অবাক ঘটনা ঘটে যখন মহিষটি জবাই করা হয়। তিনি ক্লান্ত হয়ে ঘরে এসে শুয়েছেন আর বাইরে মহিষ জবাই করার হৈ চৈ হচ্ছে। মহিষটা জবাই করার সঙ্গে সঙ্গে তার পেটের মধ্যে খুব জোরে মোচর দিয়ে উঠল এবং প্রচন্ড শব্দে পেটের বাতাস বের হয়ে গেল। তারপর থেকে তিনি মোটামুটি সুস্থ।
আমরা সবাই অবাক বিস্ময়ে তার মুখে ঘটনার কথা শুনছিলাম। প্রথম যখন কাকরাইলে আসি তখন তার কাছে প্রচুর ঔষধ ছিল। পেটটা তখনও উঁচা এবং উপর পেটের উপরে লুঙ্গি ঢিলে করে পড়তেন। খেয়াল করে দেখলাম, পেট এখন প্রায় স্বাভাবিক এবং কিছুটা হালকাভাবে হলেও লুঙ্গি স্বাভাবিকভাবে পড়ে আছেন। অনেকদিন হল আমাদের সঙ্গে সব ধরনের খাবারই খাচ্ছেন। ব্যাগ খুলে ঔষধ বের করে দেখালেন। মনে পড়ল প্রথম প্রথম তাকে অনেক ঔষধ সত্যিই খেতে দেখেছি এবং ইদানিং কোন সময়ই তাকে ঔষধ খেতে দেখিনা কিন্তু তারপরও এটা রহস্য গল্প না ভৌতিক না আলৌকিক তা নিয়ে সংশয় কাটল না।
আমাদের এবারের গন্তব্য সামালী দ্বারে ফাহাম মসজিদ। সকালের নাস্তা শেষ করেই “দুর্গম গীরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার” এর জন্য আমরা তৈরি। বাহনও এসে হাজির। সুতরাং মরুর ধুলা উড়িয়ে “কারাঙাঁর” যাত্রা হল শুরু।
সামালিতে আমাদের মসজিদ এর সঙ্গেই একটা মরু টিলা। একটু বাতাস হলেই বালু এসে মসজিদ ভরিয়ে দেয়। সুতরাং ঐ দিকের জানালা প্রায় সময় বন্ধ রাখতে হয়। বালিয়ারী বলতে যা বোঝায় একদম সেই রকম। উঁচু নিচু বালুর বিস্তার। তার মধ্যে এখানে ওখানে মাঝে মধ্যে ছিটানো বাড়ীঘর- দুই একটা গাছ। স্থানীয় সাথী মোঃ ইয়াহহিয়া ভাই মসজিদেই ছিলেন। খুবই পরিশ্রমী ও কোরবানী করা সাথী, মাস্তুরাতসহ চিল্লাও দিয়েছেন। দিন রাত দুই ছেলেসহ আমাদের খেদমতে, খাওয়ারও ব্যবস্থা তার বাড়ীতেই। আমরা নিজেরা কোন ভাবেই তাদের নিবৃত্ত করতে পারলাম না। এলাকার পুরা জামাত একমত হয়ে তাকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং উনি সেই কাজ নিয়ে শ্রম দিচ্ছেন হাসিমুখে।
এর আগের দুটো গ্রামে পাখি প্রায় দেখিনি দুই একটা চড়ুই পাখি ছাড়া। এখানে কিছু পাখি দেখলাম। এমন কি বিভিন্ন রকম ঘুঘুও। প্রায় পঞ্চাশ/যাট হাত দূরে চারটা গাধা বাঁধা। তার মধ্যে একটা মর্দা গাধা কিছুক্ষণ পরপরই ডেকে উঠছে। রাত্রেও বিরাম নাই। পিঠের উপর জিন (?) সবসময় দেওয়াই আছে। এখানে মুরুব্বীরা ছাড়া দশ পনরটি ছোটবড় ছেলে প্রায় সবসময়ই আমাদের সঙ্গ দিল। সুতরাং একটু পরপরই কেউ না কেউ এসে ভুল ইংরেজীতে আমার কাছে কিছু জানতে বা বলতে চাইত। সম্ভবতঃ ইংরেজী বলতে পারে সেই কৃতিত্ব প্রকাশের কসরত। যা হোক আব্দুল আজিজ বলে আরো একটা দশ/এগার বৎসরের ছেলে সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকে। ছয় পারার হাফেজ। এমনকি রাত্রেও বিছানা নিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকল। মানুষের উপস্থিতি প্রতিটা বয়ানেই
