পাহাড়ী কন্যার ঝরোকায়
আমাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল জাহারে মদিনা। প্রথম ২০ দিনের রোখ ছিল মরুভূমিতে- বালু আর বালিয়ারীর সমুদ্র মন্থন করে বাড়ী বাড়ী যেয়ে দাওয়াতের মেহনত করেছি। নদী সাগর সমতলভূমী ছেড়ে মরুর বালীতে অবগাহন করেছি হাতে পায়ে বালু লাগলে ঝাড়লেই পরিস্কার হয়ে গেছে। হাঁটতে যেয়ে বালুতে পা বসে গেলে মনে হয়েছে আল্লাহর প্রিয় হাবিব, সকল নবীদের সর্দার, রহমাতুল্লীল আলামিন এই রকম মরুভূমিতেই মেষ চড়িয়েছেন। দিন রাত্রি কুফরের অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষকে দোজখের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য দ্বারে দ্বারে বারে বারে ঘুরে ঘুরে হয়েছেন ক্লান্ত, অবিশ্বাসীদের দ্বারা হয়েছেন নিপীরিত ও লাঞ্ছিত। তার পরেও সারা রাত জেগে শ্রান্ত শরীরে আল্লাহর দরবারে করেছেন রোনাজারী। মাফ চেয়েছেন তাদের হয়ে যারা তাঁকে দিয়েছে অবহেলা আর অনাদর, ভালবাসার বদলে দিয়েছে অত্যাচার, ঘৃণা আর অপমান। তারপরেও মানবতার নবী রহমাতুল্লিল আলামিন একটুও মুখ ফিরিয়ে নেননি বরং কেমন করে দাওয়াতের মেহনতকে আরো সফল করে তোলা যায় সেই চিন্তায় হয়েছেন বিভোর। যদি কোনদিন দুপুরের রোদে বালু যখন মুড়িভাজার মতো উত্তপ্ত গরম হয়ে উঠেছে, হঠাৎ করে সেই বালু পায়ে লাগলে মাথা পর্যন্ত তার তেজ অনুভব করেছি। মনে হয়েছে এর চেয়েও অনেক গুণ বেশি উত্তপ্ত বালুর উপরে হযরত বেলাল (রা.) ও হযরত খাব্বাব (রা.) কে শুইয়ে রাখা হয়েছে ঈমানহারা করার প্রয়াসে। যেন নড়াচড়া করতে না পারেন সে জন্য বুকের উপর ভারী পাথর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার আগে ও পরে তো অকথ্য শারীরিক নির্যাতনও সইতে হয়েছে। তবু মুখে এক বুলি ‘আহাদ’। মৃত্যুর পূর্বেই তাঁরা কেন যে “রাযিআল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু” হয়েছেন তা একটু হলেও বুঝেছি। কত কঠোর কঠিন আত্মত্যাগ করেছেন, কত ফকিরী জীবন যাপন করেছেন তা ভেবে বার বার অবাক হয়েছি। অত্যাচার ও নির্যাতনের স্ট্রিম রোলার চালানো ঐ যুগে জন্মালে আমাদের এই দুর্বল ঈমান নিয়ে আমরা কি আমাদের ঈমান ঠিক রাখতে পারতাম! না মুরতাদ হয়ে যেতাম! আল্লাহ আলিমুল গায়েব। তিনি আমাদের দুর্বলতা জানেন। তাই সেই কঠিন সময়ের পরীক্ষায় না ফেলে, আরামের এই নিশ্চিন্ত নিরাপদ জীবনে মুসলমান পিতা মাতার ঘরে মুসলমান সংখ্য গরিষ্ঠ দেশে জন্ম দিয়েছেন। লাখো কোটি শুকরিয়া তাঁর দরবারে। অগনিত বার বলি, আলহামদুলিল্লাহ।
পাহাড়ী কন্যার দেশ জাহারে মদিনা এখান থেকে পঁচিশ কিলোমিটার। পাকা রাস্তা দিয়ে দশ/বার কিলোমিটার যাওয়ার পর মেটে বালু কাঁকড়ের রাস্তা। ঘুরে ঘুরে আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে যখন পাহাড়ের রাজ্যে উপস্থিত হলাম তখন সবদিকেই পাহাড় দিয়ে ঘেরা। জাহারে মদিনার চেয়ে আরো উঁচু দুইটা পাহাড়
