বেজিও ঢুকতে পারবে না এই কাঁটা বেড়ার প্রাচীর ভেদ করে। প্রচুর মোরগ মুরগী ইতস্ততঃ খুঁটে খেয়ে বেড়াচ্ছে। এখানেই প্রথম এঁটেল মাটির দেওয়াল চোখে পড়ল। বালুর মধ্যে মাটির মিশেল স্পষ্ট। প্রচুর কুল গাছ। তবে কুলের সাইজ খুব ছোট এবং গাছ ভরা এত কুল যে মনে হয় ডাল ভেঙ্গে যাবে। কুলকেও এখানে সিডর বলে। হঠাৎ দুইটা বটগাছের মতো কুল গাছ দেখলাম যার বের তিনজনেও পাওয়া যাবে না। বলতে ভুলে গেছি, দ্বিতীয় রাত্রে মসজিদে দাহরে বাইনে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ/চল্লিশ জন বিভিন্ন এলাকা ও মসজিদের মেহমান এসেছিলেন, তাদের মধ্যে ভাই আব্দুল্লাহ নামে একজন ছিলেন যাকে সবাই হযরত আলী (রা.) এর পঁচিশতম বংশধর বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন। শান্ত, নম্র সদালাপি ভাই আব্দুল্লাহ এর কাছে তাদের বংশ লতিকা চাইলাম। তিনি পরে দিতে চাইলেন। যে বইটাতে এ সম্পর্কে প্রবন্ধ লেখা হয়েছে তার দাম ইয়েমেনি ৪,০০০/-(চার হাজার) রিয়েল। সানা বা হুদাইদাতে পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানালেন। এশার নামায শেষে কিছু সাথী এবং রাত্রের খাবার খেয়ে বাকী মেহমান সাথীরা চলে গেলেন। ভাই আব্দুল্লাহর সাথে পরে আর দেখা হয়নি।
তালগাছের মাথা কয়টা হয়? সোজা উত্তর একটা। হয়ত কোন স্থানে ব্যতিক্রম দুইটাও হতে পারে। এখানে এমন গাছ খুবই কম আছে যার মাথা একটা। দুই, তিন, চারটা মাথাতো প্রায় প্রত্যেকটা গাছেরই। আমাদের মসজিদের কাছের একটা বাগানে মনে হল বেশি মাথা ওয়ালা গাছ দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার আগে আমি ও আটঘরিয়ার হাজী মিজান ভাই যেয়ে দেখি একটা গাছের আটটা মাথা। প্রথমে জমি থেকে একটা গাছ উঠে হাত খানিক উপরে যেয়ে চারটা ডাল হয়েছে এবং উপরে প্রত্যেক অংশে দুইটা করে ডাল হয়ে মোট আটটা মাথা। খবরটা আমির সাহেবকে বলায় উনি নিজেও স্থানীয় এক সাথীকে নিয়ে গাছ দেখে এলেন। কিন্তু এবার আরও চমক আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ওখান থেকে একটু দূরে অন্য একটা বাগানে যেয়ে আমরা অবাক হতে ভুলে গেলাম। মাটির উপরে উঠে গাছটি চার ভাগ হয়েছে এবং প্রত্যেক ভাগ উপরে উঠে আবারও চার ভাগ হয়েছে। সর্বমোট ষোলটি মাথা। তার মধ্যে একটা ডালের চার মাথার দুইটা মাথা মরা মরা হয়ে গেছে- মনে হল মরে যাবে। এ এলাকার প্রত্যেকটা তাল গাছই খুব চিকন এবং মাথার উপরের দিকে চার/পাঁচটা পাতা রেখে বাকি পাতা কেটে নেওয়া হয়। এই পাতা চিকন করে চিরে হ্যাট, ঝুড়ি, খাটলা ও বেড়া বাঁধার দড়ি ইত্যাদি তৈরি করার কাজে ব্যবহার করা হয়। খুব মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী হ্যাট এর মতো মাথাল তো মাঠে কর্মরতঃ প্রায় প্রত্যেক মেয়েদের এবং কিছু কিছু পুরুষের মাথাকে রোদ থেকে রক্ষা করে। মেয়েদের বোরখা ছাড়া এই মাথাল পরদারও কাজ করে। মানুষ জন দেখলে
