পাশে দুইটা করে চল্লিশ গ্যালন ভরা পানি নিয়ে ছোট ছোট মেয়েরা এসে হাজির। এক এক করে বারটা গ্যালন জমা হল। এর মধ্যেই বড় একটা ড্রাম এসে হাজির। বড় ড্রামে পানি ঢেলে রেখে বাচ্চাগুলো আবার গাধার পিঠে রওয়ানা হল। এর মধ্যে সাইকেলের ভটভটি বাজিয়ে সাথী ভাই ফিরে এলেন, সম্মুখে সাইকেলের উপরে বসানো খাওয়ার পানি ভরা ট্যাঙ্কি। সব মসজিদের এলাকায়ই দশটা থেকে বারটার মধ্যেই বরফ নিয়ে ট্রাক আসে। যার যা প্রয়োজন বরফের চাঁই নিয়ে খাওয়ার পানির ট্যাংকিতে ছেড়ে দেয়। সারাদিন রাত বরফ গলানো ঠান্ডা পানি খেতে বড় আরাম লাগে। পানি ঘরে নিয়ে রাখা হল এবং যথাসময়ে বরফ এল। অবশ্য ঠান্ডা পানিসহ ছোট একটা ট্যাংকি আগেই কেউ একজন দিয়ে গিয়েছিলেন। হঠাৎ পলিথিনের প্যাকেটে আমাদের জন্য কয়েকটি তুলসি পাতার মতো গুল্ম গাছের পাতাসহ ছোট ছোট ডাল নিয়ে একটি ফুটফুটে ছোট মেয়ে এসে হাজির। জিজ্ঞেস করে জানলাম এটা রাইয়ান গাছের ডাল ও ফুল। বেশ সুগন্ধি। বেহেশতী বান্দাদের জান কবজের সময় পাঁচশত ফেরেশতা এই ডাল নিয়ে এস্তেকবাল করতে আসবে। খুব যত্ন করে রেখে দিলাম।
দুপুরে বিয়ে বাড়ীতে দাওয়াত। এ দাওয়াত অবশ্য সাত দিন আগেই নাজারিয়া মসজিদে পাওয়া। এই সুযোগে এ দেশের বিয়ের কিছু খন্ড চিত্র পাওয়া গেল। মেয়েরা এখানে পিতামাতার গলগ্রহ নয়। সমগ্র আরবেই মেয়ের বিয়েতে বাপ মায়ের দুশ্চিন্তা নাই। ছেলে পক্ষকে মেয়ের নগদ মোহরানা দিতে হয় প্রচুর। এছাড়া মেয়ের কাপড়-চোপড়সহ অলঙ্কারাদি, প্রসাধনি, ওলিমার যাবতীয় খরচ সবই বরকে দিতে হয়। গালেব আব্দুল্লাহ আব্বাসী তবলীগের সাথীর মেয়েকে বিয়ে করছে। মাত্র দুই লাখ রিয়েল দেনমোহর দিতে হয়েছে। না হলে কমপক্ষে পাঁচ/সাত রিয়েল দিতে হত। এখানে বিয়েতে মেয়েদের বাড়ীতে কোন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা নিষেধ। যে জিনিষটি আমার কাছে বেশি গুরুত্ব পেল তা হল বিয়ের বাসর ঘর। চারদিকে ঘেরা ফসলের ক্ষেতের মধ্যে পাথরের ব্লকের প্রাচীর ঘেরা বাড়ী, দুইটা গাধা, তিনটা গরুওয়ালা সচ্ছল গৃহস্ত পরিবার। নিজস্ব সেচ ব্যবস্থাপনা। সকালেও আসার সময় আট/দশটা বোরখা পড়া মেয়েকে বাড়ী সংলগ্ন জমিতে কাজ করতে দেখেছি। এসব মেয়েদের স্বামীরা বিদেশে চাকুরী করে আর মেয়েরা পরের জমিতে কাজ করে। বিয়ে বাড়ীতে কোন সাজ সজ্জা নাই। যেখানে মেহমানদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে তার পাশেই একটা টং-এর মতো ঘর। দেওয়ালের জংলা গাছ-গাছরার মধ্যে তিলের গাছও দেখলাম। অন্যসব বাড়ীতে দেখা ঘরের মতোই গোল করে আবর্জনা দিয়ে ছাওয়া। ভেতরে দুই/তিনটা নূতন খাটলা ও কয়েকটা বালিশ। সম্মুখে ঢোকার একটি জায়গা- দরজাও বলা যেতে পারে। এটাই হল বরবধূর বাসর ঘর। রাত্রে একটা পর্দা অথবা চাদর দরজায় টাংগানো হবে। আর কোন কিছুই নাই। বাচ্চা
