ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

৭। হওয়া পর্যন্ত নতুন দম্পতি এই ঘরে থাকবে। বাচ্চা হলে পাশেই নিজের পাকা ঘরে স্বামী স্ত্রী পার হবে। হুজুর পাক (স.) এর ঘর এরকম সাধারণ ছিল। তাই এই রকম ঘরেই তারা নূতন জীবন শুরু করতে চায়। জানতে চাইলাম, এই পুরাতন ঘরের রহস্য কি? সে জানাল, ঘরটা তার দাদার। তাই এটা পারিবারিক ঐতিহ্য হিসাবে রেখে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু ওর একার ক্ষেত্রে নয় বরং সামাজিকভাবেই ওরা এটা মেনে চলার চেষ্টা করে থাকে। বরের বাড়ীতেই দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট বড় সব ধরনের পুরুষ মানুষ দাওয়াতের খানা খেল। কিন্তু একটা ছোট্ট মেয়েকেও সেখানে দেখলাম না। বাড়ীতেও গান বাজনা বা হৈ চৈ নাই। পোলাও এর উপরে রাংতায় মোড়া গোস্ত ও বাটিতে সুপ। সবার জন্য একই রকম খাবারের ব্যবস্থা। শুনলাম, বর বিয়ে করতে যাবে রাত দশটায়। মনে মনে বরের বিয়ের সাজ গোজ ইত্যাদি দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। এশার নামাযের পর বিয়ে বাড়ীতে যেয়ে দেখি ওখানেই একটা খাটলায় বর বসে আছে। একটা খাটলার উপর একটা নতুন কম্বল বিছানো, তার উপর দুই ধারেই চারটা করে আটটা বালিস। এসব খাটলার প্রত্যেকটায় একজন করে বসতে হয়। দেখলাম এক দিকের বালিশে হেলান দিয়ে বর বসে আছে, অপর দিকের বালিশের সঙ্গে একটা কলাসনিকভ (এ,কে-৪৭)-রাইফেল হেলান দিয়ে রাখা। এখানে প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতেই এ অস্ত্রটা আছে এবং বাড়িতে একটা বন্দুক থাকলে তা নিয়ে আমাদের যত সতর্কতা এদের তাও নেই। একটা লাঠি পড়ে থাকা আর রাইফেল পড়ে থাকা মনে হল একই রকম। বেশ কিছু ছোট ছেলেপেলে (কোন একটা ছোট মেয়েও নেই) ঘুরাঘুরি করছে। তারাও ওদিকে ফিরেও তাকচ্ছে না।
বর উঠে এসে আমাদের সঙ্গে বসে গল্প করছে। দুপুরের পোষাকের সঙ্গে পার্থক্য যা দেখলাম তা হল, বর মেহেদী দিয়ে সারা শরীর ডলে নিয়ে গোসল করেছে। হালকা মেহেদীর রং টের পাওয়া যাচ্ছে। দুপুরের মতই একটা পুরাতন সার্ট ও লুঙ্গি। মাথায় টুপির উপর সাধারণ একটা রুমাল পাগরীর মতো পেঁচানো। নতুনের মধ্যে শুধু একটা মস্তবড় বেলী ফুলের মালা। প্রায় হাটু পর্যন্ত লম্বা। বিয়ের পর বর কনেকে এই মালাটাই পড়িয়ে দেবে। মেয়ের বাড়ীতে বরযাত্রীদের জন্য কোন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা নাই। বর যাবে, বিয়ে পড়ানো হবে তারপর বরকনেসহ সবাই বাড়ী চলে আসবে। শুনেছি অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রেই একই রকম চিত্র। একার ক্ষেত্রে নয় বরং সামাজিকভাবেই ওরা এটা মেনে চলার চেষ্টা করে থাকে।
শরীয়ত মোতাবেক একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটা বিয়ে করার জন্য এদেশে কোনই বাধা, নিষেধ নাই-বিশেষতঃ মেয়েদের পক্ষ থেকে তো একদমই না। আরাবাহিকতায় যদি দশটা বিয়েও করে তবু কোন আপত্তি নাই। স্বামীর সংসার

« <
/ 114
> »