ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

দেওয়ালই প্রচুর ব্যবহারিক জিনিষ দিয়ে সাজানো। আগাগোড়া বেশ কয়েকটি তাক করে ঘরটি বানানো। চিনেমাটির বাটি, গ্লাস, ফ্লাক্স, ফুলদানী, আয়না, এলোমিনিয়ামের বড় খালা এ রকম বহু কিছু দিয়ে ঘর সাজানো। নিচের চারদিকে দেওয়াল সংলগ্ন মেঝে ছয় ইঞ্চি উঁচা করে গাঁথা যার উপর আটটা খাটলা বালিস দিয়ে সাজানো। আমাদের রুচিতে হয়ত এ ধরনের গৃহস্থালি জিনিষ দিয়ে সাজানো প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে কিন্তু তাদের চোখে এটা অবশ্যই সুন্দর এবং রুচিশীলও বটে। খাটলায় বসে আরেক দফা চা খাওয়া হল। সঙ্গে মালটা ও তরমুজ। তারপর মসজিদে ফিরে আসছি এ সময় হঠাৎ মাথার উপরে কয়েকটা পটকা ফুটলো। আমাদের দেশে বাঁশের চলটার সঙ্গে বেঁধে হাওয়াই পটকা উপরে উঠিয়ে ফাটানো হয়। এখানে সে রকম না। কেমন করে যেন উপরে উঠে ফেটে যাচ্ছে এবং কয়েক রং এর ছোট ছোট হালকা আলোর ফুলকি দেখা যাচ্ছে। প্রাচীরের ভেতরে জন্য কিছু দেখা গেল না। স্থানীয় সাথীকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই ব্যাপার কি? উনি জানালেন ঐ বাড়ীতে আজকে বিয়ে হচ্ছে। নামাযের পরে বেশ কিছু মহিলা মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে পাশের ঐ বাড়িটাতে ঢুকলেন- পরে বের হয়েও এলেন। প্রাচীরের এপার থেকে আমরা কোন রকম হৈ চৈ তো দূরের কথা কোন কথাও শুনতে পেলাম না। না বললে বুঝতেও পারতাম না ঐ বাড়ীতে বিয়ের মতো সামাজিক একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। ছেলের বিয়ে না মেয়ের বিয়ে বোঝা মুশকিল। তবে বরযাত্রী আসলে যে রকম বিশৃঙ্খলা হয় সে রকম কিছু হল না জন্য ধরে নিলাম ছেলেই বোধ হয় বিয়ে করতে গেল। অথবা বিয়ে করে ফিরে এল। রাত প্রায় তিনটার দিকে উঠে দেখলাম সাত/আটটা গাড়ী মসজিদের চারদিকে পার্ক করে রাখা হয়েছে। ফজরের নামাযের পর কয়েকটা গাড়ী চলে গেল। এই মসজিদটি অনেক পুরাতন। প্রায় পোনে তিন হাত চওড়া দেওয়াল। মাথার উপরে পুরানো আমলের দুইটা গোলাকার ঘোরানো গম্বুজ। একই নিয়মে চতুস্কোন দেওয়ালকে চারদিক থেকে ক্রমান্বয়ে ছোট করে এনে গোল করা হয়েছে। সঙ্গে লাগোয়া অজুর ঘরের কিছু অংশ ভাঙ্গা। সেখানে প্রাচীন বাংলা ইট দাঁত বের করে আছে। দেওয়াল ইটের না পাথরের তা উপরের পলেস্তরার জন্য দেখা গেল না। তার সঙ্গে কংক্রিটের পিলার যোগ দিয়ে মসজিদকে অনেক বড় করা হয়েছে। পাশে আরো একটা ঘর ডানদিকে পেছনে বানানো হয়েছে। জুমার নামাযে তো মনে হল দুই তিন শত মানুষ নামায পড়ল।
ঐ রাত্রে যে ঘটনা ঘটল তাতে বেশ ভয় পেলাম। প্রায় তিনটার কিছু পরে অজু করে ঘরে ঢুকছি, দেখি সাইফুল ভাই অন্ধের মতো হাত সামনে বাড়িয়ে দিয়ে ঘরের মধ্য থেকে বাইরে যাবার রাস্তা খুঁজছেন। হাতের হারিকেন এগিয়ে দিলাম। তিনি না- না করে উঠলেন। চোখে আলো পড়লে দেখতে সমস্যা হয়।

« <
/ 114
> »