ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

হবে এবং কোথায় কিভাবে কি করতে হবে জিজ্ঞেস করে সবই শুনলেন। হঠাৎ করে প্রশ্ন করলেন, বাংলাদেশে কাদ কোথায় এবং কেমন পরিমান পাওয়া যায়? এমন প্রশ্নের সম্মুখিন হব তা ধারণার মধ্যে ছিলনা। তবু সত্যি কথা বললাম যে, বাংলাদেশে কাদ এখনও পাওয়া যায় না। শুনে উনারা যেন চুপসে গেলেন। বলেই বসলেন, কাদ না পাওয়া গেলে আমরা এতদিন থাকব কিভাবে। আসলে অভ্যাস বড় কঠিন জিনিষ। আমাদের সাথীদের মধ্যেও দুই সাথী পান জর্দায় আসক্ত। বাংলাদেশ থেকে যে পান তারা এনেছিলেন তার বেশির ভাগই হুদাইদার এজতেমায় যাওয়ার সময় ভাল করে পলিথিনে প্যাক করে সানা মার্কাজেই রেখে গিয়েছিলেন যেন গরমে নষ্ট না হয়। কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন, সব পান একদমই পচে গলে গেছে। ফলে কানাবেজ এ আসার সময় তারা খুব চেষ্টা করলেন পান শুপারি সংগ্রহের। শেষ পর্যন্ত মোটর সাইকেলের এক চালক তথ্য দিল, অনেক দূরে এক জায়গায় পান পাওয়া যাবে। ঐ মোটর সাইকেল নিয়ে প্রায় ঘন্টা দেড়েকের চেষ্টায় তারা পান শুপারি পেলেন। একশটা পান চারশ রিয়েল, শুপারি প্রায় এক পোয়া তিনশ রিয়েল এবং ভাড়া ৩০০/- রিয়েল (তিনশত) একুনে ১,০০০/-(এক হাজার) ইয়েমেনি রিয়েল। তাতে কি? পান তো পাওয়া গেছে। খুশি হয়ে নিজেরা খেলেন, মেহমানকে দিলেন, ফলে দুই দিন পর পান প্রায় শেষ। এখন কি হবে? বাধ্য হয়ে গোটা পানের বদলে অর্ধেক পরে তারও অর্ধেক অবশেষে সপ্তাহান্তে পানের হাহাকার। চারদিকে অনেক চেষ্টা করেও পান না পেয়ে শেষে শুপারি ও জর্দা খেয়ে খেয়ে সময় পার করেছেন। মন খুব খারাপ। যাহোক সে কথা মনে করে উনাকে বললাম, আমাদের দেশে কেউ এখনও কাদ চেনে না, ফলে সফরে যাওয়ার সময় ব্যাগে বেশি করে কাদ নিয়ে গেলে হয়ত কিছুদিন চলতে পারে। এবার তারা একটু খুশি হয়ে বললেন, তাহলে আমরা তোমাদের দেশে এক মাসের জন্য যাব। আমি তাদেরকে জানালাম যে, এলাকার জিম্মাদার সাথী ভাই আলী হাসান নাজ্জারী প্রত্যেক দিনই আসেন। সুতরাং আমরা তাকেই সব বলে যাব যেন তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। পরের দিনই হাসান ভাই এলে তাকে আহমদ সাহেবের বিষয়টি জানিয়ে দিলাম। ঐ দিন দুপুরেও একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল। ছেলেরা এসে ধরল তারা মেহমানদের গাধায় এবং উটের পিঠে উঠাবে। ওদেরকে খুশি করতে মওলানা মিজান, হাজী রঞ্জু ও সাইফুল ভাই ওদের সঙ্গে গেলেন। অবশ্য গাধার পিঠে কেউ না উঠলেও উটের পিঠে উঠে হাজী রঞ্জ পড়ে গেলেন এবং খানিকটা হাসির খোরাক যোগালেন। আসলে রঞ্জু হাজীর ভেতরে একটা চমৎকার শিশু সবসময় ঘুমিয়ে থাকে। বাচ্চাদের সঙ্গে উনার ভাব হয় খুব জলদি এবং সাইফুল ভাইকে নিয়ে উনার সারাদিনের খুনসুটি আমাদের অনেক সময়ই বিমলানন্দ দেয় এবং মজাই লাগে।

« <
/ 114
> »