ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

সাইফুল ভাই এর চোখের সমস্যা আছে তা জানতাম, কিন্তু তা যে এত বেশি সে সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না। হাত ধরে বাইরে নিয়ে এলাম। বললেন, আজকে প্রথম রাত তো, পরে সব কিছু মুখস্ত করে নেব, তখন আর অসুবিধা হবে না। তিনি হাফিজ ভাই হিসাবে বেশি পরিচিত। আমরা সমবয়সী, তিনি এককালে ভালো ফুটবল খেলতেন। পাকিস্তান-এর যুদ্ধকালীন সময়ে করাচীর বন্দি শিবিরে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছেন। খুবই ভাল মানুষ। তাকে নিয়ে অনেক সময়ই হাসি ঠাট্টা করা হয়। কিন্তু তিনি যে এত অসহায় তা কাউকে বুঝতেও দেননি। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আল্লাহ পাক তো আমাকেও এ রকম অসহায় করে দিতে পারতেন। সে ক্ষেত্রে কি আমি এত মুজাহাদা করে এ রকম একটা কষ্টকর মুরুভূমির দেশে সফরে আসতে পারতাম? তার জন্য মনের ভেতর থেকে এমনিতেই দোয়া বেরিয়ে এল। হাফিজ ভাইয়ের চোখের মনির উপর লেন্স সেট করা আছে তারপরেও চোখে পাওয়ারের চশমা পড়েন। তাও এই অবস্থা। আল্লাহ তাকে সুস্থ্য হতে সাহায্য করুন। আমিন।
দ্বিতীয় দিনও আমাদের দৈনন্দিন এজতেমায়ী আমল স্বাভাবিক ভাবেই চলল। আজকেও গান্তে যেয়ে বিরাট একটা রেলওয়ে স্টেশনের সমান ঘরে এক দল মানুষ পেলাম যারা কাদ খাচ্ছে। সবচেয়ে অবাক লাগছে, যেদিন যেদিকেই গাস্তে যাচ্ছি কমপক্ষে একটা বড় বাড়ী বা ঘর পাওয়া যাচ্ছে যেখানে অসংকোচে বড়লোক মধ্যবিত্ত সকলেই কাদের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। এত টাকা এরা পায় কোথায়? চলেই বা কি করে? এই দুই মসজিদেই বয়স্ক ও শিশুদের প্রচুর উপস্থিতি আছে। বুন ভাই জানালেন, ১২% রোজগার হয় জমি থেকে। বাঁকী রোজগারের জন্য লোকেরা কেউ গাড়ী ভাড়া খাটায় এবং বেশির ভাগই সৌদি আরবে চাকুরী করে। ওদের টাকায় এদেশে ওদের আত্মীয় স্বজনদের সংসার চলে। এ জন্যই সকালে, বরং বলা ভাল খুব ভোরে, কাল বোরখা ও তাল পাতার তৈরি একধরনের হ্যাট (আমাদের গ্রামের মাথ্যাইল এর মত) মাথায় দিয়ে মেয়েরা জমির দিকে যায় এবং মাগরেবের কিছু আগে কাঁধের ঝুড়িতে করে ফসল (?) নিয়ে ঘরে ফিরে। এই মরুসদৃশ গাছ পালাহীন বিরান ভূমিতে ওরা দুপুরে খায় কোথায় এবং পানি কোথায় পায়? কোন একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই আছে যা আমি দেখিনি।
কাল সকালে অন্য মসজিদে যেতে হবে। রাতের মোজাকারা শেষে যে সামান্য গুছানোর কাজ ছিল তা শেষ করে মশারী টাঙ্গানোর যোগার করছি হঠাৎ করে দুপুরের খাওয়ার বিষয়টা প্রাসঙ্গিক গল্পের মধ্যে উঠে এল। দুপুরে আজ অন্য এক বাড়ীতে দাওয়াত ছিল। তিনি একটা দুম্বা যবেহ করেছিলেন। সঙ্গে আরো মেহমানও কিছু ছিল। মুরগীর সুপ ছাড়াও বোরহানীর মতো একবাটি সুরুয়া খেলাম। দুম্বার রান্না করা ভূড়িও খেলাম, তবে আমাদের দেশের মতো নয়

« <
/ 114
> »