প্রথম ব্যাচ ও বিকাল/সন্ধ্যায় এক ব্যাচ পড়তে আসে। উপস্থিতি প্রচুর এবং পড়ার ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি আছে। এখানে এসে আরো একটা ছোট পরিবর্তন চোখে পড়ল। বোরখা কালো থাকলেও দুই একটা ছাত্রীর ওরনা রঙ্গীন। বাবলা গাছ প্রায় নাই তবে প্রচুর বড়ই গাছ এবং প্রতিটি গাছই অসম্ভব রকমের ফসলের ভারে অবনত। কিন্তু খাওয়ার মানুষ কৈ? খাওয়ার বিষয় খুব বেশি লিখেছি জন্য ভেবেছিলাম এ বিষয়টি আর কোন বর্ণনায় আনব না। কিন্তু আজ দুপুরের কথা না লিখে পরলাম না। এক শেখের বাড়ী দুপুরের দাওয়াতে গাড়ী করে নিয়ে গেল। আলহেলাল মসজিদে বয়ান করা সেই বিখ্যাত ইয়ামেনী আলেম ড. মওলানা আহমদ হোসেন জিবরান হঠাৎ করে দুপুরে এক নং ফুটবলের সাইজের কতগুলো খিরা ও এককুরি কলা নিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসে হাজির। খুবই গুনী মানুষ। প্রথমে সউদি আরবে পড়াশুনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে সুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ছয় বৎসর। তারপর আবার কিং ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বৎসর পড়ে ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়েছেন। অসম্ভব ব্যস্ত মানুষ- বহু জায়গায় পড়াতে হয়। এলাকার তিনশত মাদ্রাসার তিনি প্রিন্সিপাল। তাছাড়াও অনেক সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আসায় আমরা খুবই খুশি হলাম ও আমরা উনাকে নিয়েই দলবেঁধে দাওয়াতে গেলাম এবং যথারীতি চমকে গেলাম। কমপক্ষে একেকটা ঘোল/সতের ইঞ্চি করে লম্বা গোটা গোটা কালচাঁদা (রূপচাঁদার মতো ছোট সাইজের নয়) জাতীয় মাছ আগুনে ভাজা, প্রত্যেক বড় প্লেটে দুইটা করে। সঙ্গে গোস্তসহ অন্য তরকারী ছালাদ ইত্যাদি তো আছেই, কমপক্ষে দশ/বারটা মাছ। আল্লাহু খায়রুর রাজেকীন।
সকালের সালাতের পর বাইরে এলাম। এখনও সূর্য উঠেনি, পুব দিগন্তে হালকা লাল গোলাপী ছোপ পড়তে শুরু করেছে কেবল। পূর্ব দিগন্ত জুড়েই পাহাড়, হালকা কালো আঁকা বাঁকা উঁচু নিচু অসমতল খাঁজকাটা। মনে হল, আকাশে হেলান দিয়ে থাকা পাহাড়ের ঘুম এখনও ভাঙ্গেনি। একটু ক্ষণ পরেই বোধহয় ধরমর করে উঠে বসবে।
আমাদের দুয়ারে পালকি দাঁড়িয়ে। মওলানা ইয়াহহিয়া তার গাড়ী নিয়ে এসেছেন নূতন মসজিদে লিফট দেবেন বলে। ঐ এলাকায় তার ছোট ভাইয়ের বাড়ী। আজকেই সন্ধ্যার পর ভাই আব্দুল্লাহর বিয়ে। আবার এলাকার মাসতুরাত জামাতও কিছু পরে এসে তার বাড়ীতেই উঠবে। প্রচন্ড ব্যস্ততা তবু তিনিই লিফট দেবেন আর কাউকে সুযোগ না দিয়ে।
মসজিদটির নাম দারে খালাইয়া। বেশ বড় ও পুরাতন মসজিদ- পরে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। মসজিদে পানির ট্যাঙ্কি নষ্ট। চিন্তার ভাজ কপালে-কিন্তু সমাধান হতে বেশি সময় লাগল না। সাথী ভাই মোটর সাইকেল চালিয়ে চলে গেলেন। আমাদের মাশোয়ারা শেষ হয় নাই- এর মধ্যেই গাধার পিঠের দুই
