ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

মাথাল ঐদিকে কাত করে দেয়। পাতার চিকন ডাটাগুলো সুন্দর ও শক্ত ঝাঁটা হিসাবে ব্যবহার হয়। যাহোক সকালে খিচুরী খাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে দোকানে যেয়ে আবার ধাক্কা খেলাম। দোকানে পেয়াজ ছাড়া মসল্লা নাই। কাঁচামরিচ চাইলাম, কিন্তু পাব কি ভাবে? ঝালকে এরা বিষ মনে করে। তাই কালজিরা এবং ঐ টাইপের অন্য এক রকম বিচি দিল। রসুন নাই। ফিলফিল (কাঁচামরিচ) এর বদলে শেষে বাড়ীর ভেতর থেকে দুইটা আধাভাঙ্গা শুকনা মরিচ দিল। রশুন বুঝাতে শেষতক পিয়াজ হাতে নিয়ে বলা হল এই রকম সাদা এবং ভেতরে অনেক গোটা মিলে একেকটা হয়। পরে বুঝতে পেরে একজন বাড়ী থেকে একটা বড় রশুন নিয়ে এল। এখানে এ্যাংকর ও সোয়াবিনের ডাল বেশি চলে। চাল প্রায় প্রত্যেক ছোট বড় দোকানেই পাওয়া যায়। এখানের তরমুজ (হাবহাব) গুলো আমাদের দেশের বড় বেলের সমান। ভেতরটা লাল এবং বেশ মিষ্টি। ঝাল হিসাবে অনেকে গোল মরিচও ব্যবহার করে। মরিচের ঝাল দেখলে বিষ বিষ বলে আতঙ্কিত আওয়াজ তোলে।
দিয়ারে জব্বাল-এ আমাদের থাকার কথা দুই দিন। এই মরু এলাকার মেয়াদ আমাদের জন্য বিশ দিনের। ফলে এই মসজিদে আমাদের থাকার মেয়াদ তিন দিন হলেও কোন একটি বিশেষ মসজিদে দুই দিন থাকতে হবে। এলাকার নাম জব্বাল-তাই মসজিদের নাম দিয়ারে জব্বাল। অন্যান্য মসজিদের মতো এরও উঠানের কিছু অংশ পাকা করা। গতকাল রোববার ৮/২/০৯ ছিল পূর্ণিমা। মসজিদের বাইরের চত্বরে মাগরিব এর নামাজের আগে জায়নামাজ বিছিয়ে জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যে কোন কারণেই হোক স্থানীয় পাওয়ার সাপ্লাই কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ দিতে দেরী করল। ফলে ভরা পূর্ণিমার আলোয় এত চমৎকার একটা স্নিগ্ধ ও মায়াময় অবস্থার সৃষ্টি হল যা শুধুই অনুভবের। প্রায় সত্তর/আশি জন মানুষ- নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছে। অনেকটা ইংরেজি সাহিত্যের কবি কোলরিজের দি রাইম অফ দি এনসেন্ট মেরিনার কবিতার সেই “Painted ship in a painted occan” (আঁকানো সমুদ্রের বুকে আঁকানো জাহাজ) এর মতো মনে হল। ছোট বাচ্চা মজমায় প্রায় নাই বললেই চলে। এখানে দেখলাম, শ্রোতাদের মধ্যে যুবক শ্রেণীর সংখ্যাই বেশি। মনে হয় এলাকার যুবকেরা চাকুরীর চেয়ে জমিতেই বেশি কাজ করে।
দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যার আগেই খবর পেলাম বা’দাল-এশা আমাদের পরবর্তী মসজিদে চলে যেতে হবে। ভাই মওলানা আব্দুল আওয়াল গতকালই বিশেষ করে অনুরোধ করে এলাকার সাথীদেরও রাজী করিয়ে রেখে গেছেন। মসজিদুল হিন্দ এখান থেকে দশ/পনর কি.মি.। প্রথমে বড় রাস্তা দিয়ে উত্তরে যেতে হবে। সন্ধ্যার পর পরই গাড়ী এল। আজও মসজিদের বাইরেই চাঁদের আলোয় বয়ান হল। আজও অনেক মেহমান এসেছিলেন। নামায শেষ হতে না হতেই রাতের

« <
/ 114
> »