ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

নজর কাড়ার মতো। কিছুক্ষণ পরপর কেউ এসে জিয়ারা (গাস্ত) করার জন্য ডাকে। মসজিদের সামনেই একটা ল্যান্ড রোভার গাড়ী দাঁড়িয়ে ছিল, মালিক ভদ্রলোক সৌদি আরবে চাকরী করেন নাম ইয়াছিন। প্রথম দিন তার কাছে কথা বলতে গিয়ে কোন পাত্তাই পেলাম না। তিনি এসব একদম পছন্দ করেন না এবং তার কোনই সময় নাই এ রকম বলে পত্র পাঠ বিদায় করলেন। বলতে ভুলে গেছি ইয়েমেনের সব মসজিদেই আযান, একামত ও নামায সবই মাইকে হয়। সুতরাং বাদ মাগরিব বয়ান অন্য মসজিদের মতো এখানেও মাইকেই হল। দ্বিতীয় দিনে তিনি বাদ মাগরিব কিছু সময় বয়ানে বসলেন। তৃতীয় দিনে বাদ এশা খুছুছি গাস্তে আবার তার কাছে গেলাম। কিছু কথা বললেন এবং বয়ান শুনেছেন তাও বললেন। সকালেও বসবেন বলে কথা দিলেন। সকালের যাত্রায় মোহাম্মদ আলী বুন ভাই তার গাড়ীতে আমাদের লিফট দেবেন কথা ছিল কিন্তু ইয়াছিন সাহেব আমাদের নাস্তার মধ্যেই এসে হাজির। তিনি আমাদের তার গাড়ীতে লিফট দিতে চান। আমির সাহেব জানিয়ে দিলেন আমাদের জন্য গাড়ী আসবে একটু পরেই। তিনি নাস্তা করতে যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু আমির সাহেবের কথা শুনেই মত পাল্টিয়ে বললেন যে, নাস্তা তিনি ফিরে এসে করবেন কিন্তু তিনিই আমাদের লিফট দেবেন। এই বলে নিজেই গাড়ী গেটে এনে দাঁড় করালেন। স্থানীয় সাথীদের সঙ্গে পরামর্শ করে শেষ পর্যন্ত এই গাড়ীতে যাওয়াই ঠিক করা হল। মাল সামানা তিনি নিজেই গাড়ীতে গুছিয়ে রাখলেন এবং আমাদের নিয়ে বালিয়ারীর মরু পথ পাড়ি দিতে লাগলেন। বেডফোর্ড ফোরহুইল ড্রাইভ বড় জীপ গাড়ী। মক্কা থেকে তার বাড়ি ১০০০ কি. মি. হলেও তিনি মাত্র দশ ঘন্টায় মক্কা থেকে বাড়ী আসেন। বিশেষ ধরনের চওড়া চাকার গাড়ী। বালুর মধ্যে এবং রাস্তায় জার্কিং হয় না। চাকা বালুতে দাবিয়ে এবং বিভিন্নভাবেই তিনি পথেই তার গাড়ীর কিছু তেলেসমাতি দেখালেন। সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ী দশ বৎসর আগে ৯,০০,০০০/-(নয় লক্ষ) টাকায় কিনেছেন। দেখে এখনও নতুন বলে মনে হয়। কোথায়ও পুরাতনের কোন চিহ্ন পর্যন্ত পড়েনি- এতই সুন্দর। সুযোগ পেলেই দাওয়াতের মেহনত-এ সময় লাগাবেন বলে কথা দিলেন এবং পরবর্তীতে বাড়ী এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। পথ ছিল বেশ দীর্ঘ। বিভিন্ন গল্পের এক পর্যায়ে আমাদের ওমরা করার আকাঙ্খার কথা তিনি শুনলেন। নিজে থেকেই বললেন, আমাদের অনুমতি মিললে এবং যাওয়ার তারিখ জানালেই তিনি নিজে এসে আমাদেরকে ওমরা করতে নিয়ে যাবেন। মসজিদে পৌঁছে দিয়ে তারপর একসময় তিনি নিজ বাড়ীতে ফিরে গেলেন।
ওখানে তাশকিলের সবচেয়ে মজার ঘটনার কথাও বলা মনে হয় প্রাসঙ্গিক হবে। বিকালে উমুমী গাস্তে যেয়ে দেখলাম, নিচের দিকে কিছুটা প্রায় সমভূমির মতো এলাকায় নূতন একটা আবাসিক এলাকা তৈরি হচ্ছে। প্রায় একশতবিশ

« <
/ 114
> »