরি। বড় বড় বোল্ডার যেমন আছে তেমনি আছে চাষযোগ্য সমতল ভূমি। সেখানে প্রচুর চাষবাস হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়ীতেই অন্তত দুই/একটা গাধা, প্রচুর ছাগল ও দুম্বা, কারো কারো বাড়ীতে উট। মটর গাড়ী ও মটর সাইকেল তো প্রায় সব বাড়ীতেই আছে। যে মসজিদে আমরা উঠলাম তা বিরাট বড় একটা হোতলা মসজিদ, উপর তলায় মূলত মদ্রাসা। মস্তবড় সুদৃশ্য পাঁচ তলা মিনার বহু দূর থেকেই চোখে পড়ে। ছিমছাম পরিবেশ। ডক্টর, মওলানা, হাফেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আহমদ আলী জিবরান-এর এলাকা। তিনি নিজেই উপস্থিত ছিলেন। গোটা ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় তিনজন আলেমের মধ্যে তিনি একজন অথচ কত অমায়িক। প্রফেসর জিবরান মক্কায় পিএইচডি করেছেন। ওখানেও তার ভালই পরিচিতি আছে। মসজিদটি তিনি সৌদি আরবের অর্থানুকুল্লে বানিয়ে নিয়েছেন। সাদা কালোসহ বিভিন্ন রং এর পাথর দিয়ে গাঁথা, মিনারের ক্ষেত্রে অন্যান্য পাথরের সঙ্গে সিরামিক ইট ব্যব্যহার করেছেন। মিনারের নিচে মাটির তলায় গভীর ও বিরাট পানির ট্যাঙ্কি। ছাদের উপরে পড়া বৃষ্টির পানি বাইরের পাইপ বেয়ে নিচে এসে এই ট্যাঙ্কিতে জমা হয়। প্রায় সারা বৎসর অজুর জন্য এই পানি ব্যবহার করা হয়। অজুখানা ও টয়লেট একটু দূরে এবং টাইলস লাগানো আধুনিক ব্যবস্থাপনা, নিজস্ব জেনারেটরের বিদ্যুৎ, মেঝেও টাইলস দিয়ে করা। এক কথায় সুন্দর ও সুরুচির ছাপ এমনিতেই চোখে ধরা পড়ে।
আমাদের অনুরোধে দ্বিতীয় দিনের বাদ মাগরিব বয়ান ছিল মওলানা জিবরান-এর। তাঁর বয়ান মানেই শুধুমাত্র কুরআন ও হাদিস এর উদ্ধৃতি। মনে হয় যেন সামনে বই রেখে দেখে দেখে বলছেন। কোথায়ও কোনভাবে আটকায় না। দ্বীনের যে আমানত হুজুর পাক (স.) আমাদের কাছে রেখে গেছেন তার কতটুকু আমানতদারী আমরা আদায় করছি? এমনকি আমানতের বদলে খেয়ানতের জন্য যে দায়ী হয়ে গেছি সে বোধও কি আমাদের আছে? কতজন এ সম্পর্কে সচেতন? তার বয়ানে বারবার এ প্রশ্ন মনে জাগল। তবলিগের মেহনত সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনি ঈমান ও একিন নিয়ে আলোচনা করলেন যা অনেকটা এরকম:
হযরত মওলানা সাদ বলেছিলেন ঈমান শেখার চারটা রাস্তা বা উপায় আছে। প্রথমত: আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই মখলুক এবং আল্লাহ খালেক। মখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর আল্লাহ সব কিছুই করতে পারেন সব কিছু ছাড়া এই বিশ্বাস দিলের মধ্যে পয়দা করা ও একথার দাওয়াত দেওয়া। যখন এ কথার দাওয়াত অন্যকে দেব তখন তা আমার দিলের মধ্যে একিন বা দৃঢ় বিশ্বাসের জন্ম দেবে। হযরত ইব্রাহিম (আ.) যখন মখলুখ থেকে খালেকের দিকে নিজের রোখ ফেরালেন তখন আল্লাহ তাঁকে পরীক্ষা করতে চাইলেন।

« <
/ 114
> »