ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

বরং অন্যরকম ভাবে। গোটা ভূড়িটার চিকন নারী উল্টিয়ে পরিস্কার করে কিছু মোটা ভুড়ির সঙ্গে দড়ি পেঁচানোর মতো পেঁচিয়ে সেটাকে আগুনে হালকা করে ভাজা হয়েছে। মরিচ এরা খায়না শুধু হালকা একটু নোনতা স্বাদ। এমনকি মচমচেও না। দুম্বার গন্ধ কিছুটা থেকেই গেছে। এই কথা থেকে প্রাসঙ্গিকভাবে হঠাৎ করেই মনির ভাইয়ের মোষ মেরে গ্রামবাসীকে খাওয়ানোর প্রসঙ্গ উঠে পড়ল। আমরা অনেক ঠাট্টা করলাম। তিনি অন্য সময়ের মতো হাসি মুখেই শুনছিলেন। কি মনে হল, জানতে চাইলাম সত্যিকার কোন কারণে তিনি এ কাজ করেছিলেন। উত্তরে যা বললেন তা অবিশ্বাস্য।
১৯৯৯ সালে হজে যাওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ করে তার মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। মায়ের সেবা যত্ন সবকিছু মুনির ভাইকেই করতে হত। তিনি নিজেও সে সময় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পাবনা ও ঢাকায় বহু ডাক্তারকে দিয়ে চিকিৎসা করান। পাবনার এক ডাক্তার তাকে বলেছিলেন তার পেটের পিত্ত নালীতে পাথর হয়েছে সেজন্যই সবসময় ঢোলের মতো তার পেট ফুলে থাকে এবং স্বাভাবিক প্রস্রাব হয় না। বহুবার বিভিন্ন টেস্ট করা হয়েছে কিন্তু প্রকৃত রোগ কেউ ধরতে পারেনি। ২০০০ সালের প্রথম দিকে একরাতে তার অবস্থা এতই খারাপ হয় যে তিনি মারা যাচ্ছেন মনে করে বিভিন্ন মসজিদ ও মার্কাজে বিশেষ দোওয়া করা হয়। শেষ আশা মনে করে ঐ অবস্থায় ছেলে এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে আবার ঢাকা বারডেমে নিয়ে যায়। যে কোন কারণেই হোক ভর্তি হতে খুব দেরী হচ্ছিল। ছেলে রাগ করে অন্য এক আত্মীয়ের পরামর্শে তাকে পপুলার হসপিটালে নিয়ে যান। সেখানের একজন ডাক্তার বুঝলেন যে, পাথর পিত্ত থলিতে নয় বরং পিত্ত থলির নাড়ীর মধ্যে হয়েছে। মুখের মধ্যে পাইপের মতো যন্ত্রপাতি ঢুকিয়ে তিনি নালীর মধ্য থেকে পিত্ত থলির পাথর ভেঙ্গে বের করে আনেন এবং মুনির ভাই ভাল হয়ে এক মাস পর বাড়ী ফিরে আসেন। কিন্তু এক বৎসর পর আবার তার পূর্বের অবস্থা ফিরে আসে এবং তিনি আবারও ঢাকায় যেয়ে পিত্ত পাথর ভাঙ্গিয়ে আনেন। কিন্তু তারপরও তার পেট প্রায় সব সময়ই ফুলে থাকত এবং দৈনিক একগাদা ঔষুধ খেতে হত। পেটের উপর কোন কাপড় রাখতে পারতেন না। পাবনা মার্কাজে আসাও অনিয়মিত এবং বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খুবই সামান্য কিছু পাতলা খাবার অনেক মেনে বেছে খেতে হত। অসুখ শুরুর প্রথম দিকেই তিনি একদিন স্বপ্নে দুইটা মহিষ দেখেন। একটা আরেকটাকে বলছিল, আমাদের সাদকা করে দিলেই তিনি ভাল হয়ে যাবেন। এদিকে ইয়েমেনের সফর তখন সম্ভবতঃ আর হবেনা এমন পর্যায়ে চলে গেছে। সোয়াদ হবার প্রায় বছর ঘুরে আসছে। হঠাৎ তার ঐ স্বপ্নের কথা মনে পড়ে। তিনি তখন এই সফরের জন্য গচ্ছিত টাকা দিয়ে একটা বড় দেখে মহিষ কিনে সাদকা করার এবং গ্রামের সাধারণ মানুষদের খাওয়ানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সবচেয়ে

« <
/ 114
> »