খাবার এসে হাজির। স্থানীয় সাথীরা আমাদেরকে না খাইয়ে যেতে দেবেন না। সুতরাং বসতে হল। স্থানীয় তিনজন সাথী দুই দিন হল আমাদের সঙ্গে তিনদিন এর সময় লাগাচ্ছিলেন। তারাও একদিনের জন্য আমাদের সঙ্গে রওয়ানা হলেন।
ইয়েমেন এয়ারপোর্টে আমাদের ভিসা দিয়েছিল মাত্র দুই মাসের জন্য। এটাই এদেশের নিয়ম, বিশ/পঁচিশ দিন পর সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে হয় একটা মোটা অংকের ফিসসহ। পূর্বের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজকে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ফিসসহ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে ভাই আলী হাসান নাজ্জারী ভোর বেলায় মোটর সাইকেল নিয়ে এ মসজিদে এসে হাজির। আমির সাহেবও আগে থেকেই তৈরি ছিলেন, তবু স্থানীয় সাথীদের অনুরোধে নাস্তা করেই দুই জনে হুদাইদার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। আমির সাহেব ছিলেন আমাদের একমাত্র মুতারজেম। তবু আমাদের সঙ্গে মুতারজেম কেউ না থাকলেও আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে থেকে গেলাম। কথা ছিল বারটার মধ্যেই উনারা কাজ শেষে ফিরে আসবেন, কিন্তু হুদাইদায় মার্কাজের মাশোয়ারা ঐ দিন এশাবাদ ছিল বিধায় তাদের বেশ রাত করে ফিরতে হল। তবে এতে অবশ্য আমাদেরই লাভ হল। পরবর্তী বিশ দিনের রোখ মার্কাজ থেকে উনারা দিয়ে দেওয়ায় আমাদের আর হুদাইদা যেতে হবে না। বর্তমান মসজিদে তিনদিনের বদলে দুইদিন এবং পরের রোখের বিশ দিনের মেয়াদকে একুশ দিন করে দিলেন উনারা। যাই হোক ফয়সালা আসমানের এবং আমাদের জন্য সর্বাবস্থায় আলহামদুলিল্লাহ।
এই এলাকা শস্য শ্যামল, দিগন্ত ছোঁয়া ফসলের ক্ষেত আমাদের দেশের ধান সবুজ মাঠের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে এখন ফসল তোলা সবে শুরু হয়েছে। বিশাল বিস্তৃত মাঠে বলিষ্ঠ জোয়ারীর ঘন সবুজ আস্তরণ। মাথায় সোনালীর বদলে গাঢ় চকলেট অথবা সবুজের আলপনা। মাঝে মধ্যেই ক্ষেতের মাঝে খোলা তৈরি করে ফসল কেটে জাগ দেওয়া হয়েছে। ধানের পালার মতো গোল করে এক আটির উপরে অন্য আটি না বিছিয়ে, এখানে আটি গুলি খারা লম্বা করে সাজানো হয়, ফলে দূর থেকে চুড়া উঁচু কুঁড়ে ঘরের মতো দেখায়। জমি দেখে মনে হল, এখানে ডিপ টিউব অয়েলের মাধ্যমে গম ও আলু চাষ করলে গোলায় ফসল ধরবে না। এসব কিছু দেখলাম জিয়ারার সময় মাঠের মধ্য দিয়ে জোয়ারী বনের মাঝ দিয়ে এক শেখের খামার থেকে অন্য শেখের খামারে যাওয়ার সময়। এখানে আধুনিকতার আরো কিছু লক্ষণ টের পাওয়া গেল। কিছু কিছু বাড়ীর ভেতরে ঘরের সামান্য উপরে টিভির এন্টিনা দেখা যাচ্ছিল বলে। তবে বাইরে কোথায়ও টিভি বা রেডিও দেখা গেলনা এবং কোন বাড়ীর বাইরে থেকেই কোন প্রকার আওয়াজও পাওয়া গেলনা। ছোট ছেলেরা মসজিদে এবং ছোট মেয়েরা কোন বাড়ী বা চারদিকে ঘেরা কোন মাদ্রাসায় দিনে
