পরবর্তী মসজিদ “দারে যাইন” যাবার আগেই আমরা ঠিক করেছিলাম যে, এবার আমরা কোন ভাবেই স্থানীয় সাথীদের খেদমত নেব না। এ জন্য মসজিদে এসেই আমাদের খেদমতের সাথীরা বাজারে যাবেন বলে ঠিক ছিল। আমরা এখন শহরের অনেক কাছে চলে এসেছি। বাজার মাত্র দুই কি.মি.। ফলে খেদমতের দুই সাথী চুপচাপ বাজারে চলে গেলেন। কিন্তু পঞ্চাশ হাজার বছর আগের ফয়সালা পাল্টাবে কে? যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়। বাজারে যেয়ে উনারা তরিতরকারির দাম শুনছেন এর মধ্যেই এলাকার সাথীদের সঙ্গে দেখা। তারা তো হা হা করে উঠলেন। ইতোমধ্যেই তাদের বাজার হয়েছে, রান্নার কাজও চলছে। সুতরাং কোন কিছুই কেনা যাবেনা। বুঝিয়ে কাজ হলনা। শেষ পর্যন্ত কিছু খেজুর, তরমুজ ও খিরা কিনে নিয়ে তারা মসজিদে ফিরে এলেন। আমাদের অবস্থা “পড়েছি মোগলের হাতে খানা খেতে হবে সাথে।”
এখানে অবস্থানকালীন তিনদিন তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু হল না। গান্তের দাওয়াত বলতে প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাদ খাওয়ার আসর এবং এক ঘরে সর্বোচ্চ পনর জন পেলাম। একটা খেলার মাঠে প্রায় বিশ/পঁচিশ জন ছেলে ফুটবল খেলছিল। দু’দলের মধ্যে মনে হয় ম্যাচ খেলা চলছিল। মাঠের বাইরে থেকে দলিল (রাহবার) সালাম দিতেই রেফারী নিজেই দলবল নিয়ে খেলা বন্ধ করে আমাদের কাছে চলে এলেন। দাওয়াতের কথা পুরা সময় সবাই চুপচাপ শুনলেন। তারপর আমরা মসজিদে চলে এলাম, খেলা আবার শুরু হল।
আগামীকাল মসজিদে দায়ারে জাবাল যাব। হঠাৎ রাত তিনটার সময় আমাদের পরবর্তী মসজিদে লিফট দেবার জন্য একটা টয়োটা পিকআপ মসজিদের সম্মুখে এসে পার্ক করল। সম্মুখে তিন জন মাঝে চার জন বসা যায়। পেছনের খোলা অংশে মাল সামানা থাকবে। সকালে নাস্তার পর বালিয়ারীর সমুদ্র পেছনে ফেলে ঐ গাড়ীতে রওয়ানা হলাম। বার দিন পর এই প্রথম পাকা রাস্তায় এলাম। সবাই খুশি। কিন্তু না, একজন পথ প্রদর্শক তুলে নিয়ে পাকা রাস্তা ছেড়ে বাঁয়ে ঘুরে আবার সেই মরু পথে। তবে নূতন এই এলাকার জমি প্রায়ই সমতল। বালির মধ্যে মাটির মিশেল টের পাওয়া যাচ্ছে। তিন/চার মাইল যাওয়ার পরই চারদিকে বাবলা জাতীয় গাছের বন চোখে পড়তে লাগল। এদিকে ক্ষেতও আছে। জোয়ারীর গাছগুলো দেখে ভুট্টা গাছের মতো তাজা ও সতেজ মনে হচ্ছিল। এতদিন যে দুই/চারটা বাড়ীতে পোষা প্রাণী দেখেছি সেগুলো ছিল মূলত দুম্বা, দুই একটা ছাগল কচিৎ দেখেছি। তাও দিন-রাত্রি খোয়ারে বন্ধ অবস্থায়। এখানে বাবলা ও বাবলা জাতীয় বনে ছাগলের ছড়াছড়ি। ছোট্ট কোন মেয়ে অথবা ছেলে ছাগলের এক পাল যার অধিকাংশই বকরী সঙ্গে দুই একটা দুম্বা নিয়ে বনের মাঝে চড়াচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতেই চারিদিকেই কাঁটা গাছের দুর্ভেদ্য বেড়া। এ পর্যন্ত আমরা কোন শেয়ালের ডাক শুনতে পাইনি, তবে শিয়াল কেন,
